নিজস্ব প্রতিবেদক

১০ এপ্রিল, ২০১৬ ২২:৪০

‘বিদ্যুৎ মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন’

শনিবার রাতে খবর বেরিয়েছিল  বিদ্যুৎ উৎপাদন আট হাজার ৩৪৮ মেগাওয়াটে উন্নীত করে নতুন রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ। ঐ সময়েই সিলেটের কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুতের দাবিতে আন্দোলন চলছিল। আন্দোলন হলো আজও (রোববার)।

খোঁজ নিয়ে জানা যায় সদর উপজেলা তো বটেই জেলার বেশ কয়েকটি এলাকায় ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকট চলছে বেশ কয়েকদিন থেকেই।

প্রায় ৯০ ঘণ্টা থেকে বিদ্যুৎ নেই। বিদ্যুৎ না থাকার ফলে নেই ব্যবহার করার জন্য পর্যাপ্ত পানি। সীমাহীন দুর্ভোগ সইতে না পেরে বাধ্য হয়ে  রাস্তায় বেরিয়ে আসছেন মানুষ।

সিলেট বিভাগ জুড়েই আছে এ চিত্র। সিলেট নগরীর পার্শ্ববর্তী কয়েকটি এলাকায় গত এক সপ্তাহ ধরে নানান সড়কে অবরোধ করেন সাধারণ মানুষ। সবচেয়ে বেশি অবরোধের কবলে পড়ে গুরুত্বপূর্ণ সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক। এ সড়কে গত সপ্তাহে তিন দফায় অন্তত ৬ টি স্থানে বিদ্যুতের দাবিতে অবরোধ করা হয়। অবরোধ হয়েছে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কেও।

রোববার (১০ এপ্রিল) সন্ধ্যার পর থেকেই   সিলেট-তামাবিল সড়কের খাদিমপাড়া ইউনিয়নের পরগনা বাজার থেকে বটেশ্বরের আশাব্যংক পর্যন্ত স্থানে স্থানে অবরোধ করে খণ্ড খণ্ড মিছিল করেন স্থানীয় জনতা। বিভিন্ন বয়সী এলাকাবাসী এক হয়ে স্লোগান দেন,  'আমাদের দাবি বিদ্যুৎ, বিদ্যুৎ',  'অ্যাকশন, অ্যাকশন... ডাইরেক্ট অ্যাকশন, বিদ্যুৎ মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন', 'মন্ত্রী এমপির বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন'।

পরগনা বাজার এলাকায় সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেল কোন রাজনৈতিক বিভাজন নয়, এলাকার দল মত নির্বিশেষে সবাই এক হয়ে রাস্তায় নেমে এসেছেন। এসময় সুরমা গেইট বাইপাস থেকে বটেশ্বর পর্যন্ত যানবাহনের দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়।

শত শত গাড়ি আটকে সাধারণ মানুষকে কষ্ট দিয়ে কি লাভ এমন প্রশ্নে সাইফুল নামের একজন বলেন, "আমরা একান্ত নিরুপায় হয়ে রাস্তায় নেমেছি, কাউকে কষ্ট দিতে চাইনা, কিন্তু সরকারকে নাড়া দেয়ার আর কোন উপায়ও আমাদের হাতে নেই"। আরেকজন কথা কেড়ে নিয়ে বলেন, "ভাই বাথরুমের কাজে ব্যবহার করার পানি পর্যন্ত নেই, আর কি করব?"।

দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের রেকর্ডের খবর জানেন কিনা জানতে চাইলে উপস্থিতি সবাই সমস্বরে, "ভুয়া, ভুয়া" বলে চিৎকার দিয়ে উঠেন।

স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগের সাথে যোগাযোগ করে জানা যায়, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে লাইন বিকল হওয়ায় বিদ্যুৎ নেই। তারা দিনরাত পরিশ্রম করে লাইন ঠিক করার চেষ্টা করছেন বলেও জানান।

তবে সাধারণ মানুষ এসব কথা মানতে নারাজ। তাদের কথা একদিন, বড়জোর দুইদিন পর্যন্ত মানা যায় কিন্তু সংস্কারের জন্য টানা ৪ দিন প্রায় লাখ খানেক মানুষকে বিদ্যুৎবিহীন রাখা কোনভাবেই মানা যায় না।

সিলেটের সদর উপজেলা ছাড়াও বিয়ানীবাজার, কোম্পানিগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, গোলাপগঞ্জ এলাকায় গত কয়েকদিন থেকেই চলছে ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকট।

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের নিজ এলাকা বিয়ানীবাজারের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। এই উপজেলায় বেশিরভাগ ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সরবরাহ চাহিদার তুলনায় অর্ধেকেরও কম। তার উপর ঝড়-বৃষ্টি হলে তো এসব এলাকায়  ৪/৫ দিনের জন্য বিদ্যুতের দেখা পাওয়া যায়না।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত