নিজস্ব প্রতিবেদক:

১১ জুন, ২০২৩ ০২:০৫

ইভিএম সবচেয়ে নিরাপদ, কোনো জিন-ভূত নেই: সিলেটে সিইসি

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, ‘ইভিএমকে ভোট দেওয়ার সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি। এতে কোনো কোনো জিন-ভূত-প্রেত নেই। অনেকেই বলেন ইভিএমে নাকি জিন-ভূত আছে। কিন্তু অনেক ওঝা ঝাড়-ফুঁক করেও কিছু পায়নি।’

শনিবার সিলেট নগরীর মেন্দিবাগে জালালাবাদ গ্যাস অডিটোরিয়ামে সিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়ে একথা বলেন তিনি।

সিইসি বলেন, ‘সব বিচার-বিশ্লেষণ করে ইভিএমের কোনো ত্রুটি পাওয়া যায়নি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যদি কেউ প্রমাণ করতে পারেন, তাহলে আমি নিজেই এর দায়ভার নেব।’

এ সময় ভোটার ও প্রার্থীদের সময়মত কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে আহ্বান জানান প্রধান নির্বাচন কমিশনার।

তিনি বলেন, ‘আপনারা সময়মত ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেবেন। কোনো বিলম্ব করবেন না। ইভিএমে একজনের ভোট অন্যজনের কাছে যাওয়ার সুযোগ নেই। ইভিএমে ভোট নিরপেক্ষ হবে।’

আগের নির্বাচনগুলো সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করেছেন জানিয়ে সিইসি বলেন, ‘নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে রয়েছে। কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ প্রমাণ হলে প্রার্থিতা বাতিল হবে। আপনারা এমন কিছু করবেন না যাতে প্রার্থিতা বাতিল হয়ে যায়।’

প্রার্থীদের প্রচারে ব্যবহৃত পোস্টার-ব্যানার-ফেস্টুন পলিথিনে মোড়ানোর অভিযোগের বিষয়েও কথা বলেন সিইসি।

তিনি বলেন, ‘আমরা এতো নিষ্ঠুর হতে পারব না, এটা নিয়ে আইন আছে। পুলিশ চাইলে পলিথিনে মোড়ানো ব্যানার-পোস্টার ছিঁড়ে ফেলতে পারে। আর এটা একটা বৈশ্বিক সমস্যা। তাই সবাইকে সচেতন হতে হবে। পলিথিন পচনশীল বস্তু নয়; এটা আমাদের বুঝতে হবে।’

সময়ের প্রয়োজনে ভবিষ্যতে প্রচারের ধরন পাল্টে যেতে পারে মন্তব্য করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘সামনের দিনে প্রচারে তথ্য-প্রযুক্তি যোগ হবে, প্রার্থীরা হয়ত ডিজিটাল মাধ্যমে প্রচার চালাবে।’

ভোটের দিন কেন্দ্রের পরিস্থিতি কীভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে সে সম্পর্কেও ধারণা দেন কাজী হাবিবুল আউয়াল।

তিনি বলেন, ‘আমরা কেন্দ্র থেকে সিসিটিভির মাধ্যমে সব কেন্দ্রের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করব। কোনো ভোটার যদি সঠিকভাবে ভোট দিতে না পারেন তাহলে আপনারা চিৎকার করবেন। আমরা কেন্দ্র থেকে ব্যবস্থা নেব।’

সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মুহাম্মদ মোশাররফ হোসেনর সভাপতিত্বে মতবিনিময়ে আরও বক্তব্য দেন নির্বাচন কমিশনের সচিব মো. জাহাংগীর আলম, সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার ইলিয়াছ শরীফ, সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান, জেলার পুলিশ সুপার আবদুল্লা আল মামুন, সিলেট আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ফয়সল কাদের।

এ সময় আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, জাতীয় পার্টির প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাবুল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হাফেজ মাওলানা মাহমুদুল হাসান, স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী আব্দুল হানিফ কুটুসহ মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন

আপনার মন্তব্য

আলোচিত