০৭ জুলাই, ২০২৬ ১৮:১৩
প্রবাসী কল্যান ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের শ্রমবাজার দ্রুতই খুলে যাবে। খুলে গেছে ওলরেডি। গতকালকেই মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলে গেছে। বাকীগুলোও দ্রুত খুলবে।
জামান, কুরিয়া, ওমান, মরিশাস, সৌদি আরব সব জায়গায় আমাদের শ্রমবাজার খুলে যাবে।
মঙ্গলবার দুপুরে সিলেট সার্কিট হাউসে আমেরিকার রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনের সাথে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সাথে বৈঠক শেষে এমনটি বলেন মন্ত্রী।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও পারস্পরিক উন্নয়নকে এই ধরনের আলোচনা আরও গতিশীল করবে। বৈঠকে সিলেটের সার্বিক উন্নয়ন, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় বলে জানান তিনি।
বৈঠকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার, সিলেটের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক পিংকি সাহা এবং প্রশাসনের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এরআগে সকালে শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সাথে বৈঠক করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন।
নগরীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সিলেট অঞ্চলে মার্কিন বিনিয়োগ, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সাংবাদিকদের বলেন, সিলেটের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত অগ্রগতির অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সিলেটের উন্নয়নের সুযোগ নিয়ে মতবিনিময় করা হয়। এছাড়া বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদার করা, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, বাংলাদেশে বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলে মার্কিন বিনিয়োগের সম্ভাবনা এবং উভয় দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার বিভিন্ন বিষয় নিয়েও ফলপ্রসূ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং পারস্পরিক উন্নয়নকে আরও গতিশীল করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
বৈঠকে সিলেটের সংসদ সদস্য এম এ মালিক, তাহসিনা রুশদীর লুনা, এমরান আহমেদ চৌধুরী ও মুফতি আবুল হাসান, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেটের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক পিংকি সাহা এবং সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সাথেও আলাদা বৈঠক করেন তিনি।
প্রশাসকের সাথে বৈঠক শেষে সিলেটের কিন ব্রিজ, আলী আমজাদের ঘড়িসহ চাঁদনীঘাট এলাকার ঐতিহাসিক স্থপনাগুলো ঘুরে দেখেছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। সেইসঙ্গে সিলেটের বিখ্যাত সাত রঙের চাও খেয়েছেন তিনি।
দুপুরের দিকে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত কিনব্রিজসহ আশপাশের এলাকা পরিদর্শন করেন বলে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী জানিয়েছেন।
এর আগে মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে ঐতিহ্যবাহী আলী আমজাদের ঘড়িঘরের পাশে মার্কিন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বরণ করা হয় বলে জানান তিনি। পরে সুরমা নদীর তীরে ছবি উঠেন তিনি। এরপর সার্কিট হাউসে প্রবাসী কল্যান ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সাথে বৈঠক করেন রাষ্ট্রদূত। সার্কিট হাউসে তাকে পুলিশের পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।
আপনার মন্তব্য