০৮ জুন, ২০২৩ ২০:১০
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত বালু-পাথর মহাল ধোপাযানে অবৈধভাবে ড্রেজার ও বোমা মেশিন চালিয়ে বালু পাথর অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর।
বৃহস্পতিবার বিকেলে ধোপাযান চলতি নদীর ডলুরা এলাকায় গিয়ে সরজমিনে পরিদর্শন শেষে অবৈধভাবে বালু পাথর উত্তোলন এবং নদীর পাড় কেটে নেওয়ার প্রাথমিক সত্যতাও পেয়েছেন পরিবেশ অধিদপ্তরে সিলেট বিভাগের সহকারী পরিচালক মোহাইমিনুল হক। তবে দীর্ঘদিন ধরে সরকারিভাবে বালু ও পাথর মহালটি বন্ধ থাকায় শ্রমিকরা বেকার থাকায় অবৈধভাবে এসব কাজ বেশি হচ্ছে বলে জানান পরিবেশ অধিদপ্তরের ওই কর্মকর্তা।
সরজমিনে পরিদর্শনে গেলে দেখা যায়, সুনামগঞ্জের এই সবচেয়ে বড় বালু-পাথর মহালটি সরকারিভাবে ইজারা দেয়া না হলেও প্রশাসনের চোখের আড়ালেই ড্রেজার দিয়ে চলছে বালু উত্তোলন, সেই সাথে নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলনের দৃশ্যও চোখে পড়ে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারী এক শ্রমিক বলেন, এখানে প্রতিদিন ড্রেজার দিয়ে বালু তোলা হয় কিন্তু কেউ সাহস করে সত্যটা বলে না, প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই নিলামের নামে এখানে চলে এসব কাজ। তবে আপনি গ্রামের যে কারো সাথে কথা বলুন সবাই বলবে এখানে ড্রেজার চলে না কারণ ওই মহলটা এতোই শক্তিশালী যে সবাই তাদের ভয় পায়।
ডলুরা দক্ষিণ গ্রামের বাসিন্দা মোবারক আলী বলেন, প্রায় ৫ বছর ধরে এখানে সরকারিভাবে ইজারা দেয়া বন্ধ করা হয়েছে, কাগজেকলমে এখান থেকে কোন বালু বা পাথর উত্তোলনের সুযোগ না থাকলেও প্রতিদিন লুকিয়ে শ্রমিকরা বালু পাথর তুলছে, যদি সরকার এই কোয়ারি খুলে দিতো তাহলে অনেক শ্রমিক তাদের সংসার চালাতে পারতো, এখন অবৈধভাবে এসব কাজ করলেও মাঝে মধ্যেই পুলিশ বা বিজিবির এসে তাদের আটক করে নিয়ে যায়। তাই আমরা চাই ধোপাযান চলতি নদীটা যেন শ্রমিকদের জীবিকার কথা চিন্তা করে খুলে দেওয়া হয়।
পরিদর্শন শেষে পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেট বিভাগের সহকারী পরিচালক মোহাইমিনুল হক বলেন, এই ধোপাযান চলতি নদী থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার ও বোমা মেশিন দিয়ে নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলন হচ্ছে এমন অভিযোগের ভিত্তিতে আমার এখানে আসা, এখানে এসে আমি প্রাথমিকভাবে ড্রেজার মেশিন চালানোর সত্যতা পেয়েছি। আমরা এখানে এসে জানতে পেরেছি দীর্ঘদিন ধরেই এখানে বালু পাথর উত্তোলন বন্ধ আছে যা কারণে বেকার শ্রমিকরা এসকল অবৈধভাবে কাজে পেটের দায়ে কাজ করে যাচ্ছেন, এখানে এখানে নদীর পাড় কেটে যে অবস্থা করা হয়েছে সেটি ভবিষ্যতের জন্য হুমকির স্বরূপ। তাই আমি প্রতিবেদন তৈরি করে দায়ীদের বিরুদ্ধে পরিবেশ আইনে মামলা করে তাদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
আপনার মন্তব্য