০৫ ফেব্রুয়ারি , ২০১৬ ২১:১১
সকল যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি কার্যকরের পাশাপাশি দ্রুত জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছে গণজাগরণ মঞ্চ, সিলেট। একইসঙ্গে গত তিন বছরে খুন হওয়া লেখক, ব্লগার, প্রকাশক ও গণজাগরণ কর্মীদের হত্যাকারীদের বিচার দাবি জানানো হয়েছে।
শুক্রবার গণজাগরণ আন্দোলনের ৩ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে এমন দাবি জানানো হয়। ৩ বছরপূর্তি উপলক্ষে বিকেল সাড়ে ৩ টা থেকে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে জাগরণের গান ও সমাবেশে আয়োজন করে গণজাগরণ মঞ্চ, সিলেট। জাতীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে এ অনুষ্ঠানের শুরু হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ২০১৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের প্রতিবাদে সারাদেশে লাখো মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছিলো। প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছিলো। এই স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদই পরবর্তী গণজাগরণ আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনের ফলে আইন সংশোধন করে কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় কার্যকর করা হয়। আরো কয়েকজন যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি কার্যকর হয়।
বক্তারা বলেন, একদিকে যখন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্যকর হচ্ছে অপরদিকে তখন ধর্মীয় উগ্রবাদী গোষ্ঠী একের পর এক লেখক, ব্লগার, প্রকাশক ও গণজাগরণ সংগঠকদের হত্যা করে যাচ্ছে। সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করলেও এইসব হত্যাকাণ্ডের বিচারের ব্যাপারে অনেকটাই উদাসীন। বক্তারা লেখক, ব্লগার, প্রকাশক ও গণজাগরণ কর্মীদের হত্যার বিচার দাবি করেন।
বক্তারা বলেন, কয়েকজন যুদ্ধাপরাধীদের রায় কার্যকর হলেও গণজাগরণ আন্দোলনের যৌক্তিকতা এখনো ফুরিয়ে যায় নি। এখনো জামায়াত-হেফাজত চক্র তাদের নীল নকশা বাস্তবায়নে তৎপর রয়েছে। এখনো হামলা-হত্যা চালিয়ে বাংলাদেশকে একটি উগ্রবাদী জঙ্গি রাষ্ট্রে পরিণত করতে চাচ্ছে। তাই একটি উদার অসাম্প্রদায়িক মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ গড়তে গণজাগরণ মঞ্চকে রাজপথে সক্রিয় থাকতে হবে।
আলোচনা পর্বের ফাঁকে ফাঁকে জাগরণী সঙ্গীত পরিবেশন করে উদীচী সিলেট, নগরনাট সিলেট, অংশুমান দত্ত অঞ্জন ও শান্তনু সেন তাপ্পু।
সন্ধ্যায় শহীদ মিনার চত্বর থেকে বের হয় আলোর মিছিল।
২০১৩ পরবর্তী সময়ে খুন হওয়া রাজীব হায়দার, জগৎজ্যোতি তালুকদার, দীপ, অভিজিৎ রায়, ওয়াশিকুর রহমান বাবু, অনন্ত বিজয় দাশ, নিলয় নিল, ফয়সাল আরেফিন দিপনের ছবি নিয়ে আলোর মিছিলটি চাঁদনীঘাটে গিয়ে শেষ হয়।
আলোর মিছিল থেকে এসব লেখক, ব্লগার, প্রকাশ ও গণজাগরণ সংগঠকদের হত্যা বিচার দাবি করা হয়।
আপনার মন্তব্য