শাল্লা প্রতিনিধি

০৫ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:২১

‘আমার বাবা দেশের সবচেয়ে বড় রাজাকার’

‘আমার বাবা এদেশের সবচেয়ে বড় রাজাকার ছিলেন’ -দম্ভোক্তি করেছেন সুনামগঞ্জ জেলার অন্যতম রাজাকার শাল্লার উজানগাঁও গ্রামের আব্দুল খালেকের পুত্র জুবায়ের আহমেদ। আমেরিকা প্রবাসী জুবায়ের গত শনিবার হেলিকপ্টার যোগে শাল্লায় এসে এমন দম্ভোক্তি করেন।

জুবায়েরের এই দম্ভোক্তির পর স্থানীয় আওয়ামী লীগসহ অঙ্গসংগঠন শাল্লায় বিক্ষোভ করে।

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা জানান, আব্দুল খালেক ছিলেন একাত্তরের শাল্লা এলাকার ত্রাস। পাকিস্তানিদের পক্ষ নিয়ে নিয়ে বাঙালিদের উপর নির্যাতন চালান। একাত্তরেই আব্দুল খালেককে শাল্লা সদরস্থ কলাকান্দি নদীরপাড়ে মুক্তিবাহিনীর সদস্যরা হত্যা করেন। পরে তার লাশ নদীতে ফেলে দেয়া হয়েছে। এই নদীর তীরেই বাবার কবর জিয়ারতে প্রতি বছর দেশে আসেন জুবায়ের।

গত শনিবার জুবায়েরের আগমনের খবর পেয়ে স্থানীয় আ.লীগ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে। তাঁরা রাজাকারপুত্রকে দুই মিনিটের মধ্যে শাল্লা ছাড়ার নির্দেশনা দিলে হেলিকপ্টারে উঠার সময় জুবায়ের আহমদ একাত্তরে তার বাবার কৃতকর্মের জন্য দম্ভোক্তি করে তার বাবাকে ‘শ্রেষ্ঠ রাজাকার’ হিসেবে আখ্যা দেন।

এলাকাবাসী জানান, আমেরিকান প্রবাসী জুবায়ের আহমেদ শনিবার সকালে শাহীদ আলী মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে হঠাৎ একটি হেলিকপ্টার নিয়ে নামেন। তার আগমনের খবর পেয়ে স্থানীয় জনতা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।

জানা গেছে, ১৯৭৫ সনের পর থেকেই রাজাকার আব্দুল খালেকের এই পুত্র প্রতিবছরই হেলিকপ্টারে স্বল্প সময়ের জন্য শাল্লায় আসেন। তার কিছু বিশ্বস্ত কর্মী সংক্ষিপ্ত আয়োজন আগেই করে রাখে। তবে এবারের মতো আর কোনদিন তিনি প্রতিরোধের মুখে পড়েননি বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

জুবায়ের আহমেদ হেলিকপ্টার থেকে মাথায় পাগড়ি, গায়ে সাদা পাঞ্জাবি ও সাদা পা-জামা পরে তিনজন লোককে নিয়ে অবতরণ করেন। এ খবর পেয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ সাধারণ জনতা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন। তারা রাজাকারপুত্রের আগমনের প্রতিবাদে হেলিকপ্টার ঘেরাও করে বিক্ষোভ মিছিল করে দুই মিনিটের মধ্যে তাকে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেন। জনরোষ টের পেয়ে জুবায়ের আহমেদ দ্রুত ফিরে যান।

হেলিকপ্টারে ওঠার সময় তিনি বলেন, আমার বাবা এদেশের সবচেয়ে বড় রাজাকার ছিলেন। তার কবর কবর জিয়ারত করার জন্য প্রতি বছর আমি এখানে আসি। বলেই তিনি হেলিকপ্টারে ওঠে পড়েন। এসময় তাকে বহনকারী হেলিকপ্টারের চালক সাংবাদিকদের ছবি তুলতে বাঁধা প্রদান করে।

এসময় যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতৃবৃন্দ- ‘রাজাকারের আস্তানা শাল্লায় থাকবে না’- এ ধরনের স্লোগান দিতে থাকেন। 

আপনার মন্তব্য

আলোচিত