২৮ এপ্রিল, ২০১৬ ২০:৩০
পাহাড়ি ঢলে হাওরের বোরো ফসল তলিয়ে যাওয়া ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুণর্বাসন এবং সুনামগঞ্জকে দুর্গত এলাকা ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন সুনামগঞ্জের পেশাজীবি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
বৃহষ্পতিবার দুপুরে স্থানীয় সামাজিক সংগঠন রানার এইড, হাউস, সুজন, সুরমা ও গৌসের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত মতবিনিময়সভায় এ দাবি জানানো হয়। মতবিনিময়সভায় বক্তারা হাওরের বোরো ফসলরক্ষায় হাওরাঞ্চলের নদ-নদী খনন করে ফসলরক্ষায় স্থায়ী সমাধানের দাবি জানান। উপস্থিত সুধীজন ফসলরক্ষায় স্থায়ী সমাধানের জন্য নানা প্রস্তাব দেন।
সামাজিক সংগঠন সুজন কার্যালয়ে সুজনের নির্বাহী পরিচালক নির্মল ভট্টচার্য্যরে সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময়সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন তাহিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল। সভায় সাংবাদিক, আইনজীবি, রাজনৈতিক দল গুলোর কৃষক সংগঠনের প্রতিনিনিধি ও কৃষক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি সহকারি অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন তালুকদার, সহকারি প্রভাষক সাজিনুর রহমান, জাতীয় কৃষক পার্টি সভাপতি আব্দুল আউয়াল, জেলা কৃষক দল সভাপতি আতম মিসবাহ, জেলা কৃষক লীগ সাধারণ সম্পাদক সেরুল আহমদ আহমদ, কৃষক নেতা এনামুল হক, রানার এইড পরিচালক অ্যাডভোকেট কল্লোল তালুকদার চপল, সাংবাদিক আল হেলাল, সাংবাদিক বিন্দু তালুকদার, মাইদুল রাসেল, সেলিম আহমেদ তালুকদার, হিমাদ্রী শেখর ভদ্র, শামছুল কাদির মিসবাহ, রানার এইডের নির্বাহী পরিচালক শামস শামীম, হাউসের নির্বাহী পরিচালক সালেহীন চৌধুরী শুভ, সুরমার নির্বাহী পরিচালক মাহতাব উদ্দিন তালুকদার প্রমুখ।
মতবিনিময়সভায় বক্তারা বলেন, প্রতি বছর হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের বরাদ্দ লুটপাট হয়। অসময়ে বাধের কাজ শুরু করায় বাঁধ ভেঙ্গে সোনার ফসল তলিয়ে কৃষক সর্বসান্ত হলেও কৃষকের ভাগ্যে ক্ষতিপূরণ জুটে না।
বক্তারা হাওরের বোরো ফসলরক্ষার জন্য হাওরাঞ্চলের নদ-নদী-খাল খননের দাবি জানিয়ে ফসলরক্ষায় স্থায়ী সমাধানের দাবি জানান। একই সঙ্গে বাঁধ নির্মাণে এলাকার সুবিধাভোগী কৃষকদের সম্পৃক্ত করে, বাঁধ নির্মাণকালীন সময়ে তাদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির আহ্বান জানান।
বক্তারা বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডে অবহেলা, দুর্নীতি, গাফিলতিসহ বাধ নির্মাণে নিযুক্ত ঠিকাদার, পিআইসিসহ অনেকেই ফসলহানীর ঘটনায় দায়ী। কৃষকের সর্বনাশ ডেকে আনায় তাদেরকে শাস্তি দিতে হবে। লুটপাটের উর্বর ক্ষেত্র হিসেবে প্রতি বছর বাঁধ নির্মাণের বরাদ্দ বাড়ে। অন্যদিকে কৃষকের দুর্ভোগ বাড়ে। পাউবো বরাদ্দ লোপাট করতে অপ্রয়োজনীয় অনেক প্রকল্প পাশ করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাত করছে। তাদের অপরিকল্পিত দুর্নীতির এসব প্রকল্প হাওরাঞ্চলের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহকে ব্যাহত করছে। এতে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসলহানীর ঘটনা ঘটছে।
আপনার মন্তব্য