১২ এপ্রিল, ২০২৬ ১৯:৩২
সুনামগঞ্জের দেখার হাওরে পানিতে অনেক কৃষকের চাষকৃত ধানী জমি ডুবে আছে। নষ্ট হয়ে গেছে ফসল। ফলে কৃষকরা গো-খাদ্য হিসেবে কাঁচা ধান কেটে নিচ্ছেন।
এ অবস্থায় রবিবার দুপুরে দেখার হাওরের উথারিয়া বাঁধ পরিদর্শনে যান সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এড. নূরুল ইসলাম নুরুল ও সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া।
পরিদর্শকোলে উত্তেজিত কৃষকদের দাবির মুখে বাঁধ কেটে হাওরের জলাবদ্ধতার পানি বের করার অনুমতি দিয়েছেন সংসদ সদস্য ও জেলা প্রশাসক। দেখার হাওরের আস্তমা-আসামপুর অংশে উথারিয়া বাঁধ কেটে মহাসিং নদীতে পানি বের করে দেওয়ার কথা বলেছেন তারা।
এসময় বাঁধে কোদাল দিয়ে প্রতীকী মাটি কেটে বাঁধ কাটার সূচনা করেন সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম। পরিদর্শনে গিয়ে তুমুল কালবৈশাখীর কবলে পড়েন পুরো পরিদর্শন টিম।
জানা যায়, দেখার হাওরের সুনামগঞ্জ সদর, ছাতক, দোয়ারাবাজার ও শান্তিগঞ্জ উপজেলা অংশে প্রায় ৩৫ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ করা হয়েছে। হাওরের বেশ কিছু অংশে বৃষ্টির পানি জমে হাওরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে যা অনেক কৃষকের ধানের ব্যপক ক্ষতি করেছে৷ দীর্ঘদিন ধরে হাওরের বেড়িবাঁধ কেটে জলাবদ্ধতার পানি বের করার আবেদন করে আসছেন কৃষকরা।
শনিবার পানির চাপে হাওরের মেলানী কিত্তায় গুজাউনী বাঁধ ভেঙে নদী, খাল ও ডুবরার পানি ফসলি জমিতে প্রবেশ করতে থাকে। শনিবার গুজাউনীতে কৃষকদের একটাই দাবি ছিলো, উথারিয়া বাঁধ কেটে মহাসিং নদীতে পানি বের করে দেওয়া। এরই প্রেক্ষিতে পরিদর্শনে আসেন সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম নূরুল ও জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসক সকলের সামনে কোন জায়গা কাটতে হবে তা দেখিয়ে দিয়েছেন এবং সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম নূরুল কোদাল দিয়ে মাটিতে কোপ দিয়ে মাটি চিহ্নিত করে দিয়েছেন।
এসময় সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আনছার উদ্দিন, ফারুক আহমদ, নাদির আহমদ, আবদুল হকসহ উপজেলা-জেলা প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা, জেলা ও শান্তিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ অনেক নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন৷
সংসদ সদস্য এড. নূরুল ইসলাম নুরুল ও জেলা প্রশাসন ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া উথারিয়া বেড়িবাঁধে পৌঁছানোর আগে আস্তমা, আসামপুর, কামরুপদলংসহ আশপাশের এলাকা থেকে শতাধিক কৃষক বাঁধে উপস্থিত ছিলেন। প্রচণ্ড বেগে তখন বৃষ্টি সমত কালবৈশাখী ঝড় শুরু হয়। বৃষ্টিতে ভিজে সংসদ সদস্য, ডিসি ও উপস্থিত নেতাকর্মীরা বাঁধ পরিদর্শন করেছেন। তখন অনেক কৃষক আগে বাঁধ কাটার অনুমিত না দেওয়ায় জেলা প্রশাসকের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন৷ তখন উত্তেজনার তৈরি হয়। পরিস্থিতি শান্ত করে বাঁধ কাটার স্থান দেখিয়ে দেন জেলা প্রশাসক। কৃষকরা তার দেখানো স্থানে নয় অন্য স্থানে বাঁধ কাটতে বেশ বিতর্ক করেন। পরে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান জেলা প্রশাসকসহ সকলেই।
আস্তমার কৃষক আঙ্গুর মিয়া, মদনপুরের ইকবাল হোসেন ও পাগলার কৃষক সুন্দর আলী বলেন, আমরা বাঁধে ছিলাম। ডিসি সাহেব এবং এমপি সাহেব আমাদেরকে জায়গা দেখিয়ে গিয়েছেন যে, কোন দিকে কাটতে হবে। তাদেরকে ধন্যবাদ যে কৃষকের আঁকুতি শোনেছেন।
আপনার মন্তব্য