নিজস্ব প্রতিবেদক

০৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ২২:৫৯

এমএ মালিকের মনোনয়ন বৈধ হলে আমারটা কেন হবে না, প্রশ্ন এহতেশামের

বিএনপির প্রার্থী এমএ মালিকের মনোনয়নপত্র বৈধ হলে আমারটা কেন হবে না, এমন প্রশ্ন তুলেছেন সিলেট-১ আসনের এনসিপির প্রার্থী ও দলটির সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এহতেশামুল হক।

এমএ মালিক ও এহতেশামুল হক- দুজনই দীর্ঘদিন যুক্তরাজ্যে ছিলেন। এরমধ্যে এমএ মালিক সিলেট-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত ও এহতেশাম সিলেট-১ আসনে এনসিপি মনোনীত প্রার্থী।

দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে জটিলতার কারণে শনিবার দুজনেরই মনোনয়নপত্র স্থগিত করা হয়। তবে রোববার মালিকের মনোনয়নপত্র বৈধ ও এহতেশামের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন সিলেটের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম।

তিনি জানান, দ্বৈত নাগরিক এহতেশাম যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব ছাড়ার কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। তাই তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। আর এমএ মালিক যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব ছাড়ার কাগজ জমা দেওয়ায় তার মনোনয়নপত্র গৃহীত হয়েছে।

তবে রিটার্নিং কর্মকর্তার এমন সিদ্ধান্তে ক্ষোভ জানিয়ে এহতেশাম বলছেন, রিটার্নিং কর্মকর্তা দুই প্রার্থীর জন্য দু ধরণের নীতি অবমল্বন করেছেন। তিনি নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে পারেননি।

মনোনয়ন বাতিলের প্রতিক্রিয়ায় রোববার সন্ধ্যায় এহতেশামুল হক সিলেটটুডে বলেন, আমি ও এমএ মালিক দুজনই যুক্তরাজ্যের নাগরিক ছিলাম। আমরা দুজনই সেদেশের নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন করেছি। তবে সে দেশের হোম অফিস থেকে এখনো এ ব্যাপারে কোন ক্লিয়ারেন্স দেওয়া হয়নি। ফলে এ সংক্রান্ত কোন কাগজপত্র জমা দিতে পারিনি।

এনসিপির এই নেতা বলেন, যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব ছাড়তে এমএ মালিক তার সলিসিটিরের মাধ্যমে আবেতন করেছিলেন। আর আমি নিজেই হোম অফিসে আবেদন করেছিলাম। রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে এমএ মালিক তার সলিসিটরের সাক্ষর করা এই আবেদনটি জমা দেন। আর আমি নিজের সাক্ষরিত আবেদনটি জমা দেই। অথচ রিটার্নিং কর্মকর্তা আমরা বাতিল করে এমএ মালিকেরটা গ্রহণ করেন।

একারণে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এহতেশাম বলেন, বাতিল হলে দুজনেরই কিংবা গৃহীত হলে দুজনেরই হওয়ার কথা। কিন্তু দুজনের ক্ষেত্রে দুই সিদ্ধান্তের কারণে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এমন আচরণে আমি হতাশ।

এহতেশাম সিলেটটুডেকে আরও বলেন, আমি তো আন্ডাডগ। আমার ক্ষমতা নাই, বড় দল নাই। তাই আমার সাথে এমন অবিচার করা হলো।

রিটার্নিং কর্মকর্তার এমন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবেন বলেও জানান তিনি।

এদিকে, রাতে এ বিষয়ে নিজের ফেসবুকে পোস্ট করা এক বিবৃতিতে এহতেশামুল হক লিখেন- সিলেটের মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা ও লয়াল্টি থেকেই আমি জোটের পক্ষ থেকে সুনামগঞ্জ–৩ আসনে প্রার্থিতার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করি এবং সিলেট–১ আসন থেকেই দলের প্রাথমিক মনোনয়ন গ্রহণ করি।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আমি পূর্ণ সততা, স্বচ্ছতার সাথে আমার আবেদন দাখিল করি। রিটার্নিং অফিসার ছুটির সময়ে একটি একনলেজমেন্ট দিতে না পারার অজুহাতে আমার আবেদন বাতিল করেছেন।

তাঁর সিদ্ধান্তের প্রতি আমার সম্মান থাকলেও, এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে, এই ব্যবস্থায় সততা অনেক সময় শাস্তিযোগ্য অপরাধ হয়ে দাঁড়ায়।

দ্বৈত নাগরিকত্বধারী ইউকে বিএনপির সদ্য সাবেক প্রেসিডেন্ট এম এ মালেক, সাধারণ সম্পাদক কয়সর আহমেদসহ সারা দেশের আরও ডজনখানেক প্রার্থীদের অভিনন্দন। তাঁরা হয়তো এই সিস্টেমের সঙ্গে ডিল করতে পেরেছেন। নির্বাচন কমিশনের দক্ষতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে আর কথা বলার কিছু নেই।

প্রশ্ন হলো, এই কঠোরতা কি সারা দেশের সব প্রার্থীর ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রয়োগ হয়েছে? বড় দলের প্রার্থীদের ক্ষেত্রেও কি একই স্বচ্ছতা, একই স্ক্রুটিনি, একই সাহস দেখানো হয়েছে? নাকি ‘উপরে থেকে আসা ফোন’-ই এখনো নির্বাচনী যোগ্যতার মাপকাঠি?

আরও নির্মম সত্য হলো, দ্বৈত নাগরিকত্বধারী বাংলাদেশিরা সংবিধান সংশোধনে নেতৃত্ব দিতে পারেন, ভোট দিতে পারেন, প্রধান বিচারপতি বা সিটি মেয়র হতে পারেন; অথচ সংসদ সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে তাঁদের অযোগ্য ঘোষণা করা হয়।

আমাদের রাজনীতি কখনোই ক্ষমতার সিঁড়ি ছিল না, নয়ও। আমাদের সংগ্রাম রাষ্ট্রের কাঠামোগত সংস্কার, নাগরিকের মর্যাদা, অধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। এই সংগ্রাম কারো মনোনয়ন বাতিল হলে থেমে যায় না।

দলীয় শৃঙ্খলা ও অনুগত্য বজায় রেখে জাতীয় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আমার দলের অবস্থান নিয়ে আমি কোনো মন্তব্য করবো না। তবে সিলেট বিভাগের পাঁচটি ইউনিটের সকল নেতাকর্মীদের প্রতি স্পষ্ট আহ্বান—এই কঠিন সময়ে ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। সবাই “হ্যাঁ” ভোটের ক্যাম্পেইনের জন্য প্রস্তুত হোন এবং কেন্দ্রীয় নির্দেশনার জন্য প্রস্তুত থাকুন।

“সিলেট ফার্স্ট” কোনো স্লোগান নয়—এটি একটি রাজনৈতিক অবস্থান। সিলেটের মানুষের নাগরিক জীবনমান উন্নয়নে এনসিপি থামবে না। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের নামমাত্র পরিসর বৃদ্ধি করে পর্যাপ্ত বাজেট না দেওয়া, নাগরিক সেবায় দুর্নীতি ও প্রশাসনিক হয়রানি—এসবের বিরুদ্ধে আমার রাজনৈতিক ও নাগরিক লড়াই অব্যাহত থাকবে।

দেশে ও প্রবাসে এনসিপি ও শাপলা কলির সকল সমর্থকদের ধন্যবাদ। আপনাদের সমর্থনই আমাদের শক্তি।
ইনকিলাব জিন্দাবাদ।

প্রসঙ্গত, শনিবার সিলেটের ৫ প্রার্থীর মনোয়নপত্র স্থগিত হয়েছিলো। এদের মধ্যে বিএনপির এমএ মালিক, এনসিপির এহতেশাম ও সিলেট-৬ আসনের গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী জাহিদুর রহমানের মনোনয়নপত্র স্থগিত করা করা হয়েছিলো দ্বৈত নাগরিকত্ব ছাড়ার কাগজপত্র জমা না দেওয়ার কারণে।

আর সিলেট-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী ফয়সল আহমদ চৌধুরী ও সিলেট-৪ আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী মুজিবুর রহমানের মনোনয়ন স্থগিত হয়েছিলো অনান্য কাগজপত্রের অপ্রতুলতার কারণে।

তবে রোববার এহতেশাম ছাড়া ৪ জনের মনোনয়নপত্রই গৃহিত হয়।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত