নিউজ ডেস্ক

২১ আগস্ট, ২০২৫ ২১:৪০

সাদা পাথরে লুট ঠেকাতে ‘নিষ্ক্রিয় ছিলেন’ ডিসি মুরাদ

দুদকের তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগ

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সাদা পাথরের লুটপাট ঠেকাতে জেলা প্রশাসক (ডিসি) শের মাহবুব মুরাদ নিষ্ক্রিয় ছিলেন বলে অভিযোগ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

এ ঘটনায় দুদকের তদন্ত প্রতিবেদনে এমনটি অভিযোগ করা হয়েছে। গত ১৬ আগস্ট দুদক এ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।

দুদক এই প্রতিবেদন জমা দেওয়ার দুদিন পর গত সোমবার (১৮ আগস্ট) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এক প্রজ্ঞাপনে সিলেটের জেলা প্রশাসক মাহবুব মুরাদকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়। এরপর বুধবার সিলেট ছাড়েন শের মাহবুব।

দুদকের প্রতিবেদনে সিলেটের সদ্যসাবেক জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদকে দায়ী করে উল্লেখ করে, সিলেট জেলায় অবস্থিত সাদাপাথর, জাফলং, বিছনাকান্দি ও উৎমাছড়া পর্যটনকেন্দ্র হিসাবে স্বীকৃত। এ স্থান থেকে পাথর, বালি ও অন্যান্য খনিজসম্পদ উত্তোলন সরকারিভাবে নিষিদ্ধ। সরকারি বিধি অনুযায়ী বিদ্যমান পর্যটন স্পটগুলোর নান্দনিক সৌন্দর্য বজার রাখাসহ পরিবেশ সংরক্ষণে যথাযথ উদ্যোগ বা কার্যক্রম গ্রহণ করা জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়- পাথর লুটপাট ঠেকাতে শের মাহবুব মুরাদের সদিচ্ছার অভাব, অবহেলা, ব্যর্থতা ও নিষ্ক্রিয়তা স্পষ্ট। তিনি তার অধীন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনকে সাদাপাথর পর্যটন স্পট রক্ষায় সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে অদক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। সাদাপাথর পর্যটন স্পটের বর্তমান অবস্থা একদিনে হয়নি। এটি বিগত ৭-৮ মাস ধরে চললেও জেলা প্রশাসক ও তার অধীন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ নিতে চরম ব্যর্থ হয়েছেন।

তবে বিদায়ী সিলেটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদ দুই দিন আগে এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘সাধ্যমতো পাথর লুট ঠেকাতে চেষ্টা করেছি। আমার কোনো নিষ্ক্রিয়তা ছিল না।’

তদন্ত প্রতিবেদনে সাদা পাথর লুটের ‘প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত’ এবং ‘সুবিধাভোগী ব্যক্তি ও সংস্থার’ একটি তালিকা দিয়েছে দুদক। এই তালিকায় বিভাগীয় কমিশনার ও সুপারের কথাও উল্লেখ রয়েছে।

সাদাপাথরে নজিরবিহীন লুট নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনার মধ্যে গত ১৩ আগস্ট দদকের সিলেট কার্যালয়ের উপ পরিচালক রাফি মো. নাজমুস সাদাতের নেতৃত্বে একটি টিম সাদাপাথর পরিদর্শন করে।

প্রতিবেদনে সাদাপাথর লুটে বিভিন্ন সরকারী প্রতিষ্ঠান ব্যক্তি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা মিলিয়ে ৫৩ জনের সম্পৃক্ততা পেয়েছে বলে জানিয়েছে দুদক।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পাথর আত্মসাতের ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থাগুলোর নিষ্ক্রিয়তা ও যোগসাজশ ছিল।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত