তামিম রহমান, বিয়ানীবাজার

০২ মে, ২০২৪ ০২:১১

শ্রমিক দিবস পালিত হয় শুধু, পারিশ্রমিকে প্রভাব পড়ে না

প্রতীকী ছবি

পহেলা মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস। দিনটিকে ঘিরে শ্রমিকদের নিয়ে আলোচনা এবং তাদের পক্ষে কথা বুলি জপে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। শ্রমিকদের পক্ষে কথা বলে দিনটি প্রতিষ্ঠিত করার সংগ্রামের তাৎপর্য হারিয়ে যেতে বসেছে। বছরে পহেলা মে আসলে শুধু দিবস পালনের মধ্যেই এ দিনের কথা স্মরণে রেখেছেন। মুখেই শুধু শুনি আমাদের অবিচারের কথা। তবে শ্রমিকের প্রাপ্য বুঝিয়ে দিতে কেউই বাস্তবায়নে যায় না।

শ্রমিক আন্দোলন ও শ্রম অধিকার আদায়ের এ দিনটি বছরের পর বছর ধরে বিশ্বব্যাপী যথাযথ মর্যাদায় পালিত হয়। শ্রমিকদের সম্মানে মে দিবস বা পহেলা মেকে জাতীয় ছুটির দিন হিসেবে পালন করে বিশ্বের প্রায় ৮০টি দেশ। উনিশ শতাব্দীর পূর্বে কারখানার শ্রমিকদের দৈনিক ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা কাজ করতে হতো। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তার চেয়েও বেশি। কিন্তু কাজ অনুপাতে পারিশ্রমিক ছিল খুবই কম, যা তাদের জীবনযাপনের জন্য যথাযথ ছিল না। একটা পর্যায় শ্রমিকপক্ষ ক্ষুব্ধ হতে থাকে- যা এক সময় আন্দোলনে রূপ নেয়। ১৮৮৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে একদল শ্রমিক মালিকপক্ষকে দৈনিক আট ঘণ্টা কর্মসময় নির্ধারণের দাবি জানায়। এ দাবি পূরণের সময় হিসেবে ১৮৮৬ সালের ১ মেকে নির্ধারণ করেন শ্রমিকরা।

বিয়ানীবাজার পৌর শহরের একটি বিল্ডিং নির্মাণ শ্রমিক শিহাব উদ্দিন সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোরকে বলেন, ৮ ঘণ্টা কাজের কথা থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে অনিয়মের মধ্য দিয়েই যাচ্ছে। কাজ করতে হচ্ছে ৮ ঘণ্টার অধিক। দেওয়া হচ্ছে না ওভারটাইম বা অতিরিক্ত সময়ের পয়সা। শ্রমিক দিবস আসলে সবাই বলে মজুরি ন্যায্য মজুরি আদায়ের কথা। কিন্তু এ দিন চলে গেলে আর আমাদের ভাগ্যের আর কোনো পরিবর্তন হয়নি। কোনো প্রভাব পড়েনি আমাদের পারিশ্রমিকের উপর।

উপজেলার চারখাই বাজারের দর্জি খলিলুর রহমান বলেন, মে দিবস উদযাপন তো এই মানুষগুলোর কাছে একপ্রকার বিলাসিতা। আমরা দেখি বাংলাদেশে তৈরি পোশাক শিল্পে সবচেয়ে বেশি শ্রমিক কর্মরত। প্রতিটি তৈরি পোশাক কারখানায় ৮ ঘণ্টার বেশি কাজ হয় প্রতিদিন। আনুমানিক ৬৫ শতাংশের বেশি কারখানায় হয় রাত্রিকালীন কাজ (রাত ১২ ঘটিকা পর্যন্ত)। তারপরও শ্রমিকদের যদি বলা হয় আপনি ওভারটাইম করেন, অকপটে সে বলবে হঠাৎ বা জরুরি শিপমেন্ট থাকলে ওভারটাইম করতে হয়, অন্যথায় নয়। মিথ্যা না বললে হয়তো চাকরি হারাতে হবে। বাধ্য হয়ে তাকে মিথ্যার আশ্রয় নিতে হয়। কারো হয়তো মাসের অর্থনৈতিক চাহিদাও পূরণ হবে না। যার কারণে ওভারটাইম কাজ করতে শ্রমিকরা আগ্রহী থাকে। শুধু গার্মেন্টস শিল্প নয় অধিকাংশ শিল্প প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম চোখে পড়ার মতো।

তিনি বলেন, আমার পরিচিত একজন বাসচালক দিনে প্রায় ১৬-১৮ ঘণ্টা বাস চালায়। এই ক্ষেত্রে মালিকপক্ষের জোরপূর্বক নয়, অনেকটা নিজের তাগিদে অর্থের লোভে পড়ে ওভারটাইম কাজ করছে তারা। কিন্তু মালিকপক্ষের নেই কোনো তদারকি। মালিকপক্ষ নির্ধারণ করে দিয়েছে যত টিপ আনা-নেওয়া করতে পারবে তত বেশি মজুরি। তাই তারা অতিরিক্ত সময় কাজ করতে আগ্রহী।

এ প্রসঙ্গে বিয়ানীবাজার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক মিলাদ মো. জয়নুল ইসলাম সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোরকে বলেন, আগের চেয়ে শ্রমিকদের মজুরি কিছুটা বেড়েছে। তবে বৈষম্য দূর হয়নি। এক্ষেত্রে শ্রমিকদের আসলে সংগঠিত হয়ে দাবি আদায়ে আন্দোলনের সুযোগ নেই। সরকারকেই উদ্যোগ নিতে হবে সমাধানের। শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করে দিলে মজুরি বৈষম্য দূর হবে। শ্রমজীবী মানুষ বরাবরই নিপীড়িত। শ্রমজীবী মানুষদের নেই সামাজিক মর্যাদা, বিশ্রাম, নিরাপত্তার কর্মস্থল, পেশাগত নিরাপত্তা। বিভিন্ন শ্রেণির পেশাজীবীদের বছর-বছর বেতন-ভাতা বাড়লেও শ্রমিকদের মজুরি বাড়ে না। এক্ষেত্রে সরকারে উচিত ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা। শ্রম আইনে নারী-পুরুষ সবার মজুরি সমানের কথা থাকলেও তা মানেন না মালিক পক্ষ। এ বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করার দায়িত্ব সরকারের। সরকারকে এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত