সিলেটটুডে ডেস্ক:

০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ২২:৩৫

দ্বিকক্ষ সংসদ হলে রাষ্ট্রের সব অঙ্গ স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করবে: বিএনপি

আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে কোনোভাবেই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। তাই গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের বিকল্প নেই। আন্দোলনের মাধ্যমেই ক্ষমতা থেকে সরানো হবে বর্তমান সরকারকে। এরপর সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে আন্দোলনকারী সবাইকে নিয়ে গঠন করা হবে জাতীয় সরকার। সংসদকে করা হবে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট। জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠন করে প্রতিষ্ঠা করা হবে সুশাসন।

গত বৃহস্পতিবার বিকেলে সিলেটে বিএনপির মিডিয়া সেলের মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন নেতারা। নগরীর দরগা গেট এলাকার একটি হোটেলে 'জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনে অবাধ, নিরপেক্ষ, নির্বাচনোত্তর একটি জাতীয় সরকার এবং দ্বিকক্ষ সংসদ অপরিহার্য' শীর্ষক এ মতবিনিময় সভা হয়।

এতে বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছরেও দেশে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন ও অগ্রগতি হয়নি। দেশে আজ গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা ও ভোটাধিকার নেই। তাই বিএনপি রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের বাইরে এ মতবিনিময়ের উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি বলেন, সবার সম্মিলিত আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে দেশে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা হবে, গঠন করা হবে জাতীয় সরকার। আমরা জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চাই।

সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আক্তারের সঞ্চালনায় সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য সচিব ও সাবেক সংসদ সদস্য শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী।

বক্তব্য দেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট এমদাদ উল্লাহ মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম শাহীন, সুজন সিলেট চ্যাপ্টারের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী, বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা এমপি, ড্যাবের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ডা. শামিমুর রহমান, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দল শিক্ষক পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. সাজেদুল করিম, ইউট্যাবের কেন্দ্রীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রকৌশলী ড. মোহাম্মদ ইকবাল, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) অধ্যাপক সিদ্দিকুর ইসলাম, সিলেট জেলা বারের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট এটিএম ফয়েজ, গণফোরামের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সিলেট জেলার সভাপতি অ্যাডভোকেট আনসার খান, বিএফইউজের একাংশের সভাপতি কাদের গণি চৌধুরী, ওসমানী মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যাপক ডা. শিব্বির আহমেদ শিবলী, সিকৃবির অধ্যাপক মোজাম্মেল হক প্রমুখ।

মূল প্রবন্ধে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী বলেন, দলীয় সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন কোনোভাবেই সম্ভব নয়। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের ভোট ডাকাতিতে এটি বিশ্ববাসীর কাছে সর্বজনস্বীকৃত সত্য।

রুমিন ফারহানা বলেন, গত ১০ বছরে দেশে সামাজিক মূল্যবোধ মারাত্মকভাবে হারিয়ে গেছে। এখন রাষ্ট্র মেরামত প্রয়োজন। বিএনপি বিশ্বাস করে- তাদের পক্ষে একা এ কাজটি করা সম্ভব নয়। এ জন্য বিএনপি একটি জাতীয় সরকার গঠন করার জন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ হলে রাষ্ট্রের সব অঙ্গ স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করতে পারবে।

কাদের গণি চৌধুরী বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও এ দেশের মানুষকে বাকস্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করতে হচ্ছে। নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়েছে সরকার।

মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ও ড. এনামুল হক চৌধুরী, সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল কাইয়ুম জালালি পংকী, সদস্য সচিব মিফতাহ্‌ সিদ্দিকী, জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম আহমদ প্রমুখ।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত