০২ জানুয়ারি, ২০২৬ ২৩:৫৩
হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে ছাত্রলীগের পুরনো কমিটিতে থাকা এনামুল হাসান নয়ন নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ। তাকে ছাড়াতে থানায় গিয়ে পুলিশের সাথে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কয়েকজন নেতা।
বৃহস্পতিবার রাতে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় এই উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। তবে শুক্রবার এ ঘটনার একটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ওই ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, থানার ওসিসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্যের সামনে বসে আছেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কয়েকজন নেতাকর্মী। পুলিশের সাথে তারা উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় করছেন।
এসময় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের এক নেতাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা এই গভমেন্ট আমরা গঠন করেছি। অথচ আপনি আমাদের ছেলেদের ধরে নিয়ে আসছেন। আবার এখন বার্গেনিং করছেন।’
ওই নেতা আরও বলনে, ‘এখানে ১৭ জন শহীদ হয়েছে। সবচেয়ে ক্রুশাল আন্দোলন যেসব জায়গায় হয়েছে সেখানে হবিগঞ্জ একটা। বানিয়চং থানা কিন্তু আমরা পুড়াই দিছিলাম, এসআই সন্তোষকে জ্বালাই দিছিলাম। এখন কোন সাহসে তাদের ধরে নিয়ে আসা হলো আমি জানতে চাই’।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পুলিশের সামনে এমন কথা বলা ব্যক্তির নাম মাহদী হাসান। তিনি বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা সাধারণ সম্পাদক।
বৈষম্য বিরোধী নেতাদের তদবিরের পর শুক্রবার নয়নকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে শায়েস্তাগঞ্জ থানা থেকে ছাড়া পান নয়ন। এর আগে বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) রাত ১২টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করে পুলিশ।
জানা গেছে, এনামুল হাসান নয়ন শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার কলিমনগর গ্রামের আনোয়ার আলীর ছেলে। উপজেলা ছাত্রলীগের ২০২৩ সালের কমিটিতে সহসভাপতি হিসেবে তার নাম রয়েছে। তবে গত বছরের জুলাই-আগস্টে হওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে তিনি সক্রিয় ছিলেন।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জহিরুল ইসলাম আটক করে থানায় নিয়ে যান নয়নকে। খবর পেয়ে শুক্রবার দুপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রআন্দোলনের কর্মীরা তার মুক্তির দাবিতে থানায় জড়ো হন।
সংগঠনের হবিগঞ্জ জেলা সাধারণ সম্পাদক মাহদী হাসানের নেতৃত্বে থানার ওসি আবুল কালামের সাথে আলোচনায় বসেন নেতৃবৃন্দ। এ সময় তাদের মধ্যে উত্ত্যপ্ত বাক্য বিনিময়ের ঘটনা ঘটে।
শুক্রবার দুপুর আড়াইটার দিকে জেলা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহীদুল ইসলাম ঘটনাস্থলে যান। পরে বিকেল ৩টার দিকে নয়নকে মুক্তি দেওয়া হয়।
মাহদী হাসান বলেন, ছাত্রলীগের কমিটিতে নাম থাকলেও স্বৈরাচার পতনের আন্দোলনে নয়ন সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন। মৃত্যু উপত্যকায় দাড়িয়ে নয়ন আমাদের সাথে লড়াই করে গেছেন।
তবে পুলিশের সামনে দেওয়া বক্তব্য নিয়ে তিনি কোন মন্তব্য করতে চাননি।
এ ব্যাপারে শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম বলেন, ছাত্রলীগের কমিটিতে নাম থাকায় নয়নকে আটক করা হয়েছিল। তবে আন্দোলনে অংশগ্রহণের বিষয়ে তথ্যপ্রমাণ পাওয়ায় পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের বানিয়াচং থানায় এসআই সন্তোষকে পিটিয়ে হত্যা করে উত্তেজিত জনতা। এরপর তার লাশ গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। এরআগে সংঘাত থামাতে পুলিশের গুলিতে ওই এলাকায় ৯ জন নিহত হন।
গত ২৫ জুলাই এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন করে বিবিসি বাংলা। এতে থানায় বাছাই করে পুলিশ কর্মকর্তা সন্তোষকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ তোলা হয়।
আপনার মন্তব্য