নিজস্ব প্রতিবেদক

০৫ এপ্রিল, ২০১৬ ১৪:৫৮

বাহুবলে ৪ শিশু হত্যা : ‘ক্রসফায়ারে’ নিহত বাচ্চুর নামও অভিযোগপত্রে

হবিগঞ্জের বাহুবলে  উপজেলার সুন্দ্রাটিকি গ্রামের ৪ শিশু হত্যার ঘটনায় ৯ জনকে আসামী করে অভিযোগপত্র (চার্জশীট) প্রদান করেছে পুলিশ। অভিযোগপত্রে র‍্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত বাচ্চু মিয়ার নামও রয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মো. মোকতাদির হোসেন হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. কাউছার আলমের আদালতে এ চার্জশীট দাখিল করেন।
 
মঙ্গলবার দুপুরে পৌনে ১টায় হবিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শহীদুল ইসলাম হবিগঞ্জ পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংক্ষিপ্ত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান। তিনি জানান,  ৪৯ দিনে ৩২ কার্যদিবসে মোট ৫৭ জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষেরর ভিত্তিতে ১২ পাতার এ প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে ৫ জন কারাগারে এবং ৩ জন পলাতক রয়েছেন। এ ছাড়া অন্যতম আসামি সিএনজি অটোরিকশা চালক বাচ্চু র‍্যাবের সঙ্গে ক্রসফায়ারে নিহত হন। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি চুনারুঘাট থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। যদিও বাচ্চুর পরিবার কদিন আগেই দাবি করেছিল, র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) সদস্যরা তাঁকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গেছে।
 
কারাগারে আটকরা হলেন- হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী আব্দুল আলী ওরফে বাগাল, তার দুই ছেলে জুয়েল ও রুবেল, একই গ্রামের আরজু ও শাহেদ। পলাতক ৩ আসামি হলেন- আব্দুল আলী ওরফে বাগালের ভাতিজা সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক বিলাল, উস্তার ও বাবুল।
 
এ ছাড়া কারাগারে বন্দি সালেহ ও বশিরের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কোনো অভিযোগ না পাওয়ায় তাদের মামলা থেকে অব্যাহতি (নট সেন্ট আপ) দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহীদুল ইসলাম আরও জানান-বড়ই গাছ কাটা নিয়ে পঞ্চায়েত আব্দুল আলী ওরফে বাগালের পরিকল্পনায় ৪ শিশুকে হত্যা করা হয়।
 
১২ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় ওই শিশুদের অটোরিকশা চালক বাচ্চুর অটোরিকশায় করে আব্দুল আলী ওরফে বাগালের লেবু বাগানে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখানে অচেতন করে গলাটিপে হত্যার পর ৩ থেকে ৪ দিন রেখে অটোরিকশায় করে সুন্দ্রাটিকির ইছাবিল এলাকায় মাটি চাপা দেওয়া হয়। পুলিশ হত্যাকাণ্ডের আলামত হিসেবে শাবুল, কোদাল, প্লাস্টিকের বস্তা, শিশুদের রক্তমাখা পাঞ্জাবি, গেঞ্জি ও অটোরিকশা উদ্ধার করে। হত্যাকাণ্ডের পর গ্রেফতার করা আসামিদের মধ্যে আব্দুল আলী ওরপে বাগালের ছেলে জুয়েল ও রুবেল এবং আসামি আরজু ও শাহেদ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
 

উল্লেখ্য, ১২ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় তাদের অপহরণ করা হয়। পাঁচদিন পর বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে গ্রাম থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরের ইছারবিল খালের পাশে বালুমিশ্রিত মাটির নিচে ওই চার শিশুর মৃতদেহ পাওয়া যায়।
 
নিহত শিশুরা হলো- সুন্দ্রাটিকি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র জাকারিয়া শুভ (৮), প্রথম শ্রেণির ছাত্র মনির মিয়া (৭), চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র তাজেল মিয়া (১০) ও সুন্দ্রাটিকি মাদ্রাসার ছাত্র ইসমাইল মিয়া (১০)। এদের মধ্যে প্রথম তিনজন সম্পর্কে আপন চাচাতো ভাই। আর ইসমাইল তাদের প্রতিবেশী। স্থানীয় সূত্র জানায়, শিশু মনির, শুভ ও তাজেলের বাবার সঙ্গে একটি বড়ই গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে একই গ্রামের পঞ্চায়েত আব্দুল আলী বাগলের বিরোধ ছিল। এর জের ধরে ওই চার শিশুকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত