ইয়াকুব শাহরিয়ার, শান্তিগঞ্জ

১১ জুন, ২০২৩ ১৩:৪০

স্বস্তির বৃষ্টিতে জনমনে প্রশান্তি, কমেছে লোডশেডিং

বৃহস্পতিবার সারাদিন ছিল তপ্ত রোদ। শেষ বিকাল থেকে বইতে শুরু করেছিলো মৃদু বাতাস। হচ্ছিলো না লোডশেডিং। এতে সমস্ত রাত গরমের তীব্র উষ্ণতা কাটিয়ে কিছুটা প্রশান্তিতে কেটেছিল শান্তিগঞ্জ উপজেলাবাসীর সময়। রাতে সুনামগঞ্জ জেলা সদর, বিভাগীয় শহর সিলেটসহ বেশ কিছু জায়গায় মুষলধারে বৃষ্টি হলেও এ উপজেলার কোথাও বৃষ্টির দেখা মিলেনি। মৃদু বাতাসে তাপপ্রবাহ কিছুটা কমলেও বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা কমছিল না উপজেলাবাসীর।

পরদিন শুক্রবারও একই অবস্থায় ছিল। শনিবার উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় গুড়িগুড়ি বৃষ্টি হলেও মুষলধারে বৃষ্টি হয়নি কোথাও। শনিবার দিবাগত রাতের বেশিরভাগ সময় রিমঝিম বৃষ্টি  হওয়ায় আবহাওয়া খানিকটা ঠাণ্ডা রয়েছে।

আজ রোববার সকাল ৯টা পর্যন্ত বৃষ্টির টেপটেপানি থাকলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে হারিয়ে যায় বৃষ্টি৷ তবে দখিনা শীতল হাওয়ায় প্রশান্তিই থাকে উপজেলাবাসীর হৃদয়। এদিকে, বৃহস্পতিবার বিকালের আগ পর্যন্ত যে হারে লোডশেডিং ছিল গত দু’দিন ধরে তাও কিছুটা কম পরিলক্ষিত হচ্ছে।

জ্যৈষ্ঠের দাবদাহে গত দুই সপ্তাহে সারাদেশসহ শান্তিগঞ্জ উপজেলার মানুষের জনজীবন অতিষ্ঠ ছিল। কর্ম জীবন মুখ থুবড়ে পড়েছিলো। স্থবির হয়ে আসছিলো সাধারণ মানুষের জীবন। বিশেষ কোনো কাজ ছাড়া ঘর থেকে বের হননি মানুষ। যারা বাইরে বের হতেন তাদের প্রায় সকলেই জীবিকার তাগিদে বাধ্য হয়েই বাইরে এসেছিলেন। লোডশেডিং-এর কারণে জীবনের যন্ত্রণা বেড়ে গিয়েছিলো। তীব্র দাবদাহ আর বিদ্যুতহীনতা এ উপজেলার মানুষের জীবনকে বিষিয়ে তুলেছিল। দখিনা বাতাস আর রিমঝিম বৃষ্টিতে কিছুটা হলেও স্বস্তি নেমে এসেছে জনসাধারণের মাঝে। জ্যৈষ্ঠের এমন দিনে শান্তিগঞ্জ উপজেলাসহ সুনামগঞ্জ জেলার হাওরে হাওরে খেলা করে অথৈ পানি। নদীগুলো থাকে জলগর্ভা। এবছর এমন দৃশ্য এখনো দেখা যায়নি।

নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইসা, কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী ঝুমন আহমদ, দশম শ্রেণি শিক্ষার্থী জলি আক্তার বলেন, আমাদের অর্ধ-বার্ষিক পরীক্ষা চলছে। বৃষ্টি-বাতাসে আবহাওয়া ঠাণ্ডা হওয়া লেখাপড়ায়ও মনোযোগী হওয়া যাচ্ছে। লোডশেডিংও আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে।

পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের সাদ্দাম হোসেন, পশ্চিম বীরগাঁওয়ের জাকির হোসেন, দরগাপাশার আশাদ চৌধুরী, জয়কলসের মাছুম মিয়া, শিমুলবাকের মুহিবুর রহমান মানিক, ছালেক উদ্দিনসহ উপজেলার বেশ কয়েকজন বাসিন্দা জানান, গত দুইদিন ধরে বিদ্যুতের বিষয়টা আগের চেয়ে কিছুটা উন্নতি হয়েছে। বৃষ্টি না হওয়ায় হাওরে পানি নাই। এখন দখিনা বাতাস হচ্ছে, রিমঝিম বৃষ্টি হচ্ছে। আবহাওয়া অনেক ঠাণ্ডা। খুব ভালো লাগছে। হৃদয়ে প্রশান্তি ফিরে এসেছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত