নিজস্ব প্রতিবেদক

২৩ ফেব্রুয়ারি , ২০২৬ ২৩:২১

লন্ডন প্রবাসী শফি হত্যার নেপথ্যে মোটরসাইকেল নিয়ে দ্বন্দ্ব

একটি মোটর সাইকেল নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরেই সিলেটে লন্ডন প্রবাসী বোরহান উদ্দিন শফিকে হত্যা করে লাশ আগুনে পুড়ানো হয়েছে।

শফি হত্যা মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তারের পর দুজনের আদালতে দেওয়া জবানবন্দির ভিত্তিতে এমনটি জানিয়েছে পুলিশ।

মোটরসাইকেল নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরেই প্রবাসী শফিকে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশের ক্রাইম এন্ড অপস বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাকির হোসাইন।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- সিলেটের জকিগঞ্জের ইলাবাজ গ্রামের আব্দুস সামাদ দুলনের ছেলে সাব্বির আহমদ (২১), নারায়নগঞ্জের পূর্বাচল এলাকার সৈয়দ মুহিবুর সামাদ শাহীনের ছেলে সৈয়দ মেহরাজ উজ সামাদ শোভন (২০) ও জকিগঞ্জের ঘেচুয়া গ্রামের আবদুল হকের ছেলে তাহিরুল হক (২০)।

পুলিশ জানায়, যুক্তরাজ্য প্রবাসী বুরহান উদ্দিন শফির গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর হলেও তিনি সিলেট নগরীর আম্বরখানা এলাকার একটি বাসায় থাকতেন। গেল প্রায় ৬-৭ মাস আগে যুক্তরাজ্যে ফিরে যাওয়ার সময় তিনি তাঁর ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি সৈয়দ মেহরাজ উজ সামাদ শোভনের কাছে রেখে যান।
যুক্তরাজ্যে ফেরার পর তিনি মোটরসাইকেলটি অন্য একজনকে দিয়ে দিতে বলেন। কিন্তু শোভন তাতে রাজি হয়নি। সে মোটরসাইলেকটি বিক্রি করে দিতে চায়। এ নিয়ে প্রবাসী শফির সাথে শোভনের তিক্ততা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা চরমে পৌঁছায়। গত ২৮ জানুয়ারি শফি দেশে ফেরার খবর পেয়ে ২৫ জানুয়ারি শোভন তাকে হত্যার পরিকল্পনা নেয়।

৩০ জানুয়ারি শফি কুলাউড়ায় যাওয়ার জন্য সিলেট নগরীর বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় জিডি করা হয়। ৩ ফেব্রুয়ারি জকিগঞ্জ উপজেলার কোনারবন্দ হাওর থেকে শফির অগ্নিদগ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাকির হোসাইন জানান, মামলাটি গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তরের পর গত শুক্রবার মামলার প্রধান আসামী সাব্বির আহমদকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যমতে, প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে শনিবার নারায়ণগঞ্জের পূর্বাচল এলাকা থেকে শোভনকে ও সিলেট থেকে তাহিরুল হককে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে সাব্বির ও শোভন আদালতে হত্যাকান্ডে নিজেদের সংশ্লিষ্টতার ব্যাপারে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত