২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১৮:০৮
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়েছে জনজীবন। বিদ্যুৎ ব্যবস্থা লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়েছে। গত রোববার সন্ধ্যার পর টানা ১৫ ঘণ্টা বিদ্যুতহীন ছিল কমলগঞ্জ।
ঝড়ে গাছ উপড়ে পড়ে পল্লী বিদ্যুৎ কমলগঞ্জ জোনাল অফিসের অভিযোগ কেন্দ্রে ১১ কেভি বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন বিচ্ছিন্নসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তাছাড়া বিভিন্ন এলাকায় ১৫০টি স্থানে বিদ্যুৎ লাইন ছিঁড়ে গেছে এবং ১৭ টি খুঁটি ভেঙে পড়েছে। ঝড়ে পৌরসভা, আলীনগর, শমসেরনগর, মুন্সীবাজার, পতনঊষার, আদমপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় আংশিক বিধ্বস্ত হয়েছে শতাধিক ঘর।গত রোববার সন্ধ্যায় কাল বৈশাখীঝড় বয়ে যায়। শেষ খবর পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়নি। চরম দুর্ভোগে পড়েছেন লাখো মানুষ।
জানা যায়, গত রোববার সন্ধ্যার শক্তিশালী কালবৈশাখী ঝড়ে কমলগঞ্জের পৌরসভা, শমসেরনগর, মুন্সীবাজার, আলীনগর, পতনউষারসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক তাণ্ডব চলে। ঝড়ে পৌরসভার কলেজ রোডের কমলগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জোনাল অফিসের অভিযোগ কেন্দ্রে বিশাল আকৃতির একটি চামগাছ উপড়ে পড়লে ১১ কেভি বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনে গাছ পড়লে তার ছিঁড়ে যায়।
একই সাথে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি হেলে পড়ায় পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে পড়ে। গাছটি অফিসের সামনে থাকা ৩টি মোটরসাইকেল এবং অফিসের কাজে ব্যবহৃত গুরুত্ব¡পূর্ণ মালামালের ওপর পড়লে সেগুলো দুমড়ে মুচড়ে যায়। সোমবার দুপুর ২টায় গাছটি কেটে অপসারণ করা হয়। তবে বিদ্যুৎ লাইন চালু করা সম্ভব হয়নি। ফলে শমসেরনগর, পতনউষার, মুন্সীবাজার ও আলীনগরসহ আশপাশের বিশাল এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন রয়েছে। আদমপুর, ইসলামপুর, আলীনগরসহ বিভিন্ন গ্রামে শতাধিক গাছপালা উপড়ে পড়েছে। কমলগঞ্জের বিভিন্ন গ্রামে ১৭ টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়েছে এবং প্রায় ১৫০টি স্থানে তার ছিঁড়ে পড়েছে এবং ৬০টি মিটার নষ্ট হয়েছে।
কমলগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ওমর ফারুক জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় চেয়ারম্যানদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে প্রাথমিক খোজ নিয়ে এ পর্যন্ত আংশিক ৫৫টি ঘর বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কমলগঞ্জ জোনাল অফিস সূত্রে জানা গেছে, কমলগঞ্জের গ্রামে বিভিন্ন এলাকায় গাছ পড়ে তার ও খুঁটি উপড়ে পড়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে সংস্কার কাজ ব্যাহত হচ্ছে। তবে লাইনের যে পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা পুরোপুরি মেরামত করে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে বেশ সময় লাগতে পারে। টানা বৃষ্টি ও বিদ্যুৎহীনতায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কয়েক হাজার গ্রাহক।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কমলগঞ্জ জোনাল অফিসের ডিজিএম রঞ্জন কুমার ঘোষ জানান, ঝড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আমার অভিযোগ কেন্দ্রে বিশালগাছ সহ বিভিন্ন এলাকায় ১৭টি খুঁটি ভেঙে গেছে। আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত মেরামত করে বিদ্যুৎ লাইন চালু করার।
আপনার মন্তব্য