স্পোর্টস ডেস্ক

০৬ জুলাই, ২০২৬ ০৪:১৩

হালান্ড-ঝড়ে ব্রাজিলের বিদায়, প্রথমবারের মতো কোয়ার্টারে নরওয়ে

নরওয়ের কাছে রাউন্ড অব সিক্সটিন (শেষ ১৬) থেকে বিদায় নিয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে ইতিহাস গড়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে নরওয়ে।

নরওয়ের ঐতিহাসিক জয়ের নায়ক ম্যানচেস্টার সিটি তারকা আর্লিং হালান্ড, যিনি করেছেন জোড়া গোল। ব্রাজিলের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন বদলি হিসেবে নামা নেইমার জুনিয়র। তবে প্রথমার্ধে ব্রুনো গিমারেসের পেনাল্টি মিস ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে।

ম্যাচের শুরুতেই অবশ্য কাঁপন ধরেছিল ব্রাজিল শিবিরে। ডিফেন্সের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে মাত্র ৪ মিনিটেই বল জালে জড়িয়েছিল নরওয়ে। তবে অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়।

এরপর ১১ মিনিটে বক্সের ভেতর মাতেউস কুনিয়াকে ক্রিস্টোফার আয়ের স্লাইডিং ট্যাকল করলে পেনাল্টির দাবি তোলে ব্রাজিল। রেফারি প্রথমে নাকচ করলেও ভিএআর যাচাই করে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন। ১৪ মিনিটে স্পট কিক নিতে আসেন ব্রুনো গিমারেস, কিন্তু তাঁর শট দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক ওরইয়ান নিল্যান্ড। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপে (টাইব্রেকার বাদে) গত ৪০ বছরে প্রথম ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড় হিসেবে পেনাল্টি মিসের অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড গড়েন গিমারেস।

২৬ মিনিটে ম্যাচের প্রথম হাইড্রেশন ব্রেকের পর ৪০ মিনিটে ভিনিসিয়াস জুনিয়রের একটি জোরালো শট পা দিয়ে সেভ করেন নিল্যান্ড। প্রথমার্ধের শেষ দিকে নরওয়ের মার্টিন অডেগার্ডের একটি জোরালো শট দারুণ ক্ষিপ্রতায় ঝাঁপিয়ে পড়ে ঠেকিয়ে ব্রাজিলকে রক্ষা করেন আলিসন। ফলে গোলশূন্য সমতা নিয়েই বিরতিতে যায় দুই দল।

বিরতির পর ডেডলক ভাঙতে মরিয়া দুই দলই কৌশলে পরিবর্তন আনে। ৫৮ মিনিটে মাতেউস কুনিয়ার বদলে এনদ্রিককে মাঠে নামান ব্রাজিল কোচ। মাঠে নেমেই ৬০ মিনিটে ভিনিসিয়াসের অসাধারণ পাসে গোলরক্ষককে একা পেয়েও অবিশ্বাস্যভাবে বল জালে জড়াতে ব্যর্থ হন এনদ্রিক। এর দুই মিনিট পর রায়ানের ২০ গজ দূর থেকে নেওয়া শট আবারো ঠেকিয়ে দেন নরওয়ে কিপার।

ম্যাচের ধারার বিপরীতে ৭৯ মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। দুর্দান্ত এক হেডে গোল করে নরওয়েকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন আর্লিং হালান্ড।

গোল শোধে মরিয়া ব্রাজিল হাইড্রেশন ব্রেকের ঠিক আগ মুহূর্তে রায়ানের বদলে মাঠে নামায় নেইমার জুনিয়রকে। কিন্তু মাঠে নেইমারের উপস্থিতিও নরওয়ের আক্রমণ রুখতে পারেনি। ম্যাচের শেষ দিকে নিজের ও দলের দ্বিতীয় গোলটি করে ব্রাজিলকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেন হালান্ড। এই জোড়া গোলের মাধ্যমে চলতি বিশ্বকাপে নিজের ৭ম গোল করে লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ছুঁয়ে ফেললেন তিনি।

২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে যখন ব্রাজিলের বিদায় নিশ্চিত, ঠিক তখনই ব্রাজিলের হয়ে একমাত্র সান্ত্বনার গোলটি করেন নেইমার জুনিয়র। তবে তা কেবল ব্যবধানই কমিয়েছে (১-২), পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিদায় ঠেকাতে পারেনি।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত