নিজস্ব প্রতিবেদক

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৩:২০

শাবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু পর থেকে বন্ধ সেই ব্রিটেনিয়া সুইমিংপুল

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর থেকে বন্ধ রয়েছে ​সিলেট নগরীর এয়ারপোর্ট রোডের চৌকিদিঘী এলাকার ‘ব্রিটেনিয়া সুইমিংপুল’। সুইমিংপুল কর্তৃপক্ষ তিনদিনের জন্য এটি বন্ধ ঘোষণা করেছে।

বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত এটি বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বুধবার সন্ধ্যায় এই সুইমিং পুলে সাঁতার কাটতে গিয়েই মারা যান শাবিপ্রবির
২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইনঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের শিক্ষার্থীর দিপাঞ্জন ঘোষ প্রিয়ম (২১)।

এদিকে বৃহস্পতিবার প্রিয়মের মরদেহ নিয়ে যান তার স্বজনরা। তবে তারা এই মৃত্যুর ব্যাপারে কোন অভিযোগ করেননি।

​জানা যায়, প্রিয়মের পৈতৃক নিবাস সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে। তবে তার পরিবার ঢাকার মোহাম্মদপুরে থাকেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন সুরমা আবাসিক এলাকার একটি মেসে থাকতেন।

ব্রিটেনিয়া সুইমিংপুলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রিয়মের মৃত্যুতে তিনের শোক কর্মসূচী পালনের জন্য শনিবার পর্যন্ত এই সুইমিং পুল বন্ধ থাকবে।

তবে প্রিয়মর মৃত্যুর ঘটনা ব্রিটেনিয়া সুইমিংপুল কর্তৃপক্ষের অবহেলারও অভিযোগ ওঠেছে। সুইমিং পুলে কোন প্রকার লাইফ গার্ড না থাকায় এরকম ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ প্রিয়মের সহপাঠীদের।

তবে দুর্ঘটনার ব্যাপারে ​প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের সহপাঠী ফায়াজ নবী জানান, ওইদিন বিকেল ৫টার দিকে আমাদের সাঁতার কাটা শুরু হয়। সাঁতার কাটতে নেমে প্রিয়ম দু-একবার ৯ ফুট গভীর পানিতে যায়, আবার ফিরেও আসে। আমরা সকলে যখন সাঁতারে ব্যস্ত ছিলাম। তখন সে কখন আবারো ৯ ফুট গভীর পানিতে চলে যায় তা আমরা কেউই খেয়াল করিনি। হঠাৎ ৫টা ৪৫ মিনিটের দিকে তাকে ৯ ফুট গভীর পানি থেকে সুইমিংপুলের স্টাফরা তুলেন। তৎক্ষণাৎ শরীরে ঝাঁকুনি দেয়। তখন সে বমি করে এবং নিশ্বাস নিচ্ছিল। পরে তাকে আমরা হাসপাতালে নিয়ে আসি। হাসপাতালে নিয়ে আসার পর আইসিইউতে তার ইসিজি করা হয় এবং কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

​ব্রিটেনিয়া সুইমিংপুলের ইনস্ট্রাক্টর আমিরুল ইসলাম আবু বলেন, আমাদের নিয়ম অনুযায়ী সাঁতার না জানলে ৬ ফুটের বেশি গভীর পানিতে নামতে নিষেধ করা হয়। কিন্তু তিনি ৯ ফুট গভীর এলাকায় চলে গিয়েছিলেন।

​তিনি আরও বলেন, আমাদের এখানকার এক কর্মী তাকে পানির কিছুটা নিচে চিত হয়ে ভেসে থাকতে দেখে আমাকে জানালে, আমি তাকে উদ্ধার করে ঝাঁকুনি দিতে থাকি। তখন সে বমি করে এবং হালকা নিশ্বাসও নিচ্ছিল। পরে তাকে সিএনজিতে করে নগরীর দরগাহ গেট সংলগ্ন নূরজাহান হাসপাতালে নিয়ে আসি।'

​এ বিষয়ে শাবিপ্রবির প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মুখলেসুর রহমান বলেন, ​তিনি আরও বলেন, সুইমিংপুল কর্তৃপক্ষের কোনো অবহেলা বা তদারকির ঘাটতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা করবে। যদি কোনো গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত