১৪ আগস্ট, ২০২৬ ১৬:১৪
স্ক্রিনশট থেকে নেওয়া ছবি
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার রোকেয়া খাতুন লাইসিয়াম স্কুলের এসএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা চলছে। গত ১৩ আগস্ট প্রতিষ্ঠানটির এসএসসি উত্তীর্ণ ১৫৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে কেবল জিপিএ-৫ পাওয়া ৩৩ জন শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এতে বাকি ১২৫ জন শিক্ষার্থী সংবর্ধনা থেকে বঞ্চিত হয়ে ফেসবুকে পোস্ট করে তাদের ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পোস্ট বিশ্লেষণ করে জানা যায়, তাদের সংবর্ধনা দেওয়া তো দূরের কথা, অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কোনো নিমন্ত্রণও দেওয়া হয়নি। এতে তারা মানসিকভাবে আঘাত পেয়েছেন এবং প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের এই বৈষম্যমূলক আচরণের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
এবারের এসএসসি পরীক্ষায় ওই স্কুল থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী ইশতিয়াক জামান তাকরিম জিপিএ-৫ না পাওয়ায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পাননি। নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্টে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, ‘‘৩৩ জন GPA-5 পেলেই যদি কৃতি সংবর্ধনা হয়, তাহলে বাকি ১২৫ জনের কৃতিত্বকে উপেক্ষা করা কি এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষাদর্শনের পরিচয়?’’
তাকরিমের ওই পোস্টে কমেন্ট করে আরেক শিক্ষার্থী হোসাইন আহমেদ রাফি লেখেন, ‘‘সিলেবাস শেষ করানোর দায়িত্বটা যদি সংবর্ধনার আয়োজনের মতোই গুরুত্ব পেত, কৃতি সংবর্ধনায় আরও অনেক শিক্ষার্থী থাকত।’’
রাশেদুল ইসলাম সৌরভ নামের আরেক শিক্ষার্থী কমেন্ট করে লেখেন, ‘‘ঠিক কথা। এজন্য আমিও যাই নাই।’’ তাকরিমের পোস্টে এমন আরও অনেকেই কমেন্ট করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এছাড়া রুমান আহমেদ নামের এক শিক্ষার্থী লিখেছেন, ‘‘এটা মোটেও কাম্য নয়। কারণ শুধু এ প্লাস পেলে কি কৃতি শিক্ষার্থী হওয়া যায় আর বাকি সবাই কি আবর্জনা! প্রশ্ন রয়ে গেল?...’’
গত বৃহস্পতিবার থেকে বড়লেখার বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ, পেজ এবং ব্যক্তিগত আইডিতে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য রোকেয়া খাতুন লাইসিয়াম স্কুলের প্রধান শিক্ষকের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়ায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আপনার মন্তব্য