সনেট দেব চৌধুরী, শ্রীমঙ্গল

০৪ এপ্রিল, ২০১৬ ১১:২১

পাহাড়ি ঢলে সেতু ভেঙে পড়ায় সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের রেলযোগাযোগ বন্ধ

মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে শ্রীমঙ্গল কমলগঞ্জ রেল লাইনের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত জানকিছড়া এলাকায় অবস্থিত রেলয়ের ১৫৭ নম্বর ব্রীজটি রবিবার রাতের ভারি বর্ষন ও পাহাড়ী ঢলে পূনরায় ভেঙ্গে পড়েছে।

সোমবার (৪ এপ্রিল) এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সিলেটের সাথে ঢাকা ও চট্রগ্রামের রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। তবে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুল জলিল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানিয়েছেন রেলওয়ের নিয়মিত শ্রমিকরা কাজ করছে। আশা করা যায় সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা যাবে।  

এদিকে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের মধ্যবর্তী চা বাগানও পাহাড় ঘেষা জানকিছড়ায় যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম পায়ে হেঁটার পথ। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, রবিবার রাতে প্রবল বর্ষন ও পাহাড়ী ঢলে ব্রীজের এক পাশ্ব ভেঙ্গে যাওয়া ব্রীজ মেরামত করছেন। শ্রমিকরা প্রায় ২০ ফুট দীর্ঘ ব্রীজের পশ্চিম পাশে অবস্থিত ব্রীজের ভাঙ্গা অংশ সরিয়ে নতুন করে কাটের ক্লেম ও ৮ ফুট বাই ১২ ফুট আয়রন ফ্রেম দিয়ে ব্রীজটি মেরামতের কাজ করছেন।

বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল জলিল জানান, গত রাতের প্রবল বর্ষন ও পাহাড়ী ঢল ব্রীজটির লেভেল পর্যন্ত চলে আসে। ব্রীজটির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে ছিল। কিন্তু তার মধ্যে এই পাহাড়ী ঢলে ব্রীজের পূর্ব পাশের একাংশ ভেঙ্গে যায়। আশা করছি আগামী ৫ থেকে ৬ ঘন্টার ভিতরে ট্রেন চলাচল চালু করতে পারবো।

তবে রেলওয়ের কুলাউড়া শ্রীমঙ্গল সেকশনের সহকারী প্রকৌশলী পিযুষ কান্তি জানিয়েছেন, পাহাড়ী ঢল যাওয়ার একমাত্র পথ হচ্ছে এই রেলওয়ে ব্রীজ। তারা গত ২৫ ফেব্রুয়ারী ওই ব্রীজের এক অংশ ভাঙ্গার পর নতুন করে ব্রীজটি নির্মান করছেন। তবে কাজের শেষ পর্যায়ে রবিবার রাতে প্রচুর বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ী ঢলে ব্রীজটি ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

এছাড়া স্থানীয় এলাকাবাসী ও রেলের শ্রমিকরা জানিয়েছেন, পাহাড়ী এলাকার কারনে বিশেষ করে বৃষ্টির সময়টাতে অনেক সময় পাহাড়ের মাটি ধ্বসে ও গাছপালা পড়ে রেল লাইন বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ঝুঁকিপূণ এলাকায় ট্রেন চলাচল বেশ সাবধানে করতে হয়।  

এদিকে শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে ষ্টেশন সূত্রে জানা গেছে, ভোর সাড়ে ৫টায় উদয়ন ট্রেন সিলেট যাবার পথে ওই ব্রীজ অতিক্রম করার পর সেটি পাহাড় ঢলে ভেঙ্গে পড়ে। সর্বশেষ গত ১৬ জানুয়ারী ও ২৫ ফেব্রুয়ারী পরপর দুই বার ব্রীজটি ঢলে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল।  

আপনার মন্তব্য

আলোচিত