০৯ জুন, ২০২৩ ১৯:৩০
আমার পুলা পুরি কই। আমি আর বাঁচতাম না। আমি তরার মুখ দেখতাম চাই। আমারে তরা দেশে নিয়ে যা। নিজ সন্তান জাগীর হোসেনের সঙ্গে এটাই ছিল সৌদি প্রবাসী মা সুফিয়া বেগমের শেষ কথা। এরপর থেকে সুফিয়ার আর কোন খোঁজ খবর পাচ্ছেন না দেশের থাকা তার সন্তানরা।
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার পূর্ব মাধবপুর গ্রামের বাসিন্দা সুফিয়া। এ ঘটনায় ৮ জুন সুফিয়ার ছেলে জাগীর হোসেন মাধবপুর থানায় উপজেলার সুন্দাদিল গ্রামের ফিরোজ মিয়া পূর্ব মাধবপুরের মালু মিয়া এবং ঢাকার তেহজীব টুর্যস এন্ড ট্রাভেলসের মালিক তৌহিদ হোসেনের নামে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।
অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, গত ৪ এপিল অভাবগ্রস্থ পরিবারে সুখ শান্তি ফিরিয়ে আনতে পূর্ব মাধবপুর গ্রামের জামাল মিয়ার স্ত্রী সুফিয়া বেগম দালালদের খপ্পরে পরে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। যাওয়ার এক সপ্তাহ পর তার ছেলে জাগীরের মোবাইল ফোন ইমুতে ফোন দিয়ে জানায়, সৌদি আরবে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এর সাত দিন পর আবার ফোন দিয়ে জানায়, আমার পুলা পুরি কই। আমি আর বাঁচতাম না। আমি তরার মুখ দেখতাম চাই। আমারে তরা দেশে নিয়ে যা। এ কথায় শেষ কথা ছিল সুফিয়া বেগমের। এর পর থেকে সুফিয়ার সঙ্গে তার সন্তানদের আর কোন যোগাযোগ নেই।
গত ৬ মে ঢাকার তেহজীব টুর্যস এন্ড ট্রাভেলসের মালিক তৌহিদ হোসেন ফোন দিয়ে জানান, তার মা সুফিয়া বেগম সৌদি আরবে মারা গেছেন। জাগীর হোসেনের অভিযোগ টাকা প্রলোভন দেখিয়ে তার সহজ সরল মাকে ফিরোজ মিয়া, মালু মিয়া ও তৌহিদ হোসেন সৌদিআরবে পাচারকারী চক্রের হাতে তুলে দিয়েছেন।
সৌদি আরব গিয়ে তার মা জীবিত আছেন না মারা গেছেন কিছুই জানেন না। তার মায়ের সন্ধান চাইলে উল্লেখিত লোকজন কোন সাড়া দিচ্ছেন না।
এ ব্যাপারে মালু মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সুফিয়া অসুস্থ হয়ে সৌদি আরবে মারা গেছে। সুফিয়াকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ২০দিন আগে ঢাকায় ট্রাভেলসের মালিকের সঙ্গে সুফিয়ার ছেলেকে নিয়ে দেখা করলে তারা আশ্বস্ত করেছেন সুফিয়ার লাশ দেশে এনে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
মাধবপুর থানার ডিউটি অফিসার নারী ও শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা শিবানী দাশ জাগীরের অভিযোগ প্রাপ্তি স্বীকার করে বলেন, এ বিষয়ে পুলিশ যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
আপনার মন্তব্য