১২ ডিসেম্বর, ২০১৬ ১৯:০৫
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালো রাতে পাকবাহিনীর হাতে শহীদ হয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অনুদ্বৈপায়ন ভট্টাচার্য। এতোদিন এই শহীদ বৃদ্ধিজীবীর কোনো স্মৃতিচিহ্ন ছিলো না। স্বাধীনতার ৪৫ বছর পর এবার তাঁর নিজ জন্মস্থান হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে শহীদ অনুদ্বৈপায়ন ভট্টাচার্যের স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হচ্ছে।
উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে একলক্ষটাকা ব্যয়ে এই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মান কাজ শুরু হয়েছে গত ১০ ডিসেম্বর। ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে এটি উন্মুক্ত করা হবে। এসময় উপস্থিত থাকবেন স্থানীয় সংসদ সদস্য এমএ মুনিম চৌধুরী বাবু ও উপজেলা চেয়ারম্যান এডভোকেট আলমগীর চৌধুরী।
নবীগঞ্জ সরকারী ডিগ্রী কলেজ ও শহীদ অনুদ্বৈপায়নের নিজ গ্রাম জন্তরীর ত্রিমূখী রাস্তার মিলনস্থলের পাশে নির্মানা করা হচ্ছে এ স্মৃতিস্তম্ভ। ১৯৯২ সালে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ কর্তৃক শহীদ বুদ্ধিজীবী অনুদ্বৈপায়ন ভট্টাচার্যকে নিয়ে প্রকাশিত ডাক টিকেটকে প্রতিপাদ্য করে তৈরী করা হয়েছে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভের মূল নকশা।
নবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ কর্তৃক জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান শহীদ অনুদ্বৈপায়ন ভট্টাচার্যকে নিয়ে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের এই প্রচেষ্ঠাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন নবীগঞ্জবাসী। যদিও স্বাধীনতার পর নবীগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে তাঁর গ্রাম জন্তরী পর্যন্ত রাস্তার নামকরণ করা হয়েছিল অনুদ্বৈপায়ন সড়ক।তবে এখন সড়কটি কলেজ রোড নামেই অধিক পরিচিত। কোথাও চোখে পড়েনা না অনুদ্বৈপায়ন সড়কের ফলকটি।
জানা যায়, শহীদ অনুদ্বৈপায়ন ভট্টাচার্য হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার জন্তরী গ্রামে ১৯৪৫ সালের ৩১ জানুয়ারি তাঁর জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা দিগেন্দ্র চন্দ্র ভট্টাচার্য ছিলেন নামকরা আয়ুর্বেদ চিকিৎসক। ১৯৬৩ সালে এম.সি. কলেজ থেকে প্রথম বিভাগে মেধা তালিকায় একাদশ স্থান অধিকার করে আই.এস.সি (উচ্চ মাধ্যমিক) পাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যা বিভাগে প্রথম বর্ষ সম্মান শ্রেণীতে ভর্তি হন অনুদ্বৈপায়ন।
১৯৬৬ সালে অনুদ্বৈপায়ন পদার্থবিদ্যায় প্রথম শ্রেণীতে তৃতীয় স্থান অধিকারে বি.এস.সি সম্মান ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৬৭ সালে তিনি ফলিত পদার্থ বিদ্যায় প্রথম শ্রেনীতে দ্বিতীয় স্থান পেয়ে এম.এস.সি. পাশ করেন। ১৯৬৮ সালের ১৪ই মার্চ ফলিত পদার্থ বিভাগের প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন অনুদ্বৈপায়ন। আর একই বছরের ১ জুলাই জগন্নাথ হলের সহকারী আবাসিক শিক্ষক হিসেবে নিযুক্তি পান।
কলম্বো প্লানের বৃত্তি নিয়ে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চ শিক্ষার জন্য ১৯৭১ এর ২৬ মার্চ রাতে বিমানে উঠার সব ব্যবস্থা চুড়ান্ত ছিল এই শহীদ বুদ্ধিজীবীর। কিন্তু ভোর রাতে পাকবাহিনীর হাতে অন্যান্য মেধাবী ছাত্র- শিক্ষকের সাথেই শহীদ হন অনুদ্বৈপায়নের ভট্টাচার্য।
স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, অনুদ্বৈপায়ন ভট্রাচার্য শহীদ হওয়ার দু’ দিন আগে অর্থাৎ ( ২৪ মার্চ) নিজ জন্ম ভুমি নবীগঞ্জের জন্তরী গ্রামে এসেছিলেন।
২৬ মার্চ লন্ডন বিশ্ব বিদ্যালয়ে উচ্চতর ডিগ্রী নিতে যাওয়ার জন্য বাড়ির লোকজনের কাছ থেকে বিদায়ও নেন। এ সময় অনেকেই ঢাকায় না যেতে বারণ করেছিলেন। কিন্তু তাঁর স্বপ্ন এবং উচ্চতর ডিগ্রী গ্রহনের দিক বিবেচনা করে কারো বাধাঁ তাকে ধরে রাখতে পারেনি। তিনি ২৫ মার্চ ঢাকায় ফিরেন। ওই দিনই দিবাগত ভোর রাত (২৬ মার্চ) পাকবাহিনীর বুলেটে তিনি শহীদ হন।
এদিকে, সোমবার (১২ ডিসেম্বর) বিকেলে নবীগঞ্জের কৃতিসন্তান শহীদ বুদ্ধিজীবী অনুদ্বৈপায়ন ভট্টাচার্য স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণকাজ পরিদর্শন করেছেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এডভোকেট আলমগীর চৌধুরী ও হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি এবং দৈনিক হবিগঞ্জ জনতার এক্সপ্রেস পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক ফজলুর রহমান।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক সাইফুল জাহান চৌধুরী, পৌরসভার প্যানেল মেয়র-১ এটিএম সালাম, পৌর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক নির্মেলেন্দু দাশ রানা, সাংগঠনিক সম্পাদক ওহি দেওয়ান চৌধুরী, শহীদ অনুদ্বৈপায়ন স্মারক গ্রন্থের সম্পাদক সাংবাদিক উজ্জ্বল দাশ, নবীগঞ্জের সংবাদপত্র এজেন্ট মোশাহীদ আলী, দৈনিক হবিগঞ্জের বাণী প্রতিনিধি মামুন আহমেদ প্রমুখ।
আপনার মন্তব্য