দেবব্রত চৌধুরী লিটন

১৮ ডিসেম্বর, ২০১৬ ১৯:০৫

স্কুল ছুটি হলেই লাল পতাকা হাতে মহাসড়কে দাঁড়ান তিনি!

সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের পাশে সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার ৪৮ নং লাল কৈলাশ সরকারি প্রাথমিক বিদ‌্যালয়। বিদ‌্যালয় খোলা থাকলে প্রতিদিন চারবার হাতে লাল পতাকা নিয়ে স্কুলের শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক পাড় করে দিতে দেখা যায় একজনকে। তিনি রবি দেবনাথ রাজন। ওই বিদ‌্যালয়ের দপ্তরী ও নৈশ প্রহরী হিসেবে কর্মরত আছেন। তবে স্কুলের শিক্ষার্থীদের কাছে তিনি পরিচিত ‘বড় ভাই’ হিসেবে।

স্কুল ছুটির পর প্রতিদিন ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক পারাপারে সহায়তা করেন তিনি। ব্যস্ত এই সড়ক পার হতে শিক্ষার্থীরা যাতে কোনো দুর্ঘটনার শিকার না হয় সেজন্য লাল পতাকা হাতে সড়কে থাকেন তিনি।

নিজের চাকরীর দায়িত্বের বাইর স্বউদ্যোগে এই অতিরিক্ত দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন রবি দেবনাথ।

তিনি জানান, কয়েকবছর আগে এ মহাসড়ক পার হতে গিয়ে মৃত‌্যু ঘটেছিলো দুই শিক্ষার্থীর, এরপর থেকে বিবেকের তাড়নায় তিনি নিজ হাতে তুলে নেন সাধারণ শিক্ষার্থীদের সড়ক পারাপারের দায়িত্ব।

রবি দেবনাথ রাজনের বাড়ি ওসমানীনগর উপজেলার ইলাশপুর গ্রামে। এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার পর অভাবের কারণে আর পরীক্ষা দেননি রবি। ২০১৪ সালে যোগ দেন এ বিদ‌্যালয়ে। বিদ্যালয়ে দপ্তরির চাকরীর আয়ে চলে সংসারের খরচ।

নিয়োগ পাওয়াকালীন মৌখিক পরীক্ষার সময়ে ঊপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে সড়ক দুর্ঘটনায় কোন শিক্ষার্থীকে মরতে দেবেন না বলে আশ্বস্ত করেছিলেন। সে অনুযায়ী হাতে তুলে নেন লাল পতাকা।

রাজন বলেন, প্রাক-প্রাথমিক থেকে ৫ম শ্রেনী পর্যন্ত দিনে দুই শিফটে মোট ৪ বার শিক্ষার্থীদের সড়ক পারাপার করাতে হয় তাদেরকে প্রথমে রাস্তায় পাশে দাঁড় করাই। রাস্তার মধ্যের মাঝ খানে আমি দাঁড়াই তখন তারা পার হয়। বিরতির সময় আমি তাদেরকে সড়ক চলাচলের নিয়মকানুন শিখাই যাতে অসাবধানতার কারণে কেউ মারা না যায়।

এ সড়কে স্কুলের পাশে কোন গতি নিয়ন্ত্রক না থাকায় রাস্তা পারাপারে শিক্ষার্থীরা ঝুঁকির মধ‌্যে আছে, এ বিষয়টি বিবেচনায় বিদ‌্যালয় কর্তৃপক্ষ একাধিকবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবরে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে জানান বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা সুপ্তি রানী দে। তিনি বলেন, বিদ্যালয়ে চাকরী হওয়ার পর থেকে রবি দেবনাথ রাজন স্কুলের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন‌্য এ অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে আসছে, তবে এ মহাসড়কে দ্রুত গতি নিয়ন্ত্রক প্রয়োজন।

মহাসড়কের পাশে বিদ‌্যালয়টির শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় সড়ক নিয়ন্ত্রক প্রয়োজন স্বীকার করে ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শওকত আলী জানান, বিষয়টি আসলেই গুরুত্ব সহকারে বিবেচনায় নেয়া হবে এবং দ্রুততম সময়ের মধ‌্যে যাতে সড়ক নিয়ন্ত্রক বসানো হয়, এ ব‌্যাপারে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সাথে যোগাযোগ করা হবে। ছবি: হারান কান্তি সেন 

আপনার মন্তব্য

আলোচিত