০৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:৪৪
তুমুল নাটকীয়তার ইংল্যান্ড-মেক্সিকোর ম্যাচে কী ছিল না! ফাউল, লাল কার্ড, পেনাল্টি। এমন নাটকীয় ম্যাচে শেষ হাসি হেসেছে টমাস টুখেলের দল। রাউন্ড অব সিক্সটিনের ম্যাচে মেক্সিকোকে ৩-২ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কাটল ইংলিশরা।
ম্যাচে ৫ গোলের তিনটাই হয়েছে প্রথমার্ধে। ২ মিনিটের মধ্যে জুড বেলিংহাম টানা ২ গোল করলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় ইংল্যান্ড। কিন্তু ফুটবলে যে শেষ বলে কিছু নেই, সেটা প্রমাণ হলো আবার। টানা ২ গোল হজম করেও হাল ছাড়েনি মেক্সিকো। ১ গোলের শোধ দিয়ে লড়াই জমিয়ে তোলে সহ আয়োজকেরা। বিরতির পর হ্যারি কেইন ব্যবধান বাড়ানোর পরও হাল ছেড়ে দেয়নি মেক্সিকো। ম্যাচের উল্লেখযোগ্য সময় ইংল্যান্ড ১০ জন নিয়ে খেলায় একটু বাড়তি সুবিধাও ছিল তাদের সামনে। কিন্তু ৫ গোলের থ্রিলারে শেষ পর্যন্ত পেরে উঠল না উত্তরে আমেরিকার প্রতিনিধিরা।
প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ম্যাচ শুরু হয় নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা পর। একের পর এক আক্রমণে শুরু থেকেই ইংল্যান্ডকে চেপে ধরে মেক্সিকো। তাতে অবশ্য গোল আদায় করতে পারেনি তারা। উল্টো পাল্টা আক্রমণে ৩৬ মিনিটে মেক্সিকোকে চমকে দেয় ইংল্যান্ড। ডান দিক থেকে ৬ গজ বক্সে বাড়ানো বুকায়ো সাকার ক্রসে অনেকটা শুয়ে পড়ে হেড করেন বেলিংহাম। কিছুই করার ছিল না মেক্সিকোর গোলরক্ষক রাউল রানহেলের।
এই গোলের রেশ কাটতে না কাতটেই ব্যবধান বাড়ায় ইংল্যান্ড। আবারও স্কোরার সেই বেলিংহাম। এ যাত্রায় ডি বক্সে কেইনের ক্রস পেয়ে জালে বল জড়ান রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। টানা দুই গোলের পর মনে হচ্ছিল ম্যাচটা বোধহয় একচেটিয়া হতে যাচ্ছে। সে ধারণা ভুল প্রমাণ হতেও বেশি সময় লাগেনি। ৪২ মিনিটে মেক্সিকোর হয়ে ব্যবধান কমিয়ে হুলিয়ান কিনিয়োনেস বুঝিয়ে দেন, এখনই সব শেষ হয়ে যায়নি। ফ্রি কিক থেকে আসা বল প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়ের বাধায় সামনে পান এই ফরোয়ার্ড। এরপর নজরকাড়া শটে জাল কাঁপান তিনি।
২-১ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় ইংল্যান্ড। বিরতি থেকে ফেরার ৯ মিনিটের মাথায় জ্যারেল কোয়ানসাকে হারায় তারা। আক্রমণে উঠে আসা হেসুস গায়ার্দোকে কড়া ট্যাকল করলে ভিএআরের সাহায্যে এই ডিফেন্ডারকে রেফারি লাল কার্ড দেখান। একজন কম নিয়ে খেলা ইংল্যান্ডের ওপর আক্রমণের ধার বাড়িয়ে দেয় মেক্সিকো। ইংল্যান্ডও পাল্টা আক্রমণে জবাব দিয়েছে। ৪ মিনিট পর তৃতীয় গোলের দেখা পায় একবারের চ্যাম্পিয়নরা। অ্যান্থনি গর্ডনকে ডি বক্সে রানহেল ফেলে দিলে পেনাল্টি পায় ইংলিশরা। স্পট কিকি থেকে ঠিকানা খুঁজে নেন কেইন। ৬ মিনিট পর এই স্ট্রাইকার নিজেদের ডি বক্সে ফাউল করলে মেক্সিকো পেনাল্টি পায়। সফল স্পট কিকে স্কোরলাইন ৩-২ করেন রাউল হিমেনেস। বাকি সময় রক্ষণের শক্তি বাড়ায় ইংল্যান্ড। তাতেই ব্যর্থ হয়েছে আয়োজকদের একের পর এক সব আক্রমণ। ব্যবধান ধরে রেখে বাকি সময় পার করে দেয় ইংল্যান্ড।
আপনার মন্তব্য