নিজস্ব প্রতিবেদক

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০০:৩৮

ব্যাটারি রিকশার আন্দোলন: ‘ঢাকায় থেকেও’ সিলেটে ভাঙচুরের মামলায় গ্রেপ্তার জাফর

আটকের পর বাসদ সিলেট জেলার আহ্বায়ক আবু জাফর ও সদস্যসচিব প্রণব জ্যোতি পালকে পুলিশ ভ্যানে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ফাইল ছবি

সিলেটে ব্যাটারিচালিত রিকশার বিরুদ্ধে পুলিশী অভিযান বন্ধের দাবিতে আন্দোলন থেকে যানবাহন ভাঙচুরের দুটি মামলায় বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) জেলার আহ্বায়ক আবু জাফর ও সদস্যসচিব প্রণব জ্যোতি পালকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

ব্যাটারি রিকশার লাইসেন্স প্রদান ও এসব রিকশার বিরুদ্ধে পুলিশী হয়রানি বন্ধের দাবিতে আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন জাফর ও প্রণব। তবে বাসদ নেতারা দাবি করেছেন, যে ব্যানারে ব্যাটারি রিকশা চালকদের কর্মসূচী থেকে ভাঙচুর চালানো হয় জাফর ও প্রণব সে ব্যানারে সম্পৃক্ত ছিলেন না। তারা পৃথক আরেকটি ব্যানারে আন্দোলন চালাচ্ছিলেন।

তাছাড়া ভাঙচুরের ঘটনা যেদিন ঘটে সেদিন আবু জাফর ঢাকায় একটি আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে ছিলেন জানিয়ে বাসদ নেতারা বলছেন, ওই সেমিনারে অর্ন্তবর্তী সরকারের দুজন উপদেষ্টাও উপস্থিত ছিলেন।

শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটায় বাসদের আম্বরখানাস্থ দলীয় কার্যালয় থেকে জাফর ও প্রণবকে আটক করে ডিবি পুলিশ। এরপর তাদের যানবাহন ভাঙচুরের দুটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে তোলা হয়। আদালত তাদের কারাগারে প্রেরণ করেন।

জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ব্যাটারি রিকশা পারমিটসহ ছয় দফা দাবিতে ‘সিলেট ব্যাটারিচালিত রিকশা মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ’-এর ব্যানারে নগরে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়। ওইদিন মিছিল, সড়ক অবরোধ, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অবস্থান কর্মসূচী ও স্মারকলিপি প্রদান করে শ্রমিকরা। রিকশাচালকদের কর্মসূচী চলাকালে বন্দরবাজারে অটোরিকশা ভাঙচুর চালানো হয়। এছাড়া মেন্দিবাগ এলাকায়ও ভাঙচুর চালানো হয়। এসব ভাঙচুরের ঘটনায় দুটি মামলা হয়।

অপরদিকে, ‘রিকশা, ব্যাটারি রিকশা-ভ্যান ও ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদ’-এর ব্যানারে ব্যাটারি রিকশার পারমিটের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন বাসদ নেতারা।  সাম্প্রতিক সময়ে নগরীতে অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে জোরালো অভিযানে নামে মহানগর পুলিশ। নগরে অবৈধ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা আর চলতে দেওয়া হবে না বলেও ঘোষণা দেন মহানগর পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী।

ব্যাটারিচালিত রিকশার বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান জোরালো হলে তার প্রতিবাদে বাসদ নেতৃত্বাধিন ‘রিকশা, ব্যাটারি রিকশা-ভ্যান ও ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদ’-এর আন্দোলনও জোরালো হয়। যেদিন দুই  গ্রেপ্তার করা হয় ওইদিন সকালেও নগরের চৌহাট্টা এলাকায় ওই ব্যানারে বিক্ষোভ করা হয়। এ কর্মসূচীতে আবু জাফর এবং প্রণেজ্যোতি পালও উপস্থিত ছিলেন।

জানা যায়, বৃহস্পিতার অটোরিকশার বিষয়ে রাজনীতিবিদসহ বিভিন্ন শ্রেণির নাগরিকদের নিয়ে বৈঠক করে পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী। ওই বৈঠকে সাবেক সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ব্যাটারিরিকশার আন্দোলনে ইন্ধনদাতা হিসেবে আবু জাফরের নাম উল্লেখ করেন।

ওই বৈঠকে আরিফ বলেন, অবৈধ ব্যাটারি রিকশার আন্দোলনে কারা উস্কানি দিচ্ছেন তাদের তথ্য আমাদের কাছে আছে। তাদের মধ্যে জাফর নামে একজন আছেন।

ওই বৈঠকের পরই আবু জাফর ও প্রণব জ্যোতিকে আটক করা হয়।

এ ব্যাপারে বাসদের সাংস্কৃতিক সংগঠন চারন-এর সংগঠক নাজিকুল ইসলাম রানা বলেন, মামলার এজাহারে যেদিন যানবাহন ভাঙচুরের অভিযোগ আনা হয়েছে, সেদিন আবু জাফর ঢাকায় একটি কনফারেন্সে ছিলেন। তার ফেসবুকেও ওই কনফেরেন্সের ছবি আছে।

তিনি বলেন, এছাড়া যে কর্মসূচী থেকে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ ওঠেছে ওই কর্মসূচীর সাথে বাসদের কোন সম্পৃক্ততা নেই। সেটি পৃথক একটি সংগঠনের কর্মসূচী। আমরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে  আন্দোলন করছিলাম। সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে বাসদের দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এদিকে বাসদ দুই নেতাকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে রোববারও নগরে বিক্ষোভ করে বামদলগুলো। এ কর্মসূচী থেকে জাফর ও প্রণবের মুক্তি দাবি করা হয়।

এ প্রসঙ্গে সম্মিলিত নাট্য পরিষদ সিলেটের প্রধান পরিচালক শামসুল বাসিত শেরো কারো নাম উল্লেখ না করেই রোববার ফেসবুকে লিখেন- ‘ডিসি অফিস ও সিটি করপোরেশনে হামলার সময় যিনি প্রকাশ্যে সন্ত্রাসীদের "আমি এবং আমার দল আপনাদের পাশে আছি" বলে পক্ষ নিলেন তাকে পুলিশ কমিশনারের অফিসে আমন্ত্রন জানিয়ে কেক-কুক খাওয়ালেন আর আজীবন শ্রমিকদের জন্য কাজ করা দুজনকে গ্রেপ্তার করলেন। আপনি সিলেটের জন্য যত ভাল কাজই করেন না কেন আপনার এই পক্ষপাতিত্ব জনগনের চোখ এড়ায়নি।’

এ প্রসঙ্গে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (গণমাধ্যম) সাইফুল ইসলাম বলেন, ব্যাটারি রিকশা চাকেদের মিছিল থেকে ভাঙচুরের মামলায় এ পর্যন্ত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যারা ভাঙচুর চালিয়েছে ও যারা এতে ইন্ধন দিয়েছে তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত