২৪ ফেব্রুয়ারি , ২০২৬ ১৩:৩০
নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তারের পর মারা গেছেন বিশ্বজুড়ে ‘এল মেনচো’ নামে পরিচিত মেক্সিকোর অন্যতম ক্ষমতাধর এবং মোস্ট ওয়ান্টেড ‘মাদকসম্রাট’ নেমেসিও ওসেগুয়েরা সার্ভান্তেস। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই মেক্সিকোর অন্তত ২০টি রাজ্যে নজিরবিহীন সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং কার্টেল সদস্যদের তাণ্ডব থামাতে দেশজুড়ে প্রায় সাড়ে ৯ হাজার সেনা মোতায়েন করেছে মেক্সিকো সরকার। খবর রয়টার্স।
মেক্সিকোর প্রতিরক্ষা সচিবে ভাষ্য, দেশটির কর্তৃপক্ষ বিশ্বের অন্যতম মোস্ট ওয়ান্টেড মাদক পাচারকারী 'এল মেনচো'-কে শনাক্ত করে হত্যা করতে সক্ষম হয়েছে। এক মনোরম পাহাড়ি শহরের কাছে তার গোপন আস্তানায় পৌঁছানোর জন্য গোয়েন্দারা তার এক নারী সঙ্গিনীকে অনুসরণ করেছিলেন।
এক সংবাদ সম্মেলনে কর্মকর্তারা ওই অভিযানের প্রথম বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। এই অভিযানের ফলেই মেক্সিকোর সবচেয়ে শক্তিশালী সংগঠিত অপরাধচক্র 'জালিস্কো নিউ জেনারেশন কার্টেল (সিজেএনজি)'–এর শীর্ষ নেতা নিহত হন। এই কার্টেলটি বর্তমানে দেশটির অন্যতম প্রভাবশালী অপরাধী সংগঠন হিসেবে পরিচিত।
রোববার পরিচালিত এই অভিযানের পর কার্টেলের সশস্ত্র সদস্যরা পাল্টা সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ে। তাদের প্রতিশোধমূলক হামলার জেরে পশ্চিম মেক্সিকোর বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্রায় অচল হয়ে পড়ে এবং জনজীবন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়।
৫৯ বছর বয়সী কার্টেল নেতা, যার প্রকৃত নাম ছিল নেমেসিও রুবেন ওসেগুয়েরা সেরভান্তেস, তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালানোর সময় মেক্সিকান সামরিক বাহিনীর অভিযানে মারাত্মকভাবে আহত হন। এই অভিযানটি ওয়াশিংটনের গোয়েন্দা সহায়তায় পরিচালিত হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে তার দক্ষিণের প্রতিবেশী দেশটির ওপর চাপ দিয়ে আসছিল, যাতে ফেন্টানিল, মেথঅ্যামফেটামিন ও কোকেইন পাচারকারী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
প্রতিরক্ষা সচিব রিকার্ডো ত্রেভিয়া ত্রেখো জানান, গুয়াদালাহারা থেকে প্রায় ৮০ মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে তাপালপা শহরের বাইরে একটি বনাঞ্চলে অবস্থিত কেবিনটি যখন সামরিক বাহিনী ঘিরে ফেলে, তখন এল মেনচোর দেহরক্ষীরা সেনাবাহিনীর ওপর গুলিবর্ষণ শুরু করে।
গোলাগুলির মুখে একটি হেলিকপ্টার জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়—যা ২০১৫ সালে এল মেনচোকে ধরার একটি ব্যর্থ প্রচেষ্টার স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়, যখন তার বন্দুকধারীরা রকেট-চালিত গ্রেনেড দিয়ে একটি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করেছিল।
লড়াই চলাকালীন এল মেনচো কেবিন থেকে পালিয়ে পাশের বনে চলে যান, সেখানে তিনি আহত অবস্থায় ধরা পড়েন। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য মেক্সিকো সিটিতে স্থানান্তরের সময় তার মৃত্যু হয়।
বন্দুকযুদ্ধে এল মেনচো ছাড়াও তার সাতজন সহযোগী নিহত হয়েছেন এবং দুজন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে রাইফেল এবং গ্রেনেড লঞ্চার জব্দ করা হয়েছে।
এই অভিযানের পরপরই সারা মেক্সিকো জুড়ে সহিংসতার ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে। কার্টেলের সশস্ত্র সদস্যরা প্রায় ১০০টি প্রধান সড়ক অবরোধ করে, যানবাহনে আগুন দেয় এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা চালায়, বিশেষ করে জালিস্কো ও মিচোয়াকান রাজ্যে।
নিরাপত্তামন্ত্রী ওমর গার্সিয়া হারফুচ জানান, এই সংঘর্ষে ন্যাশনাল গার্ডের ২৫ জন সদস্য নিহত এবং ১৪ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া ৩৪ জন বন্দুকধারী এবং একজন পথচারী নিহত হন। দেশজুড়ে আরও ৭০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ত্রেভিয়া নিশ্চিত করেছেন যে, এল মেনচোর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হুগো সিজার মাসিয়াস উরেনা ওরফে 'এল তুলী', যিনি নেতার মৃত্যুর পর ব্যাপক সহিংসতার সমন্বয় করেছিলেন এবং এমনকি প্রতিটি মৃত সেনার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করেছিলেন— তিনিও এক সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন।
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শিনবাউম বলেন, 'মেক্সিকো এখন শান্ত ও স্থিতিশীল রয়েছে এবং আমরা সব রাজ্যে কাজ করে যাচ্ছি।'
তা সত্ত্বেও মিচোয়াকানে এখনও বিক্ষিপ্তভাবে যানবাহন পোড়ানোর খবর পাওয়া যাচ্ছে এবং সতর্কতা হিসেবে অনেক রাজ্যে স্কুলগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে। কিছু বিমান সংস্থা এখনও জালিস্কোর গুয়াদালাহারা ও পুয়ের্তো ভাল্লার্তা শহরে স্বাভাবিক পরিষেবা শুরু করতে পারেনি, কারণ এই শহরগুলোই কার্টেলের রোষানলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গুয়াদালাহারাভিত্তিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক স্টিফেন উডম্যান বলেন, রোববার সকালে অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই সহিংসতা 'খুব দ্রুত শুরু হয়ে গিয়েছিল'।
উডম্যান বলেন, 'বড় কোনো নেতার গ্রেপ্তারের মতো ঘটনায় দ্রুত সমন্বিতভাবে সর্বোচ্চ পরিমাণ গোলযোগ সৃষ্টির পরিকল্পনা এই গোষ্ঠীগুলোর আগে থেকেই করা থাকে। সব জায়গা থেকে যে ধরনের গোলযোগের খবর আসছিল, তা সত্যিই সামাল দেওয়া কঠিন ছিল।'
আতঙ্কের এই মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রচুর ভুল তথ্য, যার মধ্যে কিছু ছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ছবি ও ভিডিও। তিনি বলেন, 'সবকিছু নিয়েই সন্দেহ করতে হচ্ছিল।'
বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ায় জালিস্কোর গভর্নর পাবলো লেমুস নাভারো রাজ্যের ৮০ লাখ নাগরিককে বাড়িতে থাকার আহ্বান জানান এবং গণপরিবহণ ব্যবস্থা স্থগিত করেন।
গুয়াদালাহারার উত্তর প্রান্তে তানিয়া দিতমার নামে এক প্রশিক্ষণার্থী চিকিৎসক আতঙ্কে আলমারির ভেতর লুকিয়ে ছিলেন। তখন তার বাড়ির কাছেই ন্যাশনাল গার্ডের একটি ঘাঁটিতে কার্টেল বন্দুকধারীরা হামলা চালালে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে বন্দুকযুদ্ধ চলে।
দিতমার বলেন, 'আমি নেটফ্লিক্সে একটি সিরিজ ছেড়ে দিয়ে সকালের নাস্তা তৈরি করছিলাম। প্রথমে ভেবেছিলাম পাশের কোনো নির্মাণকাজের জায়গা থেকে ড্রিল মেশিনের শব্দ আসছে। কিন্তু আমার ছয়টি কুকুর খুব অস্থির হয়ে পড়ল। আমি সিরিজটি থামিয়ে দিলাম এবং বুঝতে পারলাম এগুলো আসলে বন্দুকের গুলির শব্দ।'
তিনি বলেন, 'এর আগে আমি কখনোই সরাসরি গুলির শব্দ শুনিনি।' এরপর শব্দের ধরন বদলাতে শুরু করল—মনে হচ্ছিল শব্দগুলো ক্রমশ কাছে আসছে। 'ঠিক তখনই আমি সত্যিই খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম।'
ন্যাশনাল গার্ড পিকআপ ট্রাক ও হেলিকপ্টার নিয়ে অতিরিক্ত বাহিনী পাঠায়। শেষ পর্যন্ত একসময় গোলাগুলি থেমে যায়। এরপর সেই নিস্তব্ধতা ভেঙে ভেসে আসতে শুরু করে অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেনের শব্দ।
দিতমার সেই ঘটনার পর থেকে ঘর থেকে খুব একটা বের হননি। উডম্যান রোববারের বিকেলে যখন তার এলাকায় পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলো, তখন একটু বাইরে বেরিয়েছিলেন। তিনি বলেন, 'পরিবেশটা ছিল এক অদ্ভুত রকমের শান্ত: সবকিছু বন্ধ, কোনো যানবাহন নেই। কিন্তু বাতাসের মধ্যে ছিল ধোঁয়ার তীব্র গন্ধ।'
রোববারের এই সহিংসতা মেক্সিকোর দ্বিতীয় বৃহত্তম শহরে আতঙ্ক ও ভীতি ছড়ানোর ক্ষেত্রে কার্টেলের সক্ষমতার এক উদ্বেগজনক স্মারক হিসেবে কাজ করেছে; যে শহরটি ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক হিসেবে নির্ধারিত।
অন্যান্য ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, পর্যটকরা যখন সৈকতে অবস্থান করছেন, ঠিক তখন পশ্চিম উপকূলের জনপ্রিয় রিসোর্ট শহর পুয়ের্তো ভাল্লার্তার আকাশে বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডলী উড়ছে—শহরটি এর চমৎকার প্যাসিফিক সৈকতগুলোর জন্য বিখ্যাত। শহরের বেশিরভাগ ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনগুলো ডজনখানেক ফ্লাইট বাতিল করে।
যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তর সোমবার এক ভ্রমণ সতর্কতায় জানায়, সেখানকার কর্তৃপক্ষ জনসাধারণকে ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে এবং বিমানবন্দরের রাস্তাগুলো অবরুদ্ধ থাকতে পারে বলে জানিয়েছে। মেক্সিকো সিটিতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসও একটি নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোতে তাদের নাগরিকদের 'যেখানে আছেন সেখানেই অবস্থান করার' আহ্বান জানিয়েছে।
স্থানীয় সাংবাদিক সুসানা কারেনো সারাদিন শহরজুড়ে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র নথিভুক্ত করেন। তিনি জানান, মোটরসাইকেলে করে আসা কালো পোশাক পরা, মুখ ঢেকে রাখা তরুণরা ২০০টির বেশি যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেয়।
কারেনোর ভাষ্য, পুয়ের্তো ভাল্লার্তায় এর আগে এমন কিছু কখনও ঘটেনি। তিনি বলেন, 'হয়তো কিছু পর্যটক এটিকে বিরল ও বিচ্ছিন্ন ঘটনা মনে করে চলে গেছেন। কিন্তু এ ধরনের দৃশ্য দেখার পর, সত্যি বলতে কী, আবার এখানে ফিরে আসতে খুব একটা আগ্রহ বোধ করবেন বলে মনে হয় না।'
বর্তমানে কারারুদ্ধ জোয়াকিন 'এল চাপো' গুজমানের সিনালোয়া কার্টেলের মতো আন্তর্জাতিকভাবে খুব বেশি পরিচিত না হলেও, জলিস্কো গ্রুপটি মেক্সিকোতে একটি অতি পরিচিত নাম। চরম সহিংসতার প্রদর্শন এবং বিশাল অস্ত্রভাণ্ডারের জন্য এই গোষ্ঠী কুখ্যাত। তারা সামরিক কুচকাওয়াজের আদলে নিজেদের শক্তি প্রদর্শনও করেছে।
প্রায় ১৬ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত এই কার্টেলটির বিরুদ্ধে মেক্সিকান সরকারি কর্মকর্তাদের হত্যার চেষ্টার অভিযোগও রয়েছে।এর মধ্যে অন্যতম ছিল ২০২০ সালে মেক্সিকো সিটির একটি অভিজাত এলাকায় নিরাপত্তামন্ত্রী ওমর গার্সিয়া হারফুচের ওপর হামলা। সেসময় তার গাড়িতে শত শত গুলি ছোড়া হয়, এতে তিনি আহত হন এবং তার দুই দেহরক্ষী ও একজন পথচারী নিহত হন।
এল মেনচোকে ধরতে যুক্তরাষ্ট্র ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার (প্রায় ১১ মিলিয়ন পাউন্ড) পুরস্কার ঘোষণা করেছিল। হোয়াইট হাউস নিশ্চিত করেছে যে অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র গোয়েন্দা সহায়তা দিয়েছে। দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তারা তার নিহত হওয়াকে স্বাগত জানিয়েছেন। দুই দেশের মধ্যে এক হাজার ৯৫৪ মাইল (তিন হাজার ১৪৫ কিলোমিটার) দীর্ঘ সীমান্ত দিয়ে মাদক ও অভিবাসীর প্রবাহ নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কয়েক মাসের চাপের পর এই ঘটনা ঘটল।
ট্রাম্প প্রশাসন জালিস্কো কার্টেলকে 'বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন' হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট দাবি করেছিলেন, কার্টেলগুলো 'মেক্সিকো পরিচালনা করছে'—এবং তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকিও দিয়েছিলেন।
মার্কিন উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখে এল মেনচোকে 'সবচেয়ে রক্তপিপাসু ও নির্মম মাদক সম্রাটদের একজন' বলে উল্লেখ করেন। তিনি আরও লেখেন, 'এটি মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র, লাতিন আমেরিকা এবং পুরো বিশ্বের জন্য একটি বড় ইতিবাচক অগ্রগতি।'
এল মেনচোর নিহত হওয়া মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউমের ওপর ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপ কিছুটা কমাতে পারে। তবে একই সঙ্গে এটি কার্টেলের ভেতরে ক্ষমতার শূন্যতা সৃষ্টি করতে পারে।
শেইনবাউম অতীতে 'মাদকবিরোধী যুদ্ধ' কৌশলের সমালোচনা করেছেন। তার মতে, সামরিক অভিযানের মাধ্যমে দমন-পীড়ন চালালে সাময়িকভাবে সহিংসতা বেড়ে যায়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত নতুন কার্টেল নেতা আবির্ভূত হয়—ফলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয় না।
জলিস্কো কার্টেল নিয়ে বই লিখেছেন এমন একজন সংগঠিত অপরাধ বিশেষজ্ঞ ক্রিস ডালবি বলেন, মেক্সিকো এখন যে বড় প্রশ্নের মুখোমুখি তা হলো—মৃত এই অপরাধীর স্থলাভিষিক্ত কে হবেন, আদৌ কেউ হতে পারবেন কি না।
ডালবি বলেন, 'যদি কেউ না পারে, যদি সিজেএনজি অবশেষে ভেঙে যায়, তবে আপনার কাছে চার বা পাঁচজন ভিন্ন কমান্ডার থাকবে যাদের নিজস্ব জনবল, অস্ত্রশস্ত্র এবং অপরাধ সাম্রাজ্য গড়ে তোলার মতো ক্ষমতা রয়েছে—আর এটি মেক্সিকোকে সহিংসতার এমন এক পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে যা প্রায় সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে।'
কিছু সূত্র এল মেনচোর সৎ ছেলে হুয়ান কার্লোসকে একজন সম্ভাব্য উত্তরাধিকারী হিসেবে উল্লেখ করেছে, যার কার্টেলটিকে ঐক্যবদ্ধ রাখার মতো যথেষ্ট সমর্থন রয়েছে। ডালবি বলেন, 'যদি তিনি সিজেএনজি-কে ঐক্যবদ্ধ করতে পারেন, তবে আমরা হয়তো সেই ধরণের গৃহযুদ্ধ এড়াতে পারব,' যদিও তিনি বিশ্বাস করেন যে এর কোনো গ্যারান্টি নেই।
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেনবাউম এই সফল অভিযানের জন্য সেনাবাহিনীর প্রশংসা করেছেন। তিনি জনগণকে আশ্বস্ত করে বলেছেন যে, পরিস্থিতি বর্তমানে সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সারা দেশে শান্তি বজায় রাখাই তার সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
উল্লেখ্য, এল মেনচোকে ধরার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ১৫ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল। এই অভিযানে কোনো মার্কিন সৈন্য সরাসরি অংশ না নিলেও মেক্সিকো সরকার স্বীকার করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া তথ্য এই মোস্ট ওয়ান্টেড অপরাধীকে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
আপনার মন্তব্য