সিলেটটুডে ডেস্ক

১৫ অক্টোবর, ২০২৫ ১৮:৪৮

বিএনপির ৩১ দফা প্রচারে ‘হাওর ঘাটে’ সালমা নজির

দুর্গম হাওর এলাকায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের ৩১ দফা প্রচার।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৩১ দফা ও ধানের শীষের প্রচারে প্রথম ধাপে ‘গ্রাম থেকে গ্রামে’ কর্মসূচি পালনের মধ্য দিয়ে নির্বাচনি প্রচারণা করেন। তাতে তৃণমূলের মানুষজনের বেশ আস্থা কুড়িয়েছেন। দ্বিতীয় ধাপে ‘গ্রাম থেকে হাটে’ কর্মসূচি করেন। তৃতীয় ধাপে এবার ‘হাওর ঘাটে’ কর্মসূচিতে নেমেছেন সুনামগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী সালমা নজির।

বুধবার (১৫ অক্টোবর) থেকে সকাল থেকে নির্বাচনি তাহিরপুর থেকে ‘হাওর ঘাটে’ কর্মসূচির সূচনা করেন। ইঞ্জিনচালিত একটি নৌকার সম্মুখে ব্যানার সাঁটিয়ে দিনভর হাওরের ঘাট থেকে ঘাটে কর্মসূচি পালন করেন। ঘাট থেকে কখনো বাড়ির উঠোনে গিয়ে মাটিতে বসে বৈঠক করেন। বৈঠকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা প্রচার ও এ নিয়ে প্রান্তিক মানুষের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়াও সংগ্রহ করেন।

এ আসনের দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীরা হাওরে স্প্রিডবোট দিয়ে শো-ডাউন করছেন। সেখানে একমাত্র ব্যতিক্রম সালমা নজির।

স্প্রিডবোট শো-ডাউন এড়িয়ে হাওরঘাটের কর্মসূচি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সালমা নজির তার প্রয়াত স্বামী নজির হোসেনের ২০০১ সালের নির্বাচনি প্রচারণার স্মৃতি ব্যক্ত করে বলেন, ‘হাওরাঞ্চালে যোগাযোগের দুটো পন্থা। বর্ষায় নাও, হেমন্তে পাও- এ কথাটি প্রবাদবাক্যের মতো করে বলা হয়। বর্ষা শেষের এই সময় কিন্তু ২০০১ সালের নির্বাচন হয়েছিল এবং আমি দেখেছি, সেই সময়ে আমার স্বামী নৌযোগাযোগের মাধ্যমে গহিন হাওর এলাকায় সহজে যাতায়াত করে মানুষের সঙ্গে মিশেছিলেন। এ জন্য ওই বছর ধানের শীষের বিজয়ের বড় রকমের ফলাফল এসেছিল।’

সেই সময়কে ‘বিএনপির সুদিন’ উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘বর্ষা চলে যাওয়ার এই সময়ে আমি সেই সুদিনকে ফেরাতে সুযোগটি ব্যবহার করে ৩১ দফার প্রচার চালাচ্ছি। আর কয়েকদিন পর হাওর এলাকায় পায়ে হাঁটার যোগাযোগ বিড়ম্বনার কারণে হয়তো জনসংযোগে ব্যাঘাত হবে। ধানের শীষের প্রচার যাতে দুর্গম এলাকায় আগেই পৌঁছে যায়, এ জন্য নিরিবিলি পরিবেশে নাওয়ে করে হাওরের এক ঘাট থেকে আরেক ঘাটে গিয়ে প্রচার চালাচ্ছি। এতে করে মানুষের একান্তে মনোযোগও পাওয়া যাচ্ছে।’

জানা গেছে, হাওরাঞ্চলের আসনখ্যাত সুনামগঞ্জ-১ (তাহিরপুর-জামালগঞ্জ-ধরমপাশা-মধ্যনগর) নির্বাচনি এলাকার একাধিকবারের সংসদ সদস্য বিএনপি নেতা্ নজির হোসেন ২০২৪ সালের ২৮ মার্চ আকস্মিক মৃত্যুবরণ করেন। তার অকস্মাৎ মৃত্যু নির্বাচনি এলাকায় দলমতনির্বিশেষে মানুষকে শোকাহত করে। শোকাহত মানুষের পাশে থাকতে ভোটের রাজনীতিতে সক্রিয় হন তার স্ত্রী সালমা নজির।

বিখ্যাত টাঙ্গুয়ার হাওরসহ ছোট-বড় অসংখ্য হাওরবেষ্টিত সুনামগঞ্জ-১ আসনটি সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনের মধ্যে সবচেয়ে বড় নির্বাচনি এলাকা। এখানে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে বিএনপির দুর্গ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে রেখেছেন প্রয়াত নজির হোসেন। আগামী জাতীয় নির্বাচনে আসনটিতে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশায় সালমা নজির ছাড়াও মাঠে তৎপর আছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আনিসুল হক, কামরুজ্জামান কামরুল, যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান, ছাত্রদল থেকে বিএনপি রাজনীতিতে সক্রিয় হামিদুল হক লিটন আফিন্দী ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহসভাপতি পদে থাকা নিজাম উদ্দিন।

সাবেক সংসদ সদস্য নজির হোসেন আশির দশকে হাওরে ভাসান পানির আন্দোলন সংঘটিত করে জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনায় এসেছিলেন। ৯০-এর গণ-অভ্যুত্থানের পর তৎকালীন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় তিন জোটের রূপরেখা তৈরিতেও ভূমিকা রেখেছিলেন। পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৮ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে নজির হোসেন সুনামগঞ্জ-১ আসনে প্রথম নির্বাচন করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের প্রেক্ষাপটে ১৯৯৩ সালে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৯৬ ও ২০০১ সালেও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালের নির্বাচনে বিশিষ্ট পার্লামেন্টারিয়ান খ্যাত জাতীয় নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে হারিয়ে দিয়েছিলেন। ভোটের রাজনীতিতে সেই হারজিত ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। বলা হয়েছিল ‘নজিরের নজিরবিহীন বিজয়’। বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে শীর্ষ নেতা হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন। সাংগঠনিক দক্ষতার জনপ্রিয়তায় নজির হোসেন দলীয় কাউন্সিলরদের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। তার সেই বিজয়ে বিএনপির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাচনি এলাকা পরিদর্শন করেছিলেন।

এরপর ২০০৮ সালে ও সর্বশেষ ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন নজির হোসেন। সর্বশেষ দুটো নির্বাচনে জয়ী হতে না পারার জন্য পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের ভোটাধিকার হরণকে দায়ী করেন তার সমর্থকরা।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত