২০ ডিসেম্বর, ২০১৬ ১৮:৪৮
সিলেটে সহস্রাধিক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্বোধন হলো বইপড়া উৎসবের। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানার গভীর প্রত্যয়ে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ এ উপলক্ষে পরিণত হয় শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সমুন্নত মানুষের মিলনমেলায়।
জীবনমান উন্নয়ন প্রয়াসী সংস্থা ইনোভেটরের আয়োজনে বইপড়া উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে। শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেয়ার পূর্বে আলোচনা সভায় সম্মানিত অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ শিশু একাডেমির চেয়ারম্যান, বরেণ্য কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের মতো ত্যাগ ও গৌরবের ইতিহাস পৃথিবীর আর কোন জাতির নেই। মুক্তিযুদ্ধের গল্পের কোন শেষ নেই। একাত্তরের গল্প আসলে শেষ হয় না।
সেলিনা হোসেন আরো বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের দ্রোহ, সংগ্রাম ও বীরত্ব গাঁথা আমাদের অনন্তকাল পথ দেখাবে। আজকের এই তরুণ প্রজন্মকে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস অনুসন্ধান করতে হবে। তাদেরকে ফিরে যেতে হবে আমাদের গৌরবময় আখ্যানে। আর সে লক্ষ্যে বই পড়া অত্যন্ত তাৎপর্যময়। সে দিক বিবেচনায় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস অনুশীলনে এই বইপড়া উৎসবের ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। একাত্তরের সংগ্রাম আমাদের জাতীয় চেতনার মূল মন্ত্র। ভালো ছাত্র হওয়ার পাশাপাশি দেশ প্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠারও চেষ্টা থাকতে হবে। সে জন্য মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস চর্চার কোন বিকল্প নেই। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস কখনো বিকৃত হতে পারে না। মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্নের কখনো শেষ হয় না।
মঙ্গলবার (২০ ডিসেম্বর) বিকেলে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বইপড়া উৎসবের প্রধান উদ্যোক্তা ও ইনোভেটরের মুখ্য সঞ্চালক সিটি কাউন্সিলর রেজওয়ান আহমদ। অনুষ্ঠানের শুরুতে বইপড়া উৎসব আয়োজনের নানা দিক নিয়ে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, উৎসবের আরেক উদ্যোক্তা সহকারী অধ্যাপক প্রণবকান্তি দেব।
সিলেট বেতারের উপস্থাপিকা জান্নাতুল নাজনীন আশার উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী, সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকরামুল কবির, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নিরঞ্জন দে যাদু, প্রভাষক মাসুম বিল্লাহ, মবরুর আহমদ সাজু, প্রভাষক সুমন রায় ও শিক্ষার্থী ফারজানা আহমদ।
আলোচনা সভা শেষে শিক্ষার্থীদের হাতে এ বছরের নির্বাচিত গ্রন্থ সেলিনা হোসেনের ‘গল্পটা শেষ হয় না’ এবং সৈয়দ শামসুল হকের ‘নিষিদ্ধ লোবান’ গ্রন্থটি তুলে দেয়া হয়।
উল্লেখ্য, ‘জ্ঞানের আলোয় অবাক সূর্যোদয়!/ এসো পাঠ করি/ বিকৃতির তমসা থেকে/ আবিষ্কার করি স্বাধীনতার ইতিহাস’ স্লোগানকে সামনে রেখে ২০০৬ সাল থেকে এ বইপড়া উৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে এ উৎসবটি সিলেটের সর্বমহলের ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।
আপনার মন্তব্য