২০ মার্চ, ২০২৩ ২১:৪৫
বিজ্ঞান লেখক ও ব্লগার অনন্ত বিজয় দাশ হত্যা মামলায় রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিলের জন্য জেলা প্রশাসক বরাবারে আবেদন জানিয়েছেন সিলেট সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর মুমিনুর রহমান টিটু। রাষ্ট্রপক্ষ বাদী হয়ে এই আপিল করার জন্য জেলা প্রশাসককে লিখিত আবেদন দেন টিটু।
সোমবার দুপুরে লিখিত আবেদন প্রদানকালে সিলেটের সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ ও অনন্ত বিজয় দাশের ভগ্নিপতি সমর বিজয় শী শেখর উপস্থিত ছিলেন। জেলা প্রশাসকের পক্ষে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইমরুল হাসান আবেদনটি গ্রহণ করেন।
গতবছরের ৩০ মার্চ অনন্ত বিজয় দাশ হত্যা মামলার রায় প্রদান করেন সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইবুনালের বিচারক নুরুল আমীন বিপ্লব। রায়ে ৪ জনকে মৃত্যুদন্ড মৃত্যুদন্ড প্রদান করা হয় এবং ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
তবে মামলার আরেক আসামি নগরের রিকাবীবাজার এলাকার সাফিউর রহমান ফারাবী ওরফে ফারাবী সাফিউর রহমানকে খালাস প্রদান করা হয়। ফারাবী ব্লগার অভিজিৎ রায় হত্যা মামলার দণ্ডিত আসামি।
ফারাবিকে খালাস প্রদান তার শাস্তি চেয়ে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে উচ্চ আদালতে আপিল করার জন্য সোমবার এ আবেদন দেন আইনজীবী মুমিনুর রহমান।
লিখিত আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন- ট্রাইব্যুনাল প্রসিকিউশন কর্তৃক উপস্থাপিত সাক্ষ্য প্রমাণে খালাস প্রদত্ত আসামির বিরুদ্ধে দন্ড প্রদানের যথেষ্ট উপাদান বিদ্যমান। তাই ন্যায়বিচারের স্বার্থে শফিউর রহমান ফারাবিকে খালাস প্রদানের বিরুদ্ধে রাক্ষপক্ষে আপিল গ্রহণ করা প্রয়োজন। আপিলের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে জেলা প্রশাসককে আহ্বান জানানো হয়।
এই আবেদন প্রসঙ্গে অনন্ত বিজয় দাশের ভগ্নিপতি সমর বিজয় শী শেখর বলেন, ফরাবিকে খালাস প্রদান করে দেয়া রায়ে আমরা পুরো সন্তুষ্ঠ হতে পারিনি। চাঞ্চল্যকর এই মামলাটি যেহেতে রাষ্ট্র পরিচালনা করেছে তাই রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আপিল করার জন্য আমরা আবেদন জানিয়েছি।
প্রসঙ্গত গত বছর দেয়া রায়ে সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার আবুল হোসেন, খালপাড় তালবাড়ির ফয়সাল আহমদ, সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের বিরেন্দ্রনগরের মামুনুর রশীদ ওরফে হারুন অর রশিদ ও কানাইঘাটের ফালজুর গ্রামের আবুল খায়ের রশীদ আহমদকে মৃত্যুদন্ড প্রদান করা হয়। এদের মধ্যে আবুল খায়ের ছাড়া বাকি সকলেই পলাতক রয়েছেন।
আর সম্পূরক অভিযোগপত্রে নাম আসা ছয়জনের মধ্যে ২০১৭ সালের ২ নভেম্বর মান্নান হঠাৎ অসুস্থ হয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।
২০১৫ সালের ১২ মে সকালে নগরের সুবিদবাজারে নিজ বাসার সামনে খুন হন অনন্ত বিজয়। পেশায়ঢ ব্যাংক কর্মকর্তা অনন্ত বিজ্ঞান বিষয়ে লেখালেখি করতেন। যুক্তি নামে একটি পত্রিকা সম্পাদনা করতেন আর যুক্ত ছিলেন মুক্তমনা ব্লগের সাথে। এ ছাড়া বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। পুলিশের অভিযোগপত্র মতে, লেখালেখির কারণে উগ্রবাদী গোষ্ঠিই তাকে হত্যা করেছে।
অনন্তকে হত্যার পরদিনই তার বড় ভাই রত্নেশ্বর দাশ সিলেট বিমানবন্দর থানায় অজ্ঞাতনামা চারজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। এর প্রায় ৭ বছর পর আজ মামলার রায় প্রদান করা হলা।
আপনার মন্তব্য