২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১৮:৫৯
টার্গেট বড় হওয়ায় কিছুটা শঙ্কা ছিল; রান তাড়ায় মাঝপথে হয়েছিল ছন্দপতন। কিন্তু তাওহীদ হৃদয়, পারভেজ ইমন আর শামীম পাটোয়ারীদের বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ের সামনে সব শঙ্কা উড়ে গেল। টার্গেট হয়ে গেল ক্ষুদ্র। চট্টগ্রামে কিউইদের ৬ উইকেটে গুঁড়িয়ে দিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজে শুভ সূচনা করল লিটন দাসের দল।
রান তাড়ায় বাংলাদেশের শুরুটা ছিল বেশ ভালো। ৫.৩ ওভারে সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান তামিম মিলে ৪১ রানের ওপেনিং জুটি উপহার দেন। ১৬ বলে ১৭ রান করে সাইফ আউট হতেই বিপর্যয়ের শুরু। অধিনায়ক লিটন দাস তিনে নেমে দারুণ শুরু করেছিলেন। কিন্তু ১৫ বলে ২ চার ১ ছক্কায় ২১ রান করেই তিনি ইশ সোধির বলে পুল করতে গিয়ে সোজা বোল্ড হয়ে যান। ওয়ানডে মেজাজে খেলতে থাকা তানজিদ আর রানের গতি বাড়াতে পারেননি। তিনি ২৫ বলে ২০ রান করে আউট হয়ে যান।
৭৭ রানে ৩ উইকেটের পতনের পর ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। ব্যাট হাতে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন তাওহীদ হৃদয় ও পারভেজ ইমন। এই দুজন চতুর্থ উইকেটে গড়েন ২৮ বলে ৫৭ রানের জুটি। ১৪ বলে ২৮ রান করা ইমন ক্লার্কসনের অফ কাটারে ছক্কা মারতে গিয়ে ধরা পড়েন লং অফে। বিস্ফোরক মেজাজে থাকা হৃদয়ের সঙ্গে যোগ দেন শামীম পাটোয়ারী। শেষ তিন ওভারে প্রয়োজন হয় ১৮ রানের। ১৭তম ওভারে শামীমের তিন চার আর এক ছক্কায় জয় চলে আসে হাতের নাগালে। ১২ বল হাতে রেখেই জিতে যায় বাংলাদেশ।
তাওহীদ হৃদয় ২৭ বলে ২ চার ৩ ছক্কায় ৫১ রানে অপরাজিত থাকেন। আর শামীম হোসেন খেলেন ১৩ বলে ৩ চার ২ ছক্কায় ৩১ রানের অপরাজিত ইনিংস। দুজনের অবিচ্ছিন্ন পঞ্চম উইকেট জুটিতে আসে ২১ বলে ৪৯ রান। ম্যাচসেরার পুরস্কার উঠেছে তাওহীদ হৃদয়ের হাতে। কিউইদের হয়ে ২ উইকেট নেওয়া ইশ সোধি ৪ ওভারে দিয়েছেন ৪০ রান। ম্যাথু ফিশার তো ৪ ওভারে ৫৩ রান দিয়ে ছিলেন উইকেটশূন্য।
এর আগে সোমবার চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ৬ উইকেটে ১৮২ রান তোলে নিউজিল্যান্ড। দলীয় ১১ রানেই রান আউট হয়ে যান টিম রবিনসন (০)। আরেক ওপেনার কাটেনে ক্লার্ক অবশ্য ৩৭ বলে ৭ চার ১ ছক্কায় ৫১ রানের ইনিংস উপহার দেন। তিনে নেমে উইকেটকিপার ড্যান ক্লেভারও খেলেন ২৮ বলে ৫১ রানের বিস্ফোরক ইনিংস। এ দুজনকেই শিকার করেছেন লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন।
১০ ওভারে ১০০ রান তুলে ফেলা নিউজিল্যান্ড পরের পাঁচ ওভারে তোলে মাত্র ৩০ রান। বাংলাদেশি স্পিনাররা রানের লাগাম টানেন। ১৬.৩ ওভারে ৫ উইকেটে ১৫১ রান করার পর আলোকস্বল্পতায় খেলা বন্ধ হয়ে যায়। খেলা শুরু হলে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক নিক কেলি ২৭ বলে ৩৯ রান করে আউট হয়ে যান। শিকারি শরিফুল ইসলাম। শেষ ওভারে উইকেট পেতে পারতেন রিপন মণ্ডল; তবে ১৪ বলে অপরাজিত ২৭ রান করা ক্লার্কসনের ক্যাচ ফেলেন রিশাদ হোসেন।
বল হাতে তিন পেসারই উদার হস্তে রান বিলিয়েছেন। শরিফুল ৪ ওভারে ৩৬ রানে ১ উইকেট, তানজিম সাকিব ৪ ওভারে ৪০ রানে ১টি এবং রিপন ৩৯ রান দিয়ে উইকেটশূন্য। দুই স্পিনারের মধ্যে শেখ মাহেদী ৩১ রানে একটি আর রিশাদ হোসেন ৩২ রানে ২ উইকেট নেন।
আপনার মন্তব্য