০৫ জুলাই, ২০২৬ ২৩:২২
তাহের-খালেদা সাহিত্যসভা প্রবর্তিত ‘প্রথম শিক্ষা-সুহৃদ সম্মাননা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৪ জুলাই) রাতে সিলেটের একটি হোটেলের কনফারেন্স রুমে এই সম্মাননা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সিলেটের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও মদন মোহন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ডক্টর আবুল ফতেহ ফাত্তাহর সভাপতিত্বে এবং প্রভাষক আলমগীর হোসেনের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে সিলেটের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত অতিথি নবীগঞ্জ সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যাপক তোফাজ্জল ইসলাম চৌধুরী স্মৃতিচারণ করে বলেন, "সিলেট শহর আমাকে টানে, এ শহরের অলিগলি আমার চেনা। আমি ও তাহের বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে কত ঘুরেছি, আড্ডা দিয়েছি তার সীমা নাই। তবে, আমি খালি হাতে ছিলাম, তাহেরের হাতে থাকতো বাংলা সাহিত্য ও বিশ্বসাহিত্যের সেরা লেখকদের বই। আমি ভালো ছাত্র ছিলাম না, সব সময় তাহেরকে ফলো করতাম।"
তিনি আরও বলেন, "বার্ধক্যকে আমি 'না' বলে দিয়েছি। এখনো সিলেটের সেই বন্ধুবান্ধবদের আড্ডা আমাকে টানে।" এ সময় তিনি এই চমৎকার আয়োজনের জন্য তাহের-খালেদা সাহিত্যসভাকে ধন্যবাদ জানান।
ব্লুবার্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক শিক্ষক ও কবি নাসিমা চৌধুরী বলেন, "তাহের বহু গুণের অধিকারী একজন মানুষ। প্রবাসে বসেও দেশের মানুষের কথা যে চিন্তা করেন এটা বিরল। মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক, মানবতা যেখানে সংকুচিত হচ্ছে, সেখানে তাহের অনন্য। সেই আশির দশকে যখন আমরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যেতাম, তাহেরের উপর আমাদের পরিবারের সদস্যরাও ভরসা করতেন। তাহের উদার মানবতাবাদী মানুষ। সেই ছাত্রজীবন থেকে দেখেছি মানুষকে সহযোগিতা করার প্রবণতা তাঁর মধ্যে ছিল। এই ধারা এখনো বিদ্যমান।"
মইনউদ্দিন আদর্শ মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যাপক পার্থ সারথী নাগ বলেন, "আজ তাহের-খালেদা সাহিত্যসভা আমাকে যে সম্মাননা দিয়েছে, তার যোগ্য আমি নই। তাহের ভাই আজ যে ধারা সৃষ্টি করলেন, এটা উৎকৃষ্ট উদাহরণ। আজ কী যে ভালো লাগছে তা বলার ভাষা নেই। অবসরের পর মনে হচ্ছে আজ নতুন করে প্রাণ পেয়েছি।"
গোবিন্দগঞ্জ আব্দুল হক স্মৃতি ডিগ্রি কলেজের অধ্যাপক বরন কুমার চৌধুরী বলেন, "তাহের স্যার সহকর্মী হলেও তিনি আমার শিক্ষকতুল্য ছিলেন। তাঁর কাছ থেকে যা শিখেছি, তা জীবনের পরতে পরতে কাজে লাগে। তিনি আমাদের কাছ থেকে অনেক দূরে, তারপরও এমন আয়োজনে আমাকে যে সম্মানিত করেছেন তার বিনিময় হয় না।"
একই কলেজের সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মহিউদ্দিন বলেন, "তাহের স্যার আমাদের আলোকবর্তিকা। অন্য ক্লাস বাদ দিয়ে আমরা স্যারের ক্লাস করতাম। তিনি শিক্ষার্থীদের সন্তানের মতো দেখতেন। আজ নতুন করে তাহের স্যার আমাদের যে সম্মানিত করলেন, এই ঋণ শোধ করার নয়।"
আম্বরখানা স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জমির উদ্দিন স্যারের সাথে স্মৃতির কথা উল্লেখ করে বলেন, "একবার ইন্ডিয়ায় শিক্ষকদের দাবি সংবলিত একটি সম্মেলনে আমরা গিয়েছিলাম। গাড়িতে সবাই কথা বলছে, কাউকে থামানোর উপায় নেই। হঠাৎ তাহের স্যার বললেন—আমরা যেহেতু দেশের বাইরে আসছি, সবাই ইংরেজিতে কথা বলবো। মুহূর্তেই সবার মুখ বন্ধ হয়ে গেলো।" তিনি এই সংগঠনের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন।
বালাগঞ্জ সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যাপক নন্দা দে বলেন, "আমি মূলত শিক্ষকই হতে চেয়েছি। আজ সাত জন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষককে সম্মান দিয়ে তাহের ভাই একটি উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। এটা আমার জীবনের পরম পাওয়া। বালাগঞ্জ কলেজের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। আমার সহকর্মী ও প্রিয় শিক্ষার্থীদের আমি কখনো ভুলতে পারি না।"
সভাপতির বক্তব্যে ডক্টর আবুল ফতেহ ফাত্তাহ বলেন, "তাহের ভাই একজন বিরলপ্রজ মানুষ। তিনি মনে করেন, শিক্ষকের স্থান সবার উপরে হওয়া উচিত। এ জন্য এই সংগঠন শিক্ষকদের সম্মাননা দিয়ে তার যাত্রা শুরু করলো। ভবিষ্যতে অন্যান্য সেক্টরে যারা দেশ ও জাতির জন্য কাজ করেছেন, তাদেরকেও এই সম্মাননায় সম্পৃক্ত করা হবে।"
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন এমসি কলেজের ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক আব্দুল হামিদ সেলিম, বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মোহাম্মদ বিলাল উদ্দিন, আইডিয়ার পরিচালক নজমুল হক, নর্থইস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ-এর পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক লিয়াকত শাহ ফরিদী, কবি মোস্তাক আহমাদ দীন, লেখক-গবেষক মিহির কান্তি চৌধুরী, অধ্যক্ষ আব্দুল জলিল, কবি পুলিন রায়, অভ্র প্রকাশনের স্বত্বাধিকারী অপূর্ব শর্মা, কবি মালেকুল হক, অধ্যাপক প্রণব কান্তি দেব, অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন, অধ্যাপক আজির হাসিব, মনির হাসান, তাসনিম সুলতানা প্রমুখ।
আপনার মন্তব্য