মো. বেলাল হোসাইন, জুড়ী:

০৫ অক্টোবর, ২০২১ ১৮:৪২

জুড়ীতে আওয়ামী লীগে ‘যোগ্য’ প্রার্থী সংকট

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন

সরকার ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার ৫ টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন। মামলা সংক্রান্ত জটিলতার কারনে দুই বছর আগে ফুলতলা ইউনিয়নের নির্বাচন হওয়ার কারনে এ ইউনিয়ন বাদে জায়ফর গর, পশ্চিম জুড়ী, পূর্বজুড়ী, গোয়ালবাড়ী, সাগরনালের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

এরই মধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীরা প্রচারণা শুরু করে দিয়েছেন। আর আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থীরা দলীয় মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন।

বিএনপি ভোটে না আসার ঘোষণার কারনে বর্তমানে তাদের দলীয় দুই চেয়ারম্যান স্বতন্ত্র হয়ে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন।

অপরদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ঘোষণা অনুযায়ী গতবারের বিদ্রোহী প্রার্থীরা এ বছর দলীয় প্রতীক পাবেন না। দলের এমন ঘোষণায় বিপাকে পড়েছেন অনেক হেভিওয়েট প্রার্থী। দল এই সিদ্ধান্তে অটল থাকলে অনেক ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সঙ্কট দেখা দিতে পারে।

গত শনিবার মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নেছার আহমদ এমপি ও সাধারণ সম্পাদক মিছবাহুর রহমান জুড়ীতে এসে দলীয় মনোনয়নের জন্য প্রার্থী বাছাই নিয়ে মতবিনিময় করেছেন। প্রতি ইউনিয়ন থেকে ৩ জনের নাম তারা কেন্দ্রে প্রেরণ করবেন বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে।

জানা যায়, উপজেলার পূর্বজুড়ী ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান সালেহ উদ্দিন আহমদ বিএনপি থেকে এসে গত নির্বাচনে নৌকা পেয়ে জয়ী হন। সেখানে বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মইনুল ইসলাম মঈন। দলের ঘোষণা মতে, একজন বিদ্রোহী অপরজন অন্য দল থেকে আসার কারণে সেখানে বিকল্প তেমন প্রার্থী নেই। নতুন করে প্রার্থিতা ঘোষণা করেছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল কাদির ও মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়ছল আহমদ।

এছাড়াও দলীয় মনোনয়নের জন্য আবেদন করেছেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিনের ভাতিজা ওবায়দুর রহমান রুহেল৷

এই ইউনিয়নে গত নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মতিউর রহসান চুনু।এবারও তিনি স্বতন্ত্র নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন।

উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সদর জায়ফরনগর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা হাজী মাছুম রেজা। এলাকায় রয়েছে ভোটব্যাংক। বিদ্রোহী, স্বতন্ত্রসহ আওয়ামী লীগের ৩ জন প্রার্থী থাকার কারনে গত নির্বাচনে অনায়াসে জয় লাভ করেন তিনি। দলের প্রতীক না পেলে এবার তিনি স্বতন্ত্র হয়ে নির্বাচন করবেন বলে জানা গেছে।

এই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন গত নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস ছালামের ভাতিজা রফিকুল ইসলাম অফিকুল, উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা আহবায়ক, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান প্রয়াত আব্দুল খালিকের পুত্র জায়েদ আনোয়ার চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক আহমদ ফয়ছল নাহিদ। এদের মধ্যে রফিকুল ইসলাম অফিকুল গত নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন।

পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শ্রীকান্ত দাসের পাশাপাশি নৌকার দাবিদার সাবেক এমপি, প্রয়াত তৈমুছ আলীর ছেলে ও বর্তমান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জুবের হাসান জেবলু এবং গত নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আনফর আলী। এছাড়াও উপজেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান কিশোর রায় চৌধুরী মনি নৌকা নিয়ে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন।

এ ইউনিয়নে বিএনপির দলীয় কোনো প্রার্থী এখন পর্যন্ত প্রার্থিতা ঘোষণা করেন নি। তবে উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মইন উদ্দীন মইজনের ছেলে মামুনুর রশীদ স্বতন্ত্র হয়ে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। সাগরনাল ইউনিয়নের বর্তমান বিএনপি দলীয় চেয়ারম্যান লিয়াকত আহমদ এবার স্বতন্ত্র হয়ে নির্বাচন করবেন বলে জানা গেছে।

এ ইউনিয়নেও আওয়ামী লীগের প্রার্থী সংকট। গত নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী আমিনুল ইসলাম চৌধুরী এ বছর নির্বাচন না করার ঘোষণা দিয়েছেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর নুর মাষ্টার। এলাকায় জনিপ্রয়তা থাকলেও শারীরিকভাবে তিনি অসুস্থ।

তিনি ছাড়া নৌকার মনোনয়নপত্র কিনেছেন উপজেলা ওলামালীগের সভাপতি রুস্তম আলী ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা এখলাছুর রহমান।

গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের একমাত্র নৌকার দাবিদার বর্তমান ৪বারের চেয়ারম্যান শাহাব উদ্দিন আহমদ লেমন। সেখানে তিনি ছাড়া আর নৌকা মনোনয়ন চাওয়ার কোন প্রার্থী নাই।অপরদিকে গত নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মোস্তাক খান ও আব্দুল কাইয়ূম স্বতন্ত্র হয়ে নির্বাচন করবেন বলে গুন্জন শোনা যাচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, সাধারণ মানুষের চেয়ে নেতাদের তেলবাজি রাজনীতির কারনে সব ইউনিয়নে যোগ্য প্রার্থীর সংকট দেখা দিয়েছে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাসুক আহমদ বলেন, যারা নৌকা চাইছেন বিদ্রোহী ছাড়া তিনজনের নাম জেলা নেতৃবৃন্দ নিয়েছেন। যোগ্য প্রার্থীর বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, যারা চাইছে তাদের নাম দেওয়া হইছে, এর বাহিরে কিছু নেই।

উপজেলার ৫ টি ইউনিয়নের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১৭ অক্টোবর। মনোনয়ন যাচাই বাছাই ২০ অক্টোবর, প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৬ অক্টোবর এবং নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ১১ নভেম্বর।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত