০১ জুন, ২০২৩ ২১:২৪
দীর্ঘদিন ধরে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার কালিগঞ্জ বাজার, বাগিচা বাজার, চককাশিমপুর, পীরের বাজারসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে দিনে দুপুরে প্রাইভেট গাড়িতে করে গরু-ছাগল চুরি করে যাচ্ছে একটি চক্র। ভুক্তভোগীরা বিশ্বনাথ থানায় একাধিক মামলাও করেছেন কিন্তু সুফল পাচ্ছিলেন না। অবশেষে এরকমই একটি চক্রের চার সদস্যকে প্রাইভেটকারসহ গ্রেপ্তার করেছে বিশ্বনাথ পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১ জুন) নিয়মিত মামলা দায়েরের পর আদালতের মাধ্যমে ওই চার চোরকে জেলহাজতে পাঠিয়েছে থানা পুলিশ। এসময় তাদের ব্যবহৃত সিলেট গ-১১-০০৩৯ নাম্বারের প্রাইভেটকারটি জব্দ করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ থানার মাইজগাঁওয়ের মৃত জুলফিকার আহমদ ওরফে সেলিম আহমদের ছেলে মেহেদি হাসান আরিফ ওরফে আরিকুল ইসলাম (৩৫), মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল থানার শাহীবাগ গ্রামের মৃত দুলাল মিয়ার ছেলে রাজন মিয়া (৩৩), কুলাউড়া থানার শ্রীপুর গ্রামের ইসমাইল মিয়ার ছেলে ইব্রাহিম মিয়া (৪৩), সিলেট কোতোয়ালী থানার মানিকপীর রোডের কুমারপাড়া এলাকার মৃত লতু মিয়ার ছেলে রাজিব আহমদ ওরফে কসাই রাজিব (২৯)।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার (২৬ মে) দুপুরে উপজেলার পূর্ব-দশঘর গ্রামের কৃষক খলিল উদ্দিনের একটি ষাঁড় বিশ্বনাথ-জগন্নাথপুর সড়কের পার্শ্ববর্তী জায়গা থেকে প্রাইভেটকারে উঠিয়ে নিয়ে যায় একটি চোরচক্র। পরবর্তীতে স্থানীয় একটি দোকানের সিসিটিভি ফুটেজে গাড়ির নাম্বারসহ চুরির ওই চিত্র ধরা পড়ে। এরপর থেকে গাড়ি ও চোরদের সন্ধানে নামেন দশঘর এলাকার বাসিন্দারা।
এ ঘটনার ৪ দিন পর গত বুধবার (৩১ মে) আবারও একই কায়দায় একই এলাকা থেকে প্রাইভেটকারে করে গরু চুরি করতে আসে ওই চক্রটির সদস্যরা। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে এসময় ধাওয়া করেন স্থানীয়রা। একপর্যায়ে প্রাইভেটকারসহ ওই চোরচক্রের চার সদস্যকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন তারা। পরবর্তীতে ষাঁড় চুরির বিষয়টি পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তিও দেয় তারা।
এ ঘটনায় আজ বৃহস্পতিবার বিশ্বনাথ থানা পুলিশের এসআই জাকির হোসেন বাদী হয়ে ওই চোরদের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং ২)। মামলার প্রেক্ষিতে তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
বিশ্বনাথ থানা পুলিশের ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা এসআই জয়ন্ত সরকার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
আপনার মন্তব্য