০৭ এপ্রিল, ২০১৬ ২২:৪৯
আগামী ৭ মে সিলেটের বিশ্বনাথের ৭ ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই ৭ ইউপিতে ৬বিদ্রোহী প্রার্থীসহ আ’লীগের ১৩জন, ৫বিদ্রোহী প্রার্থীসহ বিএনপির ১২জন, জাতীয় পার্টির ৫জন, জামায়াতের ৩জন, খেলাফত মজলিশ, স্বতন্ত্রপ্রার্থীসহ ৪১জন চেয়ারম্যান প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকার রিটার্নিং অফিসারদের কার্যালয়ে তারা তাদের মনোনয়ন দাখিল করেন। এছাড়া ৬৩টি ওয়ার্ডে মেম্বার পদে ২শ’ ৯৬ জন ও ২১টি ওয়ার্ডে সংরক্ষিত (মহিলা) সদস্য পদে ৬৫ জন প্রার্থী নিজেদের মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। তবে আ’লীগ ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা নিজেদের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাবি করেছেন।
সিলেট জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক এমপি শফিকুর রহমানের উপস্থিতিতে মিছিলসহকারে উপজেলা আ’লীগের নেতৃবৃন্দসহ আ’লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।
আর কোনপ্রকার হৈ-হুল্লোড় ছাড়া জেলা বিএনপি নেতা বিশ্বনাথ উপজেলা চেয়ারম্যান সুহেল আহমদ চৌধুরীর উপস্থিতিতে উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ তাদের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এরআগে উপজেলা চেয়ারম্যান সুহেল আহমদ চৌধুরী তার নিজ বাসভবন কারিকোনায় বিএনপি মোনোনীত উপজেলার ৭ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নাম ঘোষনা করেন। এসময় প্রার্থীদের হাতে হাতে বিএনপি দলীয় মনোনয়নপত্র বিতরণ করেন তিনি।
এদিকে উপজেলা সদরে প্রাথীদের নিয়ে মিছিল করায় বিএনপির পাশাপাশি আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরাও বিষয়টি ভিন্ন চোঁখে দেখছেন। উপজেলা সদরে মিছিল করায় সরকারদলীয় নেতাদের উপর বিএনপি যেমন আচরণ বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে তেমনি আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরাও আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছেন।
এপ্রসঙ্গে উপজেলা বিএনপির সভাপতি বিশ্বনাথ সদর ইউনিয়নের বিএনপিদলীয় চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী জালাল উদ্দিন ও আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী একই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ছয়ফুল হক অভিযোগ করে বলেন, প্রশাসনের নাকের ডগায় মিছিল দিয়ে তারা (আ’লীগ) মনোনপত্র জমা দিয়েছেন। প্রশাসন তা দেখেও না দেখার ভান করছে।
তবে এ অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার বলেন, বড় দল হিসেবে একসঙ্গে নির্বাচন অফিসে গিয়েছেন। সরকারের সকলপ্রকার আইন মেনেই নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী দিয়েছেন বলেও তিনি জানান।
আ’লীগ : লামাকজি ইউনিয়নে ডাঃ শাহনুর হোসেন, খাজাঞ্চি ইউনিয়নে শংকর চন্দ্র ধর, বিদ্রোহী প্রার্থী পীর লিয়াকত হোসেন, অলংকারি ইউনিয়নে রফিক মিয়া, রামপাশা ইউনিয়নে অ্যাডভোকেট আলমগীর হোসেন, বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান, দৌলতপুর ইউনিয়নে আমির আলী, বিদ্রোহী প্রার্থী আসাব উদ্দিন, বিশ্বনাথ ইউনিয়নে আব্দুল জলিল জালাল, বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান ছয়ফুল হক ও শাহ আসাদুজ্জামান আসাদ ও দেওকলস ইউনিয়নে আবুল কালাম জুয়েল, বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান ফখরুল আহমদ মতসিন।
বিএনপি : লামাকাজিতে কবির হোসেন ধলা মিয়া, খাজাঞ্চিতে তালুকদার গিয়াস উদ্দিন, অলংকারি এমএ হক, বিদ্রোহী প্রার্থী নাজমুল ইসলাম রোহেল, রামপাশায় জয়নাল আবেদিন, বিদ্রোহী প্রার্থী বিএনপি নেতা বশির আহমদ, প্রবাসী আজিজুর রহমান, নেছার আহমদ ও আলাউদ্দিন, দৌলতপুরে হাফিজ আরব খান, বিশ্বনাথ সদর সাবেক চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন ও দেওকলসে আলাল আহমদ।
জাতীয় পার্টি : জাতীয় পার্টি থেকে একেএম দুলাল, রুবেল আহমদ আফজাল, ছালেহ আহমদ তুতা, সাইদুর রহমান ও সহল আল রাজী। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী জামায়াত নেতা সাবেক চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন সিদ্দিকী, মইন উদ্দিন ও বাবুল মিয়া। খেলাফত মজলিশ বিশ্বনাথের আহবায়ক মাওলানা আব্দুল মতিন, স্বতন্ত্র প্রার্থী সাংবাদিক খালেদ মিয়াসহ মোট ৪১জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
আপনার মন্তব্য