ওসমানীনগর প্রতিনিধি

০৩ জুন, ২০২৬ ২৩:১১

‘আপা ডাকায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা’: যা জানালেন ওসমানীনগরের ইউএনও ও বনফুলের ম্যানেজার

‘ই্উএনওকে আপা ডাকায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা’ - এমন একটি সংবাদ বুধবার বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে জরিমানাকারী সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনমুন নাহার আশা ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন।

তবে এই ইউএনওর দাবি, আপা ডাকার কারণে নয়, বরং বাসি মিষ্টির কারণে মিষ্টিজাতীয় পণ্য বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান ‘বনফুল এন্ড কোম্পানি’র অ্যান্ড কোম্পানির তাজপুর শাখাকে জরিমানা করা হয়।

গত শুক্রবার বিকেলে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান চালিয়ে ৫০ হাজার টাকা০ জরিমানা করা হয় বলে জানান ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনমুন নাহার আশা

তিনি জানান, বাসি মিষ্টি বিক্রির অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। অভিযান পরিচালনাকালে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও দাখিলকৃত মেমো পর্যালোচনার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায় যে সেখানে বাসি মিষ্টি বিক্রি করা হচ্ছিল।
অভিযানকালে সংশ্লিষ্ট এক কর্মচারী স্বীকার করেন যে মিষ্টিগুলো অনেক আগের এবং সেখানে পুরাতন ও নতুন মিষ্টি মিশ্রিত অবস্থায় রাখা হয়েছিল। তবে অপরাধ স্বীকার করার পর ওই কর্মচারী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান এবং তার মোবাইল ফোনও বন্ধ রাখেন।

ইউএনও জানান, মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ অনুযায়ী এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে কোনো অপরাধ সংঘটিত বা উদঘাটিত হলে তা দণ্ডযোগ্য। এ কারণে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হলে কর্মচারীর অনুপস্থিতিতে বনফুলের ম্যানেজার তাকে খুঁজে এনে উপস্থিত করেন। পরে পলায়নের অভিযোগসহ সংশ্লিষ্ট অপরাধের দায়ে প্রতিষ্ঠান ও ওই কর্মচারীর বিরুদ্ধে অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়। জরিমানার অর্থ পরদিনই সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে, বুধবার ‘ইউএনওকে আপা ডাকায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা’ শিরোনামে কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

এসব সংবাদে উল্লেখ করা ঈদের পরদিন বিকেলে নিজের মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে সাধারণ ক্রেতার বেশে তাজপুর বনফুল শাখায় যান ইউএনও মুনমুন নাহার আশা। সে সময় শাখা ব্যবস্থাপক সুহেল বড়ুয়া দোকানের বাইরে ছিলেন। ইউএনও মিষ্টির কাউন্টারে গিয়ে বিভিন্ন মিষ্টি সম্পর্কে জানতে চান। এ সময় দোকান কর্মচারী আব্দুল মান্নান বলেন, ‘আপা’ গতকাল ঈদের কারণে নতুন মিষ্টি আসেনি। আজকের মিষ্টিগুলো বিক্রি হয়ে গেছে। এগুলো শুকনো মিষ্টি, দুই-চার দিন থাকলেও নষ্ট হয় না।

আব্দুল মান্নানের বরাত দিয়ে এসব প্রতিবদেনে বলা হয়, ‘আপা’ সম্বোধন করায় ইউএনও ক্ষুব্ধ হয়ে দোকান কর্মচারীকে বলেন, তুমি আমাকে চিনো? আমাকে আপা ডাকছ কেন? আমি ম্যাজিস্ট্রেট। তোমাদের বাসি মিষ্টি বিক্রির অভিযোগ বালাগঞ্জের ইউএনওসহ অনেকেই আমার কাছে দিয়েছে। আমি এখন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করব। এরপর মোবাইল কোর্ট বসিয়ে জরিমানা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

তবে আপা ডাকায় জরিমানা করার খবর অসত্য দাবি করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনমুন নাহার আশা বুধবার রাতে বলেন, বাসি মিষ্টি বিক্রির অভিযোগে জরিমানা করা হয়েছে। কিন্তু হলুদ সাংবাদিকতার মাধ্যমে সরকার তথা মোবাইল কোর্টকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে কেউ কেউ মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ প্রচার করেছেন।

একই ধরণের তথ্য জানিয়েছেন বনফুল অ্যান্ড কোম্পানির তাজপুর শাখার ম্যানেজার সুহেল বড়ুয়া।তিনি বলেন, আপা ডাকায় নয়। বাসি মিষ্টি থাকায় জরিমানা করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে বুধবার রাতে বনফুলের কর্মচারী আব্দুল মান্নানের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

তবে একাধিক সংবাদ মাধ্যমে তিনি বলেছেন, আপা ডাকার কারণেই জরিমানা করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমি ২৬ বছর ধরে বনফুলে চাকরি করছি। চাকরি জীবনে অনেক ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছি, কিন্তু এমন ঘটনার সম্মুখীন কখনও হইনি।

আব্দুল মান্নান আরও জানান, ঘটনার পর তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল। তবে উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের হস্তক্ষেপে তার চাকরি রক্ষা পায়। বর্তমানে তাকে বনফুলের সিলেট কারখানায় বদলি করা হয়েছে। পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকার জরিমানার অর্থ তার বেতন থেকে কেটে নেওয়া হবে বলে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ তাকে জানিয়েছে।

এ ব্যাপারে ইউএনও মুনমুন নাহার আশা বলেন, কোম্পানি তার কর্মচারীর বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেবে, তা মোবাইল কোর্টে বিচার্য নয়; এটি সম্পূর্ণভাবে কোম্পানির নিজস্ব বিষয়।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত