৩০ ডিসেম্বর, ২০১৫ ২৩:৩৭
সিলেট বিভাগে ১৬ পৌরসভার মধ্যে মাত্র ৩টিতে জিতেছে বিএনপি। সেই তিনটিই হবিগঞ্জ জেলায়। হবিগঞ্জের ৫ পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ হবিগঞ্জ সদর সহ ৩ পৌর শহরে জিতেছে ধানের শীষ প্রতীকের বিএনপি প্রার্থীরা। ঐতিহাসিকভাবে সিলেট বিভাগের মধ্যে হবিগঞ্জকেই ধরা হয় আওয়ামী লীগের প্রধান ঘাঁটি হিসেবে। এ জেলায় কখনই ভোটের মাঠে সুবিধা করতে না পারা বিএনপি দেশব্যাপী পৌর নির্বাচনে চরম ভরাডুবিতে মধ্যে বাঁচার মত অক্সিজেন পেল এখান থেকেই। আওয়ামী দুর্গে হানা দিয়েই সিলেট বিভাগে খালি হাতে থাকার লজ্জা থেকে রক্ষা পেল রাজনীতিতে কোণঠাসা হয়ে পড়া প্রধান বিরোধী শক্তি।
প্রধানত দলীয় কোন্দল, সঠিক প্রার্থী ঠিক করতে না পারা এবং বিদ্রোহী প্রার্থী সমস্যার সমাধান করতে না পারাতেই এই বিপর্যয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আওয়ামীলীগের তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করা নেতা কর্মীরা এই নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
হবিগঞ্জের প্রবাসী আওয়ামীলীগ নেতা সুশান্ত দাশগুপ্ত তার ফেসবুক পাতায় এই নিয়ে লিখেছেন
"হবিগঞ্জের মাটি নৌকার ঘাটি। এর প্রমাণ আমরা পেয়েছি ২০০১ এর জাতীয় নির্বাচনে। গোপালগঞ্জের পর একমাত্র আমাদের হবিগঞ্জেই সবগুলা আসনে আমরা নৌকা প্রতীকে বিজয়ী হয়েছিলাম। কিন্তু এই হবিগঞ্জেরই হবিগঞ্জ সদর, চুনারুঘাট ও নবীগঞ্জে জামায়াত-বিএনপি'র প্রার্থীরা মেয়রপদে নির্বাচিত হলো।
আমি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কাছে দাবী জানাচ্ছি, আমাদের হবিগঞ্জে কেনো বারবার স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে হেরে যাচ্ছি এর অন্তর্নিহিত কারণ খুজে বের করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান স্থায়ী শাস্তির ব্যবস্থা করার জন্য। এভাবে চলতে দেওয়া যায় না।
আমি মনে করি হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ তাদের দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ। অচিরেই জেলা কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে নতুনভাবে ঢেলে সাজানোর দাবীও রইলো।"
হবিগঞ্জে সদরে সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যা মামলায় আসামী কারাবন্দী বিএনপি নেতা গোলাম কিবরিয়া গউছ ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
গউছের প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা ১০ হাজার ৭৯৭। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মিজানুর রহমান মিজান পেয়েছেন ৯২৬৪ ভোট। এ পৌরসভায় আওয়ামীলীগের প্রার্থী আতাউর রহমান সেলিম নৌকা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৭৪০৩ ভোট।
এ পৌরসভায় আলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও দলীয় প্রার্থী মিলে ১৬৬৭ ভোট ভাগাভাগি করায় ১০ হাজার ভোট পেয়ে জিতে যান গউছ। যিনি এর আগেরবার একই কারণে জয়ী হয়েছিলেন। তবে হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামী থাকায় তিনি বহিষ্কৃত হয়েছিলেন এবার তাঁর ভাগ্যে কি হবে তা সময়েই বলে দিবে।
নবীগঞ্জে একক প্রার্থী দিয়েও ফল ঘরে তুলতে পারেনি আওয়ামীলীগ । নবীগঞ্জ পৌরসভায় মেয়র পদে বিএনপি’র প্রার্থী ছাবির আহমেদ চৌধুরী বিজয়ী হয়েছেন। তার প্রাপ্ত ভোট সংখ্যা ৫৬২১। এ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র অধ্যাপক তোফাজ্জল ইসলাম চৌধুরী পেয়েছেন ৩৭৭৩ ভোট। স্থানীয়রা মনে করছেন সঠিক প্রার্থী নির্বাচন করতে না পারা এবং দলীয় কোন্দল ঠেকাতে না পারাতেই এই ভরাডুবি।
চা বাগান বেষ্টিত চুনারুঘাট পৌরসভায় মেয়র পদে প্রার্থী ছিলেন মাত্র দু’জন। আওয়ামীলীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী সাইফুল আলম রুবেল ও বিএনপির মনোনীত মেয়র প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র নাজিম উদ্দিন।
মেয়র পদে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির মনোনীত মেয়র প্রার্থী বর্তমান মেয়র নাজিম উদ্দিন। তাঁর প্রাপ্ত ভোট ৪৭৩৯। এ পৌরসভায় আওয়ামীলীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী সাইফুল আলম রুবেল পেয়েছেন ৪৫৯২ ভোট। এই পৌরসভায় লড়াই হলেও শক্তভাবে সংগঠিত ছিল না আওয়ামীলীগ। স্থানীয় কর্মীরা অভিযোগ করেছেন নেতাদের গা ছাড়া ভাবের কারনেই এই ফল।
হবিগঞ্জে যে দুটি পৌরসভায় আওয়ামীলীগ জিতেছে তার একটি মাধবপুর। হিন্দু অধ্যুষিত এই পৌরসভায় আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী হিরেন্দ্র লাল সাহা নির্বাচিত হয়েছেন। চূড়ান্ত ভোট গণনা শেষে আওয়ামীলীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী হিরেন্দ্র লাল সাহা পেয়েছেন ৫ হাজার ৭ শ ৩৩ ভোট । তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হাবিবুর রহমান মানিক ধানের শীষ প্রতিকে পেয়েছেন ৪ হাজার ৯ শ ৪৮ ভোট।
আর শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ছালেক মিয়া ৩ হাজার ৯শ ৭৩ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে এফ এম অলি পান ৩ হাজার ৮শ ৯০ ভোট।
আপনার মন্তব্য