নবীগঞ্জ প্রতিনিধি

২৩ ফেব্রুয়ারি , ২০২৬ ২২:২৭

এলপিজি গ্যাসের সিলিন্ডারের তীব্র সঙ্কট, বাড়তি টাকায়ও মিলছে না

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় এলপি গ্যাসের সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো নবীগঞ্জসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে গ্যাস সংকটের ভোগান্তি বাড়ছে। সেই সুযোগে সরকার নির্ধারিত মূল্য আমলে না নিয়ে ইচ্ছে মতো দাম চড়িয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এরপরও পাওয়া যাচ্ছে না সিলিন্ডার গ্যাস।

সরকার এলপি গ্যাসের ভ্যাট প্রত্যাহার করে প্রজ্ঞাপন জারি করলেও বাজারে এর কোনো প্রভাব পড়েনি। নবীগঞ্জের বিভিন্ন বাজারে দুই হাজার থেকে তিন হাজার টাকায়ও সিলিন্ডার গ্যাস মিলছে না। গ্যাস সংকট চরম আকার ধারণ করায় বেকায়দায় পড়েছে সাধারণ মানুষ। গ্রামাঞ্চলের বাজারগুলোতে পরিস্থিতি আরও জটিল।

এদিকে ব্যবসায়ীদের দাবি, সিন্ডিকেটের কারণে নয়, গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বেড়েছে– সরবরাহ ও মজুতের সংকট এ কারণে। বাড়তি দামে কিনে তাদের বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

খুচরা পর্যায়ে প্রতিটি সিলিন্ডার গ্যাস দুই হাজার থেকে শুরু করে তিন হাজার টাকা দরে বিক্রি হলেও এখন গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না বলে ক্রেতারা জানিয়েছেন। শনিবার নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি, বালিদ্বারা ও গোপলার বাজার ঘুরে দেখা যায়, কোনো দোকানে সিলিন্ডার গ্যাস নেই। ১৫ দিন ধরে এসব দোকানে কোনো নতুন সিলিন্ডার আসছে না। ফলে নবীগঞ্জের মফস্বলের বাজারগুলোতে চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

কাজল মিয়া নামে এক গ্রাহক বলেন, অতিরিক্ত টাকা হলেও গ্যাস মিলছে না। টাকার কাছে গ্যাস সংকট বড় হয়েছে। গ্যাস ছাড়াই ১৫ দিন ধরে রান্নার কাজ চলছে। গোপলার বাজার এলাকার এলপিজি গ্যাস ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াহিদ বলেন, ১৫ দিন ধরে নবীগঞ্জে কোনো গ্যাস সিলিন্ডার আসেনি, তাই তারা গ্যাসশূন্য ব্যবসা করছেন। তিন হাজার কেন, পাঁচ হাজার টাকা হলেও গ্যাস দিতে পারছেন না।

গ্যাস সিলিন্ডারের কয়েকজন ডিলারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কোম্পানির শিডিউল অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ করা হয়। রমজান মাসে কোম্পানির সরবরাহ একটু বাড়ানোর কথা; কিন্তু এখনও গ্যাস আসছে না। সাধারণ মানুষ গ্যাসের জন্য হাহাকার করছেন, তারা গ্যাস দিতে পারেন না।

আউশকান্দি বাজারের এলপি গ্যাগের ডিলার আজমান আলী বলেন, গ্যাস বিক্রি বন্ধ রেখেছেন। ঢাকা থেকে অগ্রিম টাকা পাঠিয়েও গ্যাস পাচ্ছেন না। রমজানের সময় চাহিদা বেশি হলেও গ্যাসের সংকট চরম বেকায়দায় ফেলেছে ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের। ডিলারদের তথ্যমতে, নবীগঞ্জে অন্তত বিভিন্ন গ্রামে ১৫ হাজার আবাসিক পরিবার, এক হাজার হোটেল-রেস্তোরাঁ ও চায়ের দোকানে এলপি গ্যাস ব্যবহার করা হয়। গ্যাসের সংকটের কারণে তারা চরম বিপাকে পড়েছেন।

গ্যাস সিলিন্ডারের ক্রেতা নবীগঞ্জ শহরের বাসিন্দা গিয়াস মিয়া বলেন, গ্যাসের সংকট এমন আকার ধারণ করেছে, সারা নবীগঞ্জ ঘুরে গ্যাস পাইনি, পরে হবিগঞ্জ সদর থেকে তিন হাজার টাকা দিয়ে ১২ কেজি সিলিন্ডার নিয়ে এসেছি।

সরকার এক সিলিন্ডার গ্যাসের দাম এক হাজার ৩৫৬ টাকা নির্ধারণ করেছে। তারপর ভ্যাট প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এতে বাজারে গ্যাসের দাম কমার কথা। বাজারে সরকার নির্ধারিত মূল্যে গ্যাস বিক্রি হচ্ছে না। এমনকি ভ্যাট প্রত্যাহারের কোনো প্রভাবও পড়েনি বাজারে, তার আগেই গ্যাস উধাও।

শহরের ওসমানী সড়ক এলাকার বাসিন্দা মুকিত মিয়া বলেন, সব দোকানে গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। বিভিন্ন দোকান ঘুরে গ্যাসের একটা সিলিন্ডারও কিনতে পারিনি।

দেবপাড়া বাজার পেট্রোল পাম্পসংলগ্ন এলাকার হোটেল ব্যবসায়ী আল আমিন বলেন, রমজানের শুরুতে লেবু, শসা, মাছ, মাংসসহ প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে। সেই সঙ্গে গ্যাসের সংকট ও দাম বৃদ্ধিতে তাঁর আয়ের সঙ্গে ব্যয় সংগতিপূর্ণ নয়। এখন টিকে থাকাই দুষ্কর হয়ে পড়েছে।

বসুন্ধরা কোম্পানির ডিলার একতা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী জুয়েল আহমদ বলেন, কোম্পানির শিডিউল অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ করা হয়। তাদের চাহিদা মতো গ্যাস সরবরাহ করা হয় না।

রমজান মাসে কোম্পানির সরবরাহ এখনও আসেনি। প্রতিদিন যেখানে শতাধিক সিলিন্ডার বিক্রি করেন, সেখানে গ্যাস নেই ১২ থেকে ১৪ দিন ধরে। আগে তারা প্রতি সিলিন্ডার গ্যাস দূরত্ব ভেদে ক্ষুদ্র ব্যাবসায়ীদের কাছে এক হাজার ৮০০ টাকা থেকে দুই হাজার টাকা দরে বিক্রি করেছেন।

নবীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রত্যয় হাশেম বলেন, আমরা অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রির জন্য ইতোমধ্যে নবীগঞ্জের বিভিন্ন বাজারে অভিযান পরিচালনা করে বেশ কয়েকজন সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবসায়ীকে জরিমানা ও সাজা প্রদান করেছি। নবীগঞ্জে যতগুলো ডিলার আছে, তাদের এখন গ্যাস সংকট কেন্দ্র থেকে। সেখান থেকে অতিরিক্ত দামে নিয়ে আসে বলে বেশি দামে বিক্রি করছে। বর্তমানে নবীগঞ্জে সব ডিলারের মাঝে গ্যাসের সংকট রয়েছে।

হবিগঞ্জ জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অফিসের সহকারী পরিচালক শ্যামল পুরকায়স্থ বলেন, এ ব্যাপারে তারা নিয়মিত মনিটরিং চালাচ্ছেন। এ ছাড়া বাজার নিয়ন্ত্রণে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত