বিয়ানীবাজার প্রতিনিধি

১৩ মে, ২০১৭ ১৭:১৭

বিয়ানীবাজারে টিকা দেয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগ, জনতার হাতে অাটক ২

বিয়ানীবাজারে টিকা দেয়ার নামে স্কুলের শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার (আরডিও) কর্মী পরিচয়ে কয়েকজন এ প্রতারণা করছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

সরকারি কোন কর্মসূচী কিংবা স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই উন্নয়ন সংস্থার কর্মী পরিচয়ে কয়েকজন ব্যক্তি দীর্ঘদিন থেকে স্পর্শকাতর এই টিকা প্রদান করছিল। এ সুযোগে তাঁরা শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের নিকট থেকে হাজার হাজার টাকা কামিয়ে নিচ্ছে।

শনিবার (১৩ মে) দুপুরে উপজেলার কুড়ার বাজার ইউনিয়নের চাইল্ড কেয়ার কিন্ডারগার্ডেনে টিকা দেওয়ার প্রস্তুতির সময় স্থানীয়রা তাদের আটক করে পুলিশে দেয়।

টিকা দেওয়ার পূর্বে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ তাদের স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের অনুমতি আনার কথা বলেন। ইউপি চেয়ারম্যানের অনুমতির কথা বলাতে তারা তাড়াহুড়ো শুরু করে। এছাড়া তারা টিকা প্রদানের জন্য তারা অনুমতির কাগজ দেখাতে পারেননি। এক পর্যায়ে তারা দৌড়ে স্কুল ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের আটক করে পুলিশে দেয়া হয়।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার (আরডিও) কর্মী পরিচয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিয়ানীবাজারের বিভিন্ন বিদ্যালয়ে ভেন্যু করে শিক্ষার্থী ও লোকজনকে টিকা দিচ্ছিল তারা। টিকা নিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৩০০ টাকা ও বয়স্ক লোকজনের কাছ থেকে ৪০০-৪৫০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে।

আটককৃতরা হলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাগেল থানার মুবেল ইসলাম (২২) ও একই জেলার শাহিদা খাতুন (২৫)।

চাইল্ড কেয়ার কিন্ডারগার্ডেনের প্রধান শিক্ষকের রমা চক্রবর্তী বলেন, গত মাসে তারা আমাদের বিদ্যালয়ে ক্যাম্পেইন করে । আমরা তাদের সকল কাগজপত্র দেখে তাদের ক্যাম্পেইনের অনুমতি দেই। কিন্তু এই মাসে তাদের আচরণ আমার কাছে সন্দেহজনক মনে হলে আমি তাদের বলি এলাকার চেয়ারম্যানের অনুমতি আনার জন্য। কিন্তু তারা অনুমতি আনার কথা বলাতে তারা পালিয়ে যায় । পরে আমি এলাকার জনসাধারণকে অবহিত করলে তারা তাড়া করে তাদেরকে আটক করেন।

কুড়ারাবাজার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এ এফএম আবু তাহের বলেন, ভুয়া এনজিও কর্মীরা প্রতারণা মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। গত মাসে তারা আমার এলাকার চাইল্ড কেয়ার কিন্ডারগার্ডেনে ক্যাম্পেইন করে হাতিয়ে নিয়ে লাখ লাখ টাকা । আজ সকালে তারা বিদ্যালয়ে আসলে বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক তাদের আচরণ সন্দেহজনক হলে তিনি তাদের আমার কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে ক্যাম্পেইন করার কথা বললে তারা আমার কাছে না এসে তারা পালিয়ে যায় । পর এলাকাবাসী ধাওয়া করে তাদের আটক করে আমার কার্যালয়ে নিয়ে আসলে আমি তাদের পুলিশে সোপর্দ করি।

বিয়ানীবাজার থানার (ওসি) তদন্ত আবুল বাসার মো. বদরুজ্জামান বলেন, দুই ভুয়া এনজিওর ডাক্তারকে আটক করে থানায় হস্তান্তর করেছেন এলাকাবাসী। তারা ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে টিকা প্রদান করে সাধারণ জনগণের সাথে প্রতারণা করে হাতিয়ে নিয়েছে কাড়ি কাড়ি টাকা। তাদের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত