সিলেটটুডে ডেস্ক

১৫ জুলাই, ২০১৭ ১৭:৩৫

বিপন্ন নদী ও পরিবেশ, খোয়াই নদী খননের দাবি

“খোয়াই নদী থেকে হবিগঞ্জের লক্ষ লক্ষ মানুষ কিভাবে তাদের জানমাল রক্ষা করবে এ প্রশ্ন এখন সকল নাগরিকের। উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে গত ১৯ ও ২০ জুন খোয়াই বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছিল। এমন আশংকা প্রতি বর্ষায়ই সৃষ্টি হতে পারে। তাই নদীটিকে বাল্লা থেকে সুজাতপুর পর্যন্ত খনন করতে হবে। এছাড়া চুনারুঘাট থেকে হবিগঞ্জ শহরের গরুবাজার পর্যন্ত বাঁধ মেরামত ও প্রয়োজনে উঁচু করতে হবে। রামপুর থেকে গরুবাজার পর্যন্ত বাঁধের উভয় দিকে গাইডওয়াল নির্মাণ করতে হবে”।

শনিবার (১৫ জুলাই) সকাল ১১টায় খোয়াই ব্রিজ পয়েন্টে খোয়াই নদী খনন ও অন্যান্য দাবিতে আয়োজিত গণসমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন।

খোয়াই নদী খনন, বাঁধ মেরামত ও নদীতীরের অবৈধ দখল উচ্ছেদ করার দাবিতে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন-বাপা হবিগঞ্জ শাখা, মার্চেন্ট এসোসিয়েশন ও খোয়াই রিভার ওয়াটারকিপার আয়োজিত গণসমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাপা জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক মো. ইকরামুল ওয়াদুদ। গণসমাবেশে সূচনা বক্তব্য রাখেন বাপা জেলা সাধারণ সম্পাদক ও খোয়াই রিভার ওয়াটারকিপার তোফাজ্জল সোহেল।

অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান শহীদ উদ্দিন চৌধুরী, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবিদুর রহমান, মার্চেন্ট এসোসিয়েশনের আহবায়ক ফজলুর রহমান লেবু, ব্যবসায়ি জগদীশ মোদক, শংকর পাল, বাপা সিলেট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিম ও ব্যকস্ সভাপতি শামসুল হুদা। সভায় বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক আবদুজ জাহের, ব্যকস এর সাবেক সভাপতি আলাউদ্দিন আহমেদ, কমরেড হীরেন্দ্র দত্ত, রোটারিয়ান ফনিভূষণ দাশ, মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী মমিন, ব্যবসায়ি আলহাজ¦ ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ নাহিজ, এডভোকেট জুনায়েদ আহমেদ, ব্যবসায়ি মো. আতাউর রহমান, হিরাজ মিয়া, ক্রীড়া সংগঠক হুমায়ুন খান, ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির জেলা সদস্য সচিব রফিকুল হাসান চৌধুরী তুহিন, বাপা জেলা শাখার যুগ্ম সম্পাদক হারুন সিদ্দিকী, রোটারিয়ান নোমান মিয়া, নাট্যকর্মী মুক্তাদির হোসেন, আজহারুল ইসলাম চৌধুরী মুরাদ, সংস্কৃতি কর্মী মনুসর আহমেদ, ওসমান গনি রুমী, পলাশ রায় তুষার প্রমুখ। গণসমাবেশ পরিচালনা করেন সমাজকর্মী আব্দুর রকিব রনি।

দীর্ঘদিন ধরে খোয়াই নদীর নাব্যতার ব্যাপারে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি অভিযোগ করে বাপা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল বলেন, খোয়াই নদী দূষণের শিকার হয়ে হবিগঞ্জের পরিবেশ ও নদীনির্ভর জীবনযাত্রাকে বিপন্ন করে তুলেছে। বিগত কয়েক বছর ধরে খোয়াই ব্রিজের তলায় ও এর আশপাশে বর্জ্য ফেলার কারণে নদীর পানি দুর্গন্ধপূর্ণ হয়ে পড়েছে। শহর সংলগ্ন এলাকায় মাইলের পর মাইল নদীর তীর ও নদী অভ্যন্তরে দখল করে গড়ে উঠেছে ঘরবাড়ী ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। ফলে নদী ও নদীর তীর হুমকির মুখে পড়েছে।

তিনি আরও বলেন, হবিগঞ্জের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র রক্ষায় পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো আন্দোলন ও সচেতনতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে, কিন্তু জেলার জনপ্রতিনিধি, সরকারের কর্তাব্যক্তি ও সচেতন সুধী সমাজ খোয়াই নদী রক্ষায় যথাযথ ভূমিকা পালন না করলে জেলার সার্বিক পরিবেশ-প্রতিবেশ, জনজীবন ও জীববৈচিত্রের উপর যে দীর্ঘস্থায়ী মারাত্মক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি।

আমাদের নিজেদের রক্ষার জন্য খোয়াই নদী রক্ষা করতে না পারলে ভবিষ্যতে এ অঞ্চলে মানবিক বিপর্যয় নেমে আসবে, মন্তব্য তার।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত