নিজস্ব প্রতিবেদক

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৬ ২২:০৪

যুদ্ধ জয়ের গল্প শোনালেন মুক্তিযোদ্ধারা

১৯৭১ সালে ৯ মাসব্যাপী মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের পর ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয়েছিলো গৌরবোজ্জ্বল বিজয় আর সে বিজয় ছিনিয়ে আনতে জীবন বাজি রেখে লড়েছিলেন দেশের বীর মুক্তিযোদ্ধারা। স্বাধীনতার ৪৫তম বিজয় দিবসে সে সকল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কয়েকজনকে ঘিরেই সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি আয়োজন করেছিলো বিজয় দিবস আলোচনা সভার।

নগরীর জেলরোডে অবস্থিত সিলেট চেম্বার ভবনে শুক্রবার (১৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে সিলেট ও সুনামগঞ্জ অঞ্চলের রণাঙ্গনে সম্মুখ সমরে অংশগ্রহণকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রীতিভূষণ চৌধুরী, রজনীকান্ত দাস, কৃষ্ণকান্ত দাস, পৃতিশ চন্দ্র দাস শোনান তাঁদের বিজয়গাঁথা।

এ আলোচনা সভার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন স্কটিশ বংশোদ্ভূত বাঙালি মুক্তিযোদ্ধা জেমস লিও ফারগুসন নানকা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেমস লিও ফারগুসন বলেন, “আমি যুদ্ধ করেছি সিলেট ৪নং সেক্টরে। যুদ্ধ শুরুর সময় আমি ছিলাম ময়নামতি ক্যাডেট কলেজের শিক্ষার্থী। যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে মায়ের অনুমতি নিয়ে ভারতে প্রশিক্ষণ গ্রহণ শেষে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করি। তখন সেক্টর কমান্ডার ছিলেন সিআর দত্ত। আমরা যুদ্ধ করে ১৯৭১ সালের ৪ ডিসেম্বর মুক্ত করি কানাইঘাট উপজেলা। তারপর যুদ্ধের শেষ দিকে অগ্রসর হই আমরা সিলেট শহরের দিকে। যুদ্ধের জন্য জীবন বাজি রেখেছিলাম আমি, আর তাই দেশের টানে দেশের বাইরে গেলেও ফিরে আসি এ দেশে। এ দেশের মানুষ আমাকে সম্মান দিয়েছে, আমাকে আবারো তাদের জনপ্রতিনিধি বানিয়েছে, আমিও তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ, যুদ্ধ করে আমি গর্বিত”।

স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কৃষ্ণকান্ত দাস বলেন, “আমরা ঠিক তথাকথিত যুদ্ধ করিনি, দেশ স্বাধীন করতে আমরা গেরিলা যুদ্ধ করেছি। আর তখন উন্নতমনা ও বলিষ্ঠচিত্তের মানুষই মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলো, যুদ্ধের ৪৫ বছর পর ভাতা পাওয়ার জন্য নয়”।

তিনি বলেন, “দেশ স্বাধীন হওয়ার আগেও আমরা যারা হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ, আমাদের বলতো আমরা 'ইন্দুর (তুচ্ছার্থে হিন্দু)’, দেশ স্বাধীন হওয়ার এত বছর পরও আমরা তাই রয়ে গেলাম। আমরা আজও মানবিকতার দেখা পেলাম না, মানুষ হতে পারলাম না”।

বর্তমান সময়ে মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থা নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা প্রীতিভূষণ দাস বলেন, “মুক্তিযোদ্ধারা দেশের জন্য যুদ্ধে করেছিলো। তাঁরা কোন পার্টি করে না, তাঁরা কারো দালালি করেনা, তাঁরা কেবল চায় দেশের মানুষ ভালোভাবে বাঁচুক”।

অন্যান্য বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে এ সময় উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন পৃথিশ চন্দ্র দাস, রজনীকান্ত দাস, আমির আলী, প্রীতিকুসুম দাস, ক্ষিরোদ মোহন দাস প্রমুখ।

সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সহ-সভাপতি মাসুদ আহমেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে আয়োজিত এ আলোচনা সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক মুকির হোসেন, হিজকিল গুলজার ও সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক দেবব্রত রায় দীপন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত