১০ মে, ২০১৭ ২২:১৩
বাড়ি করার জন্য সিলেট নগরীর অদূরের আখালিয়ায় একটি টিলা কেটে ধ্বংস করে ফেলেছেন এক লন্ডন প্রবাসী। গত এক সপ্তাহ ধরে প্রায় ১২৯ শতাংশ টিলাভূমির পুরোটা সমতল করে ফেলা হয় এক্সকাভেটর যন্ত্র দিয়ে। বুধবার ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে টিলা কাটার দায়ে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা হয় লন্ডনপ্রবাসী হুমায়ুন কবির চৌধুরীকে।
সিলেটের আখালিয়ার যুগীপাড়ার ওই টিলা শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন একটি মহল্লা। স্থানীয় লোকজন জানান, আগে সেখানে গরুর খামার ছিল। এর এক-তৃতীয়াংশজুড়ে ছিল তিনটি টিলা। কিছুদিন আগে খামার গুটিয়ে মালিকেরা তাঁদের জায়গা ভাগ-বাঁটোয়ারা করে নেন। এর মধ্যে হুমায়ুনের অংশে পড়া ১২৯ শতাংশ জায়গায় বাড়ি করতে কাটা হচ্ছিল টিলা।
বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী সরকারি, বেসরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন কাজে পাহাড়-টিলা কাটা বা অন্য কোনো উপায়ে ভূমিরূপ পরিবর্তন করা যাবে না। তবে ঝুঁকিপূর্ণ টিলা-পাহাড়ের ক্ষেত্রে পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন সাপেক্ষে ঝুঁকি হ্রাস করতে ড্রেসিং (ঝুঁকিপূর্ণ অংশ কেটে সমান্তরাল করা) করা যাবে।
বুধবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, টিলা কেটে উঁচু-নিচু মাটি ভরাট করা হচ্ছে। বেলা একটার দিকে জায়গার মালিক লন্ডনপ্রবাসী হুমায়ুন কবির চৌধুরী সেখানে হাজির হন। টিলা কাটার ‘অনুমতি আছে’ জানিয়ে তিনি পরিবেশ অধিদপ্তরে করা একটি আবেদনপত্র প্রতিবেদককে দেখান। কিন্তু তাতে টিলা কাটার অনুমতি নেই জানালে তিনি বলেন, এটি টিলা এলাকা নয়। এ জন্য অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন পড়েনি।
টিলা শ্রেণির ভূমি অবিকৃত আছে বলে দাবি করে হুমায়ুন বলেন, ‘বাড়ি করার জন্য টিলার নিচের ১২৯ শতাংশ জায়গার মাটি কাটছি।’ তাহলে টিলা কাটার অনুমতি পেতে কেন আবেদন করেছিলেন—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি কিছু বলতে রাজি হননি।
বিকেলে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের (এডিএম) নেতৃত্বে প্রশাসনের একটি দল সরেজমিনে টিলা এলাকা পরিদর্শন করে। এ সময় পরিবেশ অধিদপ্তর ও পুলিশের একটি দল টিলা কাটায় ব্যবহৃত এক্সকাভেটর ও দুটি ট্রাক জব্দ করে এবং হুমায়ুনকে আটক করে।
পরে সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাইজার মো. ফারাবীর নেতৃত্বাধীন ভ্রাম্যমাণ আদালত টিলা কাটার দায়ে পাঁচ লাখ টাকার অর্থদণ্ড দেন লন্ডনপ্রবাসী হুমায়ুনকে। আর টিলা কাটা হবে না বলে মুচলেকাও আদায় করা হয়।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু শাফায়াৎ মো. শাহেদুল ইসলাম বলেন, ‘এককথায় বলতে গেলে, পরিবেশের ওপর ভয়াবহ ধ্বংসলীলা চালানো হয়েছে। একজন লন্ডনপ্রবাসীর বাড়ি করার খায়েশে পুরো একটি টিলা ধ্বংস হয়ে গেছে। এই এলাকায় আরও পাহাড়-টিলা আছে। টিলা কাটার শাস্তির দৃষ্টান্ত স্থাপন করতেই এ দণ্ড দেওয়া হয়েছে।’
পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেটের পরিচালক মো. ছালাহ উদ্দীন চৌধুরী বলেন, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ওই এলাকায় বাড়ি করতে টিলা কাটার অনুমতির চেয়ে আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু টিলা কাটার কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। পরে আরেকটি আবেদন করা হয়। তাতে ভূমির প্রকৃতি টিলা শ্রেণির নয়, এ রকম কিছু দলিলপত্র উপস্থাপন করা হয়। ওই সময়ই টিলা কর্তন ব্যতীত মাটি কাটতে বলা হয়েছিল। এ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আবদুল করিম চৌধুরী বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের উচিত যেসব টিলা কাটতে মালিকেরা আবেদন করেন, সেগুলোর ওপর কড়া নজর রাখা।
সূত্র : প্রথম আলো
আপনার মন্তব্য