০৭ মে, ২০২৫ ১৭:৪৯
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক্স-রে মেশিন তিন বছর ধরে বিকল হয়ে পড়ে আছে। ফলে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে উপজেলাবাসী। অকেজো হয়ে যাওয়া এ যন্ত্রটি কবে চালু হতে পারে তা সঠিকভাবে নিশ্চিত হতে পারছেন না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
উপজেলা স্বাস্হ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয় এলাকাবাসি সুত্রে জানা যায়, ১৯৬৪ সালে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্হ্য কেন্দ্র স্থাপিত হয়। ৩১ শয্যা বিশিষ্ট এ হাসপাতালটি ২০০৭ সালে ৫১ শয্যায় উন্নতিকরণ করা হয়। ২০০৫ সালে স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে এক্স-রে মেশিন দেয়া হয়। সে সময় জগন্নাথপুরে বিদ্যুতের লো-ভোল্টেজের সমস্যার কারণে মেশিনটি চালু করা সম্ভব হয়নি।
দীর্ঘ কয়েকবছর বাক্সবন্দি থাকার পর ২০২১ সালে এক্স-রে মেশিন চালু করা হয়। ২০২২ সালে এক্স-রে মেশিনে ক্রুটি দেখা দিলে বন্ধ হয়ে যায় কার্যক্রম। গত ৩ বছরের বেশি সময় ধরে এক্স-রে মেশিন সচল না থাকায় সরকারী সুযোগ সুবিধা পাচ্ছেন না হাসপাতালে আসা রোগিরা। ফলে তাদের কে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে বেসরকারী বিভিন্ন ডায়াগণষ্টিক সেন্টার থেকে সেবা গ্রহণ নিতে হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্হ্য কেন্দ্রে আসা আলাল মিয়ার নামের এক ভুক্তভোগি বলেন, আমার ছেলের হাতে ব্যাথা পায়। ডাক্তার বলেছেন, এক্স-রে লাগবে। হাসপাতালের এক্স-রে মেশিন নষ্ট তাই বাইরে থেকে করে আনতে হবে। পরে ৫০০ টা দিয়ে একটি ডায়াগনেষ্টিক সেন্টার করে এক্স-রে রিপোর্ট আনতে হয়েছে।
নাজমা বেগম নামের এক রোগি বলেন, বুকের সমস্যা করছিল। বিনামূল্য হাসপাতালে এক্স-রে করা যায় শুনে এসেছিলাম। দুর্ভাগ্য এক্সরে যন্ত্র নষ্ট থাকায় বাহির থেকে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে কাজ করতে হয়েছে।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. তামজিদ হোসাইনের সঙ্গে কথা হয় হাসপাতালে। তিনি বলেন, এক্স-রে মেশিনের ব্যাটারি ও সফটওয়ার সমস্যা থাকায় চালু করা যাচ্ছে না।
কবে এটি যন্ত্রটি চালু হতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ধারণা করছি এবছর হতে পারে। এখানে বুকের এক্স-রে করাতে কোন টাকা নেয়া হয়না। অন্য সব এক্স-রে ৫০ টাকা থেকে ১০০ টাকায় করতে পারেন রোগিরা।
জগন্নাথপুর উপজেলা নাগরিক পরিষদের আহ্ববায়ক এমএ কাদির বলেন, জগন্নাথপুর উপজেলায় প্রায় ৪ লাখ মানুষের বসবাস। এখানকার সরকারী হাসপাতালের এক্স-রে মেশিন তিন বছরেও বেশি সময় ধরে অকেজো হয়ে আছে। যেকারণে একদিকে যেমন চিকিৎসা নিতে আসা রোগিরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। অন্যদিকে অতিরিক্ত টাকা গুনতে হচ্ছে। আমরা সংশ্লিষ্টদের নিকট দাবী জানাই, জনসাধারণ কথায় বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত মেরামত করে এক্স-রে মেশিন টি সচল করার জন্য।
এব্যাপারে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্হ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কৃপেশ রঞ্জন রায় বলেন, আমি এ উপজেলায় নতুন এসেছি। ডিজিটাল এক্স-রে মেশিনটি বিদেশী এক্সপার্ট ছাড়া মেরামত করা যাচ্ছে না। আমরা উচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগ করছি।
আপনার মন্তব্য