নিজস্ব প্রতিবেদক

১৮ মে, ২০১৫ ২১:৩৭

স্ত্রীর হাতেই খুন হন তাবলীগ জামায়াত কর্মী খলিল!

আটকের পর স্ত্রী ফাতেহা বিবিকে থানায় নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ

সম্পত্তিসংক্রান্ত বিরােধের জের ধরে স্ত্রীর হাতেই খুন হয়েছেন সিলেট নগরীর চারাদিঘীর পাড় এলাকার তাবলীগ জামায়াতের কর্মী ইব্রাহীম খলিল (৫৫)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফাতেহা বিবি (৪৫) হত্যার সাথে সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সোমবার সন্ধ্যায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে ফাতেহা বিবিকে আদালতে হাজির করা হলেও হাকিম না থাকায় তার জবানবন্দি গ্রহণ করা হয় নি। এরআগে সোমবার সকালে ইব্রাহিব খলিলের লাশ উদ্ধারের পরপরই স্ত্রী ফাতেহা বিবিকে আটক করে পুলিশ।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (গণমাধ্যম) রহমতউল্যাহ জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন নিহতের প্রথম স্ত্রী ফাতেহা। সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধের কারনে তাকে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছেন রহমত।

এদিকে, জবানবন্দি রেকর্ডের  জন্য সোমবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে ফাতেহাকে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট-১ সাহেদুল করিমের আদালতে আনা হলেও জবানবন্দি রেকর্ড হয়নি। মঙ্গলবার তার জবানবন্দি ধারন করা হতে পারে বলে জানা গেছে।

পারিবারিক সূত্র জানায়, তাবলীগ জামায়াতের কাজ শেষে গত রোববারই দেশে ফেরেন ইব্রাহীম খলিল। চারাদিঘীরপাড়ে তার রয়েছে বিশাল ভূসম্পত্তি। তার বাসার সামনে রয়েছে একটি মার্কেট। এই মার্কেটের আয় দিয়ে সংসার এবং তাবলীগে যাবার ব্যয় নির্বাহ করেন। তিনি যে রুমে ঘুমাতেন ওই রুমের দরজা সব সময় খোলা থাকত। রোববার রাতেও এর ব্যত্যয় হয়নি। রাতে খাবার দাবার শেষে তিনি তার রুমে, স্ত্রী এক রুমে এবং ছোট ছেলে এসএসসি পরীক্ষার্থী সাজিদ আলাদা আরেকটি রুমে ঘুমাতে যায়। এছাড়া, তার বড় দুই ছেলে মাওলানা হুজায়ফা ও সানজিদ বর্তমানে তাবলীগের কাজে সিলেটের বাইরে রয়েছেন।

সূত্র জানায়, ইব্রাহীম খলিল ধোপাদিঘীরপার মসজিদে ফজরের নামাজ আদায় করতেন। তবে, সোমবার ফজরের নামাজে তিনি হাজির হননি। সোমবার সকাল ১০টার দিকে বাবার রুমে গিয়ে পিতার রক্তাক্ত দেহ দেখে চিৎকার দেয় সাজিদ। এরপর ছুটে আসেন প্রতিবেশীরা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তার লাশ উদ্ধার করে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত