নিজস্ব প্রতিবেদক, মৌলভীবাজার

২৯ জুন, ২০২৩ ০৩:১০

শ্রীমঙ্গলে দোকানিকে বেধড়ক পেটালেন এমপির গানম্যান

নাস্তার নিমকি মচমচে না হওয়ায়

ছবি: সংগৃহীত

নাস্তার নিমকি মচমচে হয়নি, এমন অভিযোগ তুলে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে এক মিষ্টির দোকানের ব্যবস্থাপককে বেধড়ক পিটিয়েছেন পুলিশের সহকারী উপ পরিদর্শক (এএসআই) মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া। অভিযুক্ত কিবরিয়া স্থানীয় এমপি উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদের গানম্যান হিসেবে দায়িত্বরত আছেন। গত মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে সুধা মিস্টান্ন ভান্ডারে এই ঘটনা ঘটে।

পিটুনির শিকার ব্যবস্থাপকের নাম আরফান মিয়াকে (৩৩)।

ঘটনার পরপর আরফান মিয়া স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। তবে চিকিৎসা নেওয়ার পর গানম্যানের ভয়ে লোকচক্ষুর আড়ালে চলে যান আরফান। ভয়ে মুখ খুলছেন না তার পরিবারও।

এমপির গানম্যান কর্তৃক দোকানির গায়ে হাত তোলার ঘটনার কিছু ভিডিও ফুটেজ সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোরের হাতে এসেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র ও ঘটনার সময়ের ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে শ্রীমঙ্গল চৌমুহনীর সুধা মিস্টান্ন ভান্ডারে দলবল নিয়ে নাস্তা করতে যান স্থানীয় এমপি উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদের গানম্যান সহকারী উপ পরিদর্শক (এএসআই) মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া। এসময় মিষ্টির সাথে নিমকির মান নিয়ে তিনি চিল্লাচিল্লি ও বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু করেন। পরে ব্যবস্থাপকের টেবিলের সামনে এসে হাত উচিয়ে সবাইকে শাসাতে থাকেন। এক পর্যায়ে দোকানের ভেতর সিসিটিভি ক্যামেরা থাকায় ব্যবস্থাপককে ভেতর থেকে ঘাড় ধরে পাশের একটি বিল্ডিংয়ের আড়ালে নিয়ে যান এএসআই গোলাম কিবরিয়া। সেখানে আরফানকে বেধড়ক পেটান এএসআই। তবে পুলিশের কর্মকর্তা হওয়ায় ভয়ে তাকে রক্ষা করতে কেউই যায়নি।

পরবর্তীতে পিটুনিতে আহত আরফান মিয়া চিকিৎসা নেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। তবে এরপর থেকে ভয়ে আর দোকানে যাননি তিনি।

তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি (আরফান) কথা না বলায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

একপর্যায়ে তার স্ত্রী পরিচয়ে এক নারী কথা বলেন। তবে তিনিও বিস্তারিত জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, ‘‘আমার স্বামীকে প্রচুর আঘাত করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে বিছানা থেকে উঠতে পারছেন না। মোবাইলে কথা বলতে পারবেন না। তিনি কোথায় আছেন, সে তথ্য দিতে তিনি (নারী) রাজি হননি।’’

ঘটনার বিস্তারিত জানতে সরেজমিনে সুধা মিস্টান্ন ভান্ডারে গেলে জানা যায়, দোকানের মালিক দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। তবে কর্মচারীরা ভয়ে কেউ কথা বলতে রাজি হননি।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত এএসআই মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘‘এমন কিছুই ঘটেনি। যা ঘটেছিল মিমাংসা হয়ে গেছে।’’

একপর্যায়ে তিনি (এএসআই) কিছুটা উত্তেজনার স্বরে পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘‘আপনি দেখছেন আমি মারছি? ’’ ঘটনার ২টি ভিডিও ফুটেজ রয়েছে, এ কথা শুনে, তিনি (এএসআই) ব্যস্ত আছেন বলে লাইন কেটে দেন।

এই বিষয়ে শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর হোসেন সর্দার বলেন, ‘‘আমি কিছু জানি-না। বিস্তারিত খোঁজ নিচ্ছি।’’

আপনার মন্তব্য

আলোচিত