নিজস্ব প্রতিবেদক

০২ মার্চ, ২০১৬ ১৭:৩৬

সিলেট থেকে বিচার বিভাগের নতুন যুগের সূচনা

সিলেট থেকে বিচার বিভাগের নতুন যুগের সূচনা হলো। বিচার বিভাগেও লাগলো ডিজিটালাইজেশনের ছোঁয়া। নিম্ন আদালতকে প্রযুক্তির আওতায় নিয়ে আসার প্রক্রিয়া শুরু হলো আজ।

বুধবার (২ মার্চ) দুপুরে সিলেটে আদালত চত্বরে সিলেটের ২০ আদালতকে প্রযুক্তির আওতায় নিয়ে আসার মাধ্যমে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহা, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ সিদ্দিকী পলক প্রমুখ।

‘ডিজিটালাইজড উইটনেস ডিপোজিশন সিস্টেম’ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ২০১৮ সালের পর দেশে বিদ্যুৎ নিয়ে কোনো সমস্যা থাকবে না। বিদ্যুতের সব সমস্যা দূর করা হবে। সরকার বিদ্যুৎ সমস্যা দূও করতে নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে। জনগন এর সুফলও পেতে শুরু করেছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহা। তিনি টেলিভিশনের টকশোতে বিচারবিভাগ নিয়ে মন্তব্যেও ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেন।

এসকে সিনহা বলেন, দেশের উন্নয়নের সাথে সাথে বিচার বিভাগেরও উন্নয়ন করতে হবে। অন্যথায়, বিদেশীরা এদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী হবে না। এজন্য বিচার ব্যবস্থায় ডিজিটালইজেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সিলেট থেকে শুরু হলো নিন্মআদালতের ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়া। পাইলট প্রকল্প হিসেবে দেশে প্রথমবারের মতো সিলেট জজ কোর্টের ৪০ টি আদালতের মধ্যে ২০টিতে ডিজিটাল স্বাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়া চালু করা হলো।

এর ফলে বিচার বিভাগের স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে এবং বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষের কষ্ট অনেকাংশে লাঘব হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি।

প্রধান বিচারপতি বলেন, আমাদের সংবাদ মাধ্যম অত্যন্ত স্বাধীন। ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার টকশো ও প্রিন্ট মিডিয়ায় বিচার বিভাগ নিয়েও আলোচনা হয়। তবে বিচার বিভাগ নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে সমালোচনায় এই স্বাধীনতার সীমালঙ্ঘন করা ঠিক হবে না।

প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা বলেন, সংবিধান আমাদের কাউকেই আনলিমিটেড লিবার্টি দেয়নি। লিবার্টি ও আইনের একটা সংযোগ রয়েছে। এমন স্বাধীনতা প্রয়োগ করা যাবে না, যা অন্যের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে।

তিনি ১৮৯২, ১৮৩৬ সালসহ পুরনো বিভিন্ন আইন বাদ দেওয়া ও যুগোপযোগি আইন সংযোজনের জন্য উপস্থিত আইনমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, স্কুল কলেজের এমপিভুক্তি ও বাতিল, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ফিশারিজ, বালু ও জল মহাল ইজারাসহ বেশ কিছু বিষয়ে কোন আইন নেই। কেবল সার্কুলারের মাধ্যমে এগুলো হয়ে থাকে। যে কারণে লিটিগেশনের কারণে আপীল বিভাগে প্রায় ৬০ ভাগ মামলা হয়ে থাকে।

তাই এখন সময় এসেছে এ বিষয় নিয়ে ভাবতে হবে। নতুন যুযোগপযোগি আইন করতে হবে। এতে বিচার বিবাগের উপর চাপ অনেকাংশে হ্রাস পবে। বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষের ন্যায় বিচার নিশ্চিত হবে।

দেশের এখনও ৩০ লাখ মামলাজট রয়েছে জানিয়ে প্রধান বিচাপতি বলেন, আমাদের মামলাজট কবে শেষ হবে তা নিশ্চিত করা বলা যাচ্ছে না। তবে, যেভাবে স্বাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচারপ্রক্রিয়া আধুনিকায়ন হচ্ছে, এতে আস্তে আস্তে এর সংখ্যা কমে আসবে। আইনজীবী, সুশীল সমাজ ও রাজনীতিবিদদের সহযোগিতা ছাড়া এই সংকট থেকে উত্তোরণ সম্ভব হবে না।

আমেরিকার গণতন্ত্রের উদাহরণ দিয়ে এসকে সিনহা আরও বলেন, যার কাছে ডলার আছে, তার কাছে গণতন্ত্র। আমাদের দেশেও গণতন্ত্র  কিছু সুবিধাভোগি মহলের কাছে সীমাবদ্ধ রয়েছে। বিচারপ্রার্থী মানুষের ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় আইনজীবী মহলকে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। তাই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সবার আগে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

বিচার বিভাগে ডিজিটালইজেশন প্রক্রিয়ায় ইউএনডিপি’র সহযোগিতার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ভবিষ্যতে এই সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

সিলেট জেলা ও দায়রা জজ মনির আহমদ পাঠওয়ারির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন সুপ্রীম কোর্টের অ্যাপিলেট ডিভিশনের বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী, ইউএনডিপি’র আবাসিক প্রতিনিধি রোবার্ট ওয়াটকিনস, সিলেটের পিপি মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, জিপি খাদেমুল মিল্লাত মো. জালাল, সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সমিউল আলম, সাধারণ সম্পাদক শাহ আশরাফুল ইসলাম প্রমুখ। এসময় উপস্থিত ছিলেন জাতিসংঘস্থ বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের সাবেক রাষ্ট্রদূত ড. একে আবদুল মোমেন, সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান চৌধুরী, জেবুন্নেছা হক প্রমুখ।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত