০৭ মার্চ, ২০২৬ ২১:০৬
সিলেটের জকিগঞ্জে রাস্তার ইট লুটের ঘটনায় তোলপাড় চলছে। ইট লুটের ঘটনায় টাস্কফোর্সের অভিযানে আটকের পর ২৪ ঘন্টার মধ্যেই জামিন পেয়েছেন উপজেলা যুব জামায়াতের এক নেতাসহ ছয়জন।
শুক্রবার (৬ মার্চ) বিকেলে জকিগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান তারা। জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রাজ্জাক জামিনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে, জামিনের কোনো আদেশ থানায় পৌছায়নি বলে জানিয়েছেন ওসি।
এর আগে বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ইট লুটের ঘটনায় টাস্কফোর্সের অভিযানে ছয়জনকে আটক করা হয়। আটকরা হলেন, জকিগঞ্জের কসকনকপুর ইউনিয়নের বলরামেরচক গ্রামের মাহফুজুল ইসলাম চৌধুরী (২৫), বীরেন্দ্র দাস (৬৫), মিন্টু দাস (৩২), সাকিব আহমদ (১৮), ভজন দাস (২৯) ও আলতাফ আহমদ লস্কর (৬৫)। মাহফুজুল ইসলাম চৌধুরী উপজেলা যুব জামায়াতের সহসাংগঠনিক সম্পাদক।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২১ সালের জকিগঞ্জ উপজেলার কসকনকপুর ইউনিয়নের বলরামের চক, লক্ষীরায়ের চক, উত্তর আইয়র, চিনির চক ও আইয়র গ্রামের মানুষের চলাচলের একমাত্র সড়কের প্রায় আড়াই কিলোমিটার ইট সলিং করে সংস্কার করা হয়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অধীনে কাজটি করা হয়। তখন প্রায় ১০ লাখ ইট ব্যবহার করা হয়।
সম্প্রতি পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে সুরমা নদীর বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু হয়। বাঁধ সংস্কারের অংশ হিসেবে ওই রাস্তার ওপর মাটি ভরাট করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইট সরিয়ে মাটি ভরাটে অপারগতা দেখানোয় স্থানীয় ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আব্দুস সাত্তার মুঈন উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগযোগ করেন।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাটি ভরাটের আগে রাস্তার ইট খুলে সংরক্ষণ করার কথা বলা হয়। সে অনুযায়ী কিছু ইট তুলে মুন্সিবাজার মাদরাসার মাঠে রাখা হয়।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, পরে এসব ইট দিয়ে এলাকার বিভিন্ন রাস্তা মেরামতে ব্যবহারের বিষয়েও আলোচনা করেন ইউপি চেয়ারম্যান। আলোচনার এক পর্যায়ে বলরামের চক এলাকা থেকে সড়কের ইট নেওয়া শুরু করেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে জকিগঞ্জ থানাপুলিশ ঘটনাস্থলে এলে বন্ধ হয়ে যায় ইট লুট।
পরবর্তীতে লক্ষীরায়ের চক ও উত্তর আইয়র এলাকার কিছু সড়ক সংস্কারের জন্য উপজেলা যুব জমিয়তের সহসাংগঠনিক সম্পাদক মাহফুজুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে সড়ক থেকে ইট সরানো শুরু হয়। তখন মাহফুজ কোন এলাকা থেকে কে ইট নিবেন-এটা নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন বলে জানা যায়।
এক পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। গণহারে শুরু হয় ইট লুট। তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রতিবাদে নামেন মাহফুজ। এসময় তিনি উপজেলা প্রশানের সহযোগিতাও চান।
পরিস্থিতি সামাল দিতে গত বৃহস্পতিবার উপজেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে একটি টাস্কফোর্স অভিযান চালানো হয়। এসময় মাহফুজের বাড়ির সামনে থেকে কিছু ইট উদ্ধার করা হয়। পরে মাহফুজসহ ছয়জনকে আটক করা হয়।
তাঁরা হলেন জকিগঞ্জের কসকনকপুর ইউনিয়নের বলরামেরচক গ্রামের মাহফুজুল ইসলাম চৌধুরী (২৫), বীরেন্দ্র দাস (৬৫), মিন্টু দাস (৩২), সাকিব আহমদ (১৮), ভজন দাস (২৯) ও আলতাফ আহমদ লস্কর (৬৫)।
এ ঘটনার পর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. জসিম উদ্দিন বাদী হয়ে আটক ছয়জনসহ অজ্ঞাত আরও ৫০–৬০ জনকে আসামি করে জকিগঞ্জ থানায় ইট চুরির মামলা করেন। সেই মামলায় ছয়জনকে গ্রেফতার দেখিয়ে শুক্রবার তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়। পরে এদিনই তারা জামিনে মুক্ত হন।
জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রাজ্জাক বলেন, রাস্তা থেকে ইট লুটের ঘটনায় মামলা দায়েরর পর আটক ছয়জনকে গ্রেফতার দেখিয়ে জকিগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়। এদিনই তারা জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। তবে থানায় জামিনের কোনো আদেশ কপি আসেনি।
এদিকে, আটক হওয়ার আগে মাহফুজুল ইসলাম চৌধুরী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবি করেন, তিনি ইট লুটের সঙ্গে জড়িত নন। বরং ইট লুট বন্ধে তিনি প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন।
তাঁর দাবি, ইউনিয়ন পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কিছু রাস্তা মেরামতের জন্য ইট সংরক্ষণ করা হচ্ছিল। চুরি হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় কিছু ইট বাড়ির ভেতরে রাখা হয়েছিল।
কসকনকপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সাত্তার মুঈন বলেন, পাউবো বেড়িবাধের জন্য মাটি ভরাটের কাজ করবে। এজন্য ইটগুলো সরিয়ে অন্যান্য সড়ক সংস্কারের জন্য এলাকাবাসী মতামত দেন। সকলের মতামত নিয়ে উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়। কিন্তু এরমধ্যেই ইট লুটপাট শুরু হয়। পরে লুট ঠেকাতে আমরা থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করেছি। মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে সবাইকে ইট লুট না করতে বলা হয়েছে। তবুও লুটপাট হয়েছে।
জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসিুদুর রহমান বলেন, যাদেরকে আটক করা হয়েছে, ইট লুটপাটে তাদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। মামলার এজহারেও উল্লেখ রয়েছে। বর্তমানে ইটগুলো আমাদের হেফাজতে রয়েচে। তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আপনার মন্তব্য