২৩ নভেম্বর, ২০১৬ ১৮:০৯
আভ্যন্তরীন ও বাহ্যিক হুমকি মোকাবেলায় সেরবাহিনীকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সংবিধান রক্ষায়ও সেনাসদস্যদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেন তিনি।
বুধবার দুপুরে সিলেটের জালালাবাদ সেনানিবাসে ১৭ পদাতিক ডিভিশনের অধিনস্ত সদর দপ্তর ১১ পদাতিক ব্রিগেডসহ ৯ টি ইউনিটের পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।
সেনাবাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পবিত্র সংবিধান এবং দেশমাতৃকার সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার জন্য আপনাদের ঐক্যবদ্ধ থেকে আভ্যন্তরীণ কিংবা বাহ্যিক যে কোনো হুমকি মোকাবেলায় সদা প্রস্তুত থাকতে হবে।’
এই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য বুধবার সকালে সিলেটে এসে পৌছান প্রধানমন্ত্রী। পতাকা উত্তোলন শেষে সেনাবাহিনীর এই নতুন ডিভিশনের ৮ টি উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর সাথে ১১ পদাতিক ব্রিগেডসহ নয় পদাতিক ইউনিটের পতাকা উত্তোলনে অংশ নেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্ঠা মেজর জেনারেল (অব) তারিক আহমদ সিদ্দিক, সাবেক বাণিজ্য মন্ত্রী কর্ণেল (অব) ফারুক খান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার (জেনারেল) লেফটেন্যান্ট জেনারেল আনোয়ার হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মো. জয়নুল আবেদীন প্রমুখ।
এতে সেনাপ্রধান আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক ছাড়াও বিমান ও নৌ বাহিনীর প্রধানও উপস্থিত ছিলেন।
২০১৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সিলেটে সেনাবাহিনীর ১৭ পদাতিক ডিভিশনের যাত্রা শুরু হয়।
নিজের বক্তৃতায় সেনা সদস্যদের কাছে মানুষের প্রত্যাশা বেড়েছে উল্লেখ করে বলেন, আজকের এই দিনটি সেনাবাহিনীর জন্য অত্যন্ত আনন্দের একটি দিন, পরিপূর্ণতা অর্জনের দিন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন ব্রিগেড ও ইউনিট প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে সিলেট অঞ্চলে অবকাঠামো, সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন প্রাণ সৃষ্টি হয়েছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৭ পদাতিক ডিভিশনের উন্নয়ন এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে আশা জাগাচ্ছে এবং আপনাদের কাছে তাদের প্রত্যাশা বেড়েছে।
দেশের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্রিগেড পর্যায়ে স্পেশাল ফোর্স গঠনের বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে বলে জানান প্রধান অতিথি।
এরআগে সিলেট পৌঁছে হযরত শাহজালাল (র.) ও হযরত শাহপরাণ (র.) মাজার জিয়ারত করেন প্রধানমন্ত্রী।
বিকেলে নগরীর আলীয়া মাদ্রাসা মাঠে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় তাঁর ভাষণ দেওয়ার কথা থাকলেও জেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষিত হওয়ায় আচরণবিধি মেনে গত রোববার এই সমাবেশ স্থগিত করা হয়।
আপনার মন্তব্য