১৫ ডিসেম্বর, ২০১৬ ২৩:৫১
কনের বয়স ১৭। বরের ৩৫। প্রবাসী। বৃহস্পতিবার রাতে সিলেট নগরীর একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্টে আয়োজন করা হয়েছিলো এই দু'জনের বিয়ের।
গোপনসূত্রে এই বাল্য বিয়ের খবর যায় প্রশাসনের কাছে। একজন ম্যাজিস্ট্রেটকে নিয়ে ওই রেস্টুরেন্টে অভিযানে যায় পুলিশ। অভিযানের খবর পেয়েই ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বর-কনে আর বরযাত্রীরা।
বৃহস্পতিবা রাতে নগরীর চৌহাট্টার লাংথুরাই চাইনিজ রেস্টুরেন্টে এই বিয়ের আয়োজন করা হয়। রাত ৯ টার দিকে অভিযানে যায় প্রশাসন। অভিযানে পণ্ড হয়ে যায় বিয়ের আয়োজন।
বিয়েতে আসা একাধিক অতিথির সাথে কথা বলে জানা যায়, বিয়ের আয়োজনের সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছিলো। বারযাত্রী এবং দাওয়াতিদেরও খাওয়া দাওয়াও ছিলো শেষ পর্যায়ে। বর-কনের মালা বদল সম্পন্ন হয়ে গেছে। অপেক্ষা শুধু কাজীর কাবিন পড়ানোর কথা । তবে শেষ মুহুর্তের কবুল বলা হল না বর-কনের।
সিলেট জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমান ও কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুহেল আহাম্মদের নেতৃত্বে অভিযানে পণ্ড হয়ে যায় এই বিয়ের আয়োজন।
লাংথুরাই চাইনিজ রেস্টুরেন্টের এক কর্মকর্তা জানান, কনের বাবা মাসুক মিয়া (৫৫) মিয়া এই রেস্টুরেন্টটি তার মেয়ের বিয়ের জন্য ভাড়া নেন। এতে ১৫০ জন অতিথির খাবারের আয়োজন করা হয়েছিলো।
কোতয়ালী থানার ওসি সুহেল আহাম্মদ বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর আসে চৌহাট্টা লাংথুরাই চাইনিজে অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়ের বিয়ের আয়োজন চলছে। খবর পেয়ে সিলেট জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমানকে সাথে আমরা অভিযান চালাই। তবে সেখানে বর-কনে’কে পাওয়া না যায়িন।
ওসি বলেন, কনের বাবা ছাতকের সেওতর পাড়া গ্রামের মাসুক মিয়া জানিয়েছেন বিয়ে নয় পান-চিনির আয়োজন চলছিল। অভিযানের খবর পেয়ে গাঁ -ঢাকা দিয়েছেন বর পক্ষ। শেষ পর্যন্ত মেয়ের বাবাকে অনুষ্ঠান আয়োজন বন্ধ করিয়ে স্থান ত্যাগ করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সদস্যরা।
উল্লেখ্য, গত ৮ নভেম্বর সিলেট জেলাকে বাল্য বিবাহ মুক্ত ঘোষণা করা জেলা প্রশাসন। ওই দিন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো. জামাল উদ্দীন আহমেদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে সিলেটকে বাল্য বিবাহ মুক্ত ঘোষণা করেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব এন এম জিয়াউল আলম।
আপনার মন্তব্য