জুবেল আহমদ সেকেল, ওসমানীনগর

২৩ ফেব্রুয়ারি , ২০২৪ ০০:০৮

২১ ফেব্রুয়ারিতে পতাকা উত্তোলনের নিয়ম মানা হয়নি ওসমানীনগরে

একুশে ফেব্রুয়ারিতে ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাচন অফিসে জাতীয় পতাকা

একুশে ফেব্রুয়ারি মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে সিলেটের ওসমানীনগরে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি অফিসে উত্তোলন করা হয়নি জাতীয় পতাকা। অনেক অফিসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হলেও অর্ধনমিত করে রাখা হয়নি। দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতীক জাতীয় পতাকা। কিছু কিছু সরকারি-বেসরকারি অফিসে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের নামে করা হয়েছে তামাশা ও উদাসীনতা।

জাতীয় দিবসে রাষ্ট্রীয় নির্দেশনা উপেক্ষা করে বাঙালি জাতি ও বাংলাদেশের অস্তিত্বের প্রতীক জাতীয় পতাকা উত্তোলন নিয়ে সংশ্লিষ্ট অফিসের দায়িত্বশীলদের দায়িত্বহীনতা ও উদাসীনতা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় নির্দেশ অমান্য করা ও জাতীয় পতাকাকে অবজ্ঞা করা একটি অমার্জনীয় অপরাধেরও সামিল বলে বিষয়টি অনেকে মনে করছেন।

২১ ফেব্রুয়ারি বুধবার সরেজমিন সকাল ১০টা ৪৩ মিনিটে তাজপুর কদমতলায় ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় পতাকাদণ্ডের সর্বোচ্চ চূড়ায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। শহিদ দিবসে পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশনা থকলেও তা পালন করা হয়নি।

গোয়ালাবাজার কালাসারা এলাকায় ওসমানীনগর ৫০ শয্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একই অবস্থায় পতাকাদণ্ডের সর্বোচ্চ চূড়ায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়নি।

১১টা ৫ মিনিটে ইলাশপুর ভার্ড চক্ষু হাসপাতালে দেখা যায় পতাকাদণ্ডের চূড়ার জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

সকাল ১০টা ৪৮ মিনিটে তাজপুর দুলিয়ারবন্দ এলাকায় নির্বাচন অফিসারের কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, অফিসের দুতলার রেলিংয়ের সাথে ৬/৭ হাতের একটি প্লাস্টিকের পাইপ বেঁধে দিয়ে উত্তোলন করা হয়েছে জাতীয় পতাকা। হেলে পড়া পাইপের চূড়া থেকে প্রায় এক হাত নিচে উত্তোলন করা হয়েছে পতাকা।

মহান শহিদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে অর্ধনমিত রাখার নির্দেশনা বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে দেয়া থাকলেও ২১ ফেব্রুয়ারি উপজেলার বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিশেষ করে অনেক ব্যাংক সেই নির্দেশনা মানেনি।

২১ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টা ৪৬ মিনিটে তাজপুর কদমতলায় গিয়ে দেখা যায় সরকারি মালিকানাধীন সোনালী ব্যাংকে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়নি।

সকাল ১০টা ৫৩ মিনিটে তাজপুরবাজারে জনতা ব্যাংকে, ১১টা ২ মিনিটে ইলাশপুর ভার্ড চক্ষু হাসপাতালের পাশে সরকারি মালিকানাধীন পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক, বেলা ২টা ১৪ মিনিটে গোয়ালাবাজার পূবালী ব্যাংকে গিয়ে দেখা যায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়নি।

এছাড়াও সকাল ১১টা ৪৭ মিনিটে তাজপুর কদমতলা পূবালী ব্যাংকে গিয়ে দেখা যায় মহাসড়কের সাথে সীমানা প্রাচীরের গ্রিলের সাথে একটি ছোট প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হলেও যথাযথ নিয়মে অর্ধনমিত রাখা হয়নি।

সকাল ১০টা ৫১ মিনিটে তাজপুরবাজারে ন্যাশনাল ব্যাংকে গিয়ে দেখা যায় ব্যাংকের উত্তর দিকের জানালার সাথে ছোট বাঁকা করে বাঁধা একটি ৭/৮ হাত লাটির চূড়ার জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা। জাতীয় পতাকার ঠিক নিচে একই বাঁশে কালো আরেকটি পতাকা টাঙানো।

২টা ১৪ মিনিটে গোয়ালাবাজার মার্কেন্টাইল ব্যাংকে দেখা যায় ব্যাংকের প্রবেশ মুখের রেলিংয়ের সাথে ৪/৫ হাতের একটি লাঠি দিয়ে পতাকা টানানো। এমনকি যথাযথ নিয়মে পতাকা না উত্তোলন করে মাত্র আধা হাত নিচে পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আবু লায়েছ দুলাল বলেন, হঠাৎ করে অফিস পরিবর্তন করে নতুন ভবনে উঠার কারণে এরকম হয়েছে। তবে আমার আন্তরিকতার কোনো কমতি ছিল না।

ওসমানীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোজাহারুল ইসলাম বলেন, আমি আমার হেড অ্যাসিস্ট্যান্টকে বলেছিলাম পতাকা অর্ধনমিত করে উত্তোলন করার জন্য তারা তা করেনি। এ ব্যাপারে আমি ব্যবস্থা নিচ্ছি।

ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহুয়া শারমিন ফাতেমা বলেন, যথাযথ নির্দেশনা থাকার পরও যারা জাতীয় পতাকা উত্তোলনের নিয়ম মানেননি তাদের ব্যাপারে তাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত